স্টাফ রিপোর্টার : বর্ষার শুরু থেকেই এবার স্বরূপে ফিরেছে আষাঢ়। শুরুর দিন (পয়লা আষাঢ়) থেকেই রাজশাহী অঞ্চলে ঝরাচ্ছে বৃষ্টি। কখনো ঝিরঝিরে তো কখনো ভারী বর্ষণ।ফলে বৃষ্টির ছন্দে এবার সাচ্ছন্দে আমন চাষে নেমেছেন রাজশাহীর বরেন্দ্রের কৃষক। তারা বলছেন, দীর্ঘদিন পর এবার স্বরুপে ফিরেছে বর্ষাঋতু।কৃষকরা বলছেন, এবার বর্ষাকালে কাঙ্খিত বৃষ্টি হওয়ায় তারা খুশি। তাই এরইমধ্যে আমনের প্রস্তুতি শুরু হয়েছে এ অঞ্চলে। রোপা আমনের বীজতলা তৈরিতে কর্মব্যস্ত বরেন্দ্রের কষকরা। অনেকে শুরু করেছেন আগাম আমনের রোপন। কৃষি বিভাগ বলছে, এখন আমনের উপযোগী আবহাওয়া বিরাজ করছে। চলতি আষাঢ়ে পর্যাপ্ত বৃষ্টিপাত হয়েছে। তাই বৃষ্টিনির্ভর আমন চালের লক্ষ্যমাত্রা এবার ছাড়িয়ে যাবে বরেন্দ্র অঞ্চলে।
কৃষি বিভাগের কর্মকর্তারা বলছেন, বরেন্দ্র অঞ্চলে আমন ধান চাষ হয়ে থাকে সম্পূর্ণ বৃষ্টির পানির ওপর নির্ভর করে। এর আগের বছরগুলোতে আষাঢ়-শ্রাবণে কাঙ্খিত বৃষ্টি মেলেনি। ঋতুবৈত্র্যিতার কারণে আষাঢ়ে দেখা মিলতো না কাঙ্খিত বৃষ্টির। খরায় চৌচির থাকতো ফসলের মাঠ। তবে দীর্ঘদিন পর এবার আষাঢ় এসেছে বৃষ্টির ছন্দ নিয়ে। তাই এ অঞ্চলের কৃষকদের মধ্যেও ফিরেছে ছন্দ।
জেলার তানোর উপজেলার দেওলা গ্রামের কৃষক এনামুল হক ও কচুয়ার কৃষক জামিলুর রহমান জানান, আষাঢ়-শ্রাবণ মানেই বৃষ্টির ছন্দ। জমিতে আমন রোপনের উৎসব। তবে এমন পরিস্থিতি প্রায় পাল্টে গেছিলো। বেশ কয়েক বছর ধরে এ অঞ্চলে আষাঢ়-শ্রাবণ মাসে কাঙ্খিত বৃষ্টির হয় নি। প্রতিবছরই এই সময়ে বৃষ্টির জন্য ইসতেসকার নামাজ আদায় করতে হয়েছে। তবে এবার পরিস্থিতি পাল্টেছে। এবার এ অঞ্চলে স্বরূপে ফিরেছে বর্ষাকাল। এবার আষাঢ়ের প্রথম দিন থেকেই বৃষ্টি হচ্ছে। ঠিক আষাঢ়ের চরিত্র ফুটে উটেছে এবারের প্রকৃতিতে। তাই এ অঞ্চলের কষকরাও পূর্ণ আস্থা নিয়ে আমন চাষে মাঠে নেমেছেন। এখন বরেন্দ্রের মাঠে একদিকে চলছে আমনের জন্য জমি তৈরি, অন্যদিকে শুরু হয়েছে বীজতলার প্রস্তুতি সঙ্গে আগাম আমনের রোপন। অনেকে আমন চাষের জন্য মাঠও প্রস্তুত করছেন। এবার আমন চাষের যে লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে তা পূরণ হবে বলেই আশা করা হচ্ছে।
কৃষকরা জানিয়েছেন, বর্ষার শুরু থেকে চলছে আমনের বীজতলা তৈরি। মাস খানেকের মধ্যে চারা গাছ সরাসরি লাগানো হবে জমিতে। জেলার পবা উপজেলার কৃষক ইলিয়াস হোসেন বলেন, এবার ১৮ বিঘা জমিতে আমন ধান চাষ করবো। বীজতলা তৈরি শুরু করেছি। এগুলো চারা হতে মাসখানেকের মতো সময় লাগবে। তারপর চারা রোপণ করতে হবে। তিনি মনে করেন এরকম যদি বৃষ্টি হয় তাহলে আমাদের জন্য আশির্বাদ হয়ে থাকবে।
জেলার মোহনপুরের মৌগাছি গ্রামের কৃষক ইকবাল বলেন, এবার বোরো চাষ করে ভালো দাম পাওয়া গেছে। এবার সব জমিতে আমন ধানের চাষ করা হবে। বীজতলা তৈরি করা হচ্ছে। তিনি বলেন, বোরোর চেয়ে আমনে খরচ কম। কারণ আমন চাষে সেচ খরচ লাগে না। বৃষ্টির পানিতেই আমন চাষাবাদ হয়ে যায়।
রাজশাহী কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর জানিয়েছে, রাজশাহী জেলায় এবার ৮৪ হাজার ২৫৫ হেক্টর জমিতে আমন আবাদের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে। তবে আশা করা যাচ্ছে, এবার লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে যেতে পারে।
রাজশাহী কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপ-পরিচালক উম্মে ছালমা বলেন, গেল আমন এবং বোরো মৌসুমে ধানের দাম ভাল পাওয়ায় কৃষক আমন চাষেও আগ্রহী হয়ে উঠেছেন। বৃষ্টির পানিতে এবার রোপা আমনের বীজতলা তৈরি করা হচ্ছে। জমিতে চারাও লাগানো হবে বৃষ্টির পানিতে। বীজতলা শেষ হলে শুরু হবে রোপা আমনের চারা লাগানোর কাজ। এবার শুরু থেকেই পর্যাপ্ত বৃষ্টি হওয়ায় আমরেন চাষাবাদ ও উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে যাবে।