স্টাফ রিপোর্টার : রাজশাহীর বাগমারায় চাঁদা না পেয়ে নারায়ণ ভবানী (৫৫) নামের এক ব্যক্তিকে মারপিটের ঘটনায় অভিযুক্ত তাঁতীদল নেতা নবাব হোসেন বাচ্চুকে (৩০) গ্রেফতার করছে পুলিশ। বুধবার ভোরে অভিযান চালিয়ে নওগাঁর মান্দা এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়। দুপুরে তাকে আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে।
গ্রেফতার নবাব উপজেলার গোবিন্দপাড়া ইউনিয়নের চাঁইসাড়া গ্রামের মুনসুর রহমানের ছেলে ও জাতীয়তাবাদী তাঁতীদলের গোবিন্দপাড়া ইউনিয়ন শাখার যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক। গ্রেফতারে পর তাকে দল থেকে বহিস্কারও করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে এলাকায় বিস্তর চাঁদাবাজির অভিযোগ রয়েছে।
এর আগে গত মঙ্গলবার পাঁচ হাজার টাকা চাঁদা না দেওয়ায় চাঁইসাড়া গ্রামের নারায়ণ ভবানীর ওপর হামলা চালিয়ে আহত করে নবাব। স্থানীয়রা লোকজন পর তাকে আহত অবস্থায় উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে। এ ঘটনায় ওই গ্রামের সংখ্যালঘু পরিবারের সদস্যরা তাঁতীদল নেতাকে গ্রেফতারের দাবিতে থানা চত্ত্বরে অবস্থান নেন। পুলিশের পক্ষে মামলা নিয়ে গ্রেফতারের আশ্বাস দিলে তারা থানা ত্যাগ করেন।
বাগমারা থানার ওসি তৌহিদুল ইসলাম বলেন, ঘটনার পরেই নবাব হোসেন গাঢাকা দেয়। তবে প্রযুক্তির সহায়তায় নওগাঁর মান্দা এলাকার কালীনগর এলাকা থেকে ভোরে আটক করা হয়। তার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজিসহ দাঙ্গা হাঙ্গামার অভিযোগ রয়েছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গোবিন্দপাড়া ইউনিয়নের চাঁইসাড়া গ্রামের বাসিন্দা নারায়ন ভবানী ( নারায়ন চন্দ্র) নামের এক ব্যক্তির কাছ থেকে সপ্তাহ খানেক আগে পাঁচ হাজার টাকা চাঁদা দাবি করে তাঁতীদলের নেতা নবাব। ওই গ্রামে থাকতে হলে টাকা দিতে হবে, না দিলে সমস্যা হবে বলে জানান। তবে তিনি টাকা দিতে অপারগতা জানান। একারনে গতকাল মঙ্গলবার নারায়ন ভবানী গ্রামের এক চালকল থেকে বাড়ি ফিরছিলেন। পথিমধ্যে তাঁতিদলের নেতা নবাব হোসেন গতিরোধ করেন। তাকে কেন পাঁচ হাজার টাকা দেওয়া হয়নি এ নিয়ে কৈফিয়ত চান। এক পর্যায়ে সে (নবাব) ক্ষুব্ধ হয়ে সেখানেই মারপিট করে নারায়ন ভবানীকে আহত অবস্থায় ফেলে চলে যায়। পরে লোকজন উদ্ধার করে স্থানীয় স্বাস্থ্যকমপ্লেক্সে নিয়ে যান। ঘটনাটি জানাজানি হলে গ্রামের হিন্দু সম্প্রদায়ের শতাধিক নারী ও পুরুষ এর প্রতিবাদে ২০ কিলোমিটার দূরে বাগমারা থানায় আসেন। তাঁরা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত, তাঁতিদল নেতাকে গ্রেপ্তার ও নিজেদের নিরাপত্তার দাবি জানান। পুলিশ মামলা গ্রহণ, গ্রেফতার ও নিরাপত্তার আশ্বাস দিলে তাঁরা থানা চত্ত্বর ত্যাগ করেন। রাতে নারায়ণ ভবানী বাদী হয়ে একটি মামলা দায়ের করেন। পরে তাঁকে গ্রেফতার করা হয়।
এলাকাবাসী জানায়, নবাব হোসেন ওরফে বাচ্চু গত বছরের ৫ আগস্টের পর থেকে বেপরোয়া হয়ে উঠে। স্থানীয় হিন্দু পাড়ায় সে প্রভাব বিস্তার করেন। ওই গ্রামের নিপেন্দ্রনাথ মণ্ডল জানান, কিছু দিন আগে তাঁর পুকুর থেকে মাছ মেরে নিয়েছে। যুগেন্দ্রনাথ জানান, তাঁর বাড়ি থেকে ভয় দেখিয়ে ধান নিয়ে গেছে। হিন্দু পাড়ায় দুই হাতে দুই ধারালো অস্ত্র নিয়ে ঘুরে ভীতির সৃষ্টি করে। তবে তার চাঁদা নেওয়ার পরিমাণ কম। সর্বোচ্চ ২০ হাজার টাকা চাঁদা দাবি করেন। তবে পাঁচ-সাত হাজার টাকা দিলেই রক্ষা পাওয়া যায়।
একই গ্রামের যোগেন্দ্রনাথ দাস বলেন, দুই মাস আগে ১০-১২ জন লোক নিয়ে বাড়িতে এসে মব তৈরি করে ১০ হাজার টাকা নিয়ে গেছেন। এরকম শতাধিক অভিযোগ করেন হিন্দুপাড়ার লোকজন।
হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের বাগমারা উপজেলা শাখার সভাপতি বিশ্বনাথ প্রামাণিক বলেন, দ্রুত সময়ে একজন চাঁদাবাজকে গ্রেফতার করাতে আমরা খুশি।
এদিকে নবাব গ্রেফতারের পর তাঁতীদলের বাগমারা উপজেলা শাখার আহ্বায়ক মামুনুর রশিদ মামুন ফেসবুকে এক স্ট্যাটাস দিয়ে বলেন, নবাব হোসেন দলের কেউ নন। তবে তাঁতীদলের কেন্দ্রীয় কমিটির এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, নবাব হোসেন বাচ্চুকে সাময়িক বরখাস্ত করেছে। দলের কেন্দ্রীয় কমিটির আহ্বায়ক আবুল কালাম ও সদস্য সচিব হাজি মজিবুর রহমানের স্বাক্ষর করা চিঠিতে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত জানানো হয়।