স্টাফ রিপোর্টার : রাজশাহীতে নানা কর্মসূচির মধ্য দিয়ে পালিত হলো বিশ্ব জলাতঙ্ক দিবস। ‘জলাতঙ্ক নির্মূলে, কাজ করি সবাই মিলে’ প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে রবিবার সকালে রাজশাহীতে বিভিন্ন কর্মসূচির মধ্য দিয়ে দিবসটি উদযাপন করে জেলা প্রাণিসম্পদ দফতর।
কর্মসূচির মধ্যে ছিল বর্ণাঢ্য র্যালি, আলোচনা সভা এবং বিনামূল্যে কুকুর ও বিড়ালকে টিকা প্রদান। সকাল ১০টায় নগরীর মেট্রো প্রাণিসম্পদ দফতর প্রাঙ্গণ থেকে র্যালিটি বের হয়। র্যালিটি নগরীর প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে। এতে স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থী, খামারি, পশুপ্রেমী, প্রাণী চিকিৎসক ও সাধারণ মানুষ অংশ নেন। হাতে ব্যানার, ফেস্টুন ও প্ল্যাকার্ড নিয়ে অংশগ্রহণকারীরা জলাতঙ্ক প্রতিরোধে সচেতনতা বৃদ্ধির আহ্বান জানান।
পরে প্রাণিসম্পদ দফতরে অনুষ্ঠিত হয় আলোচনা সভা। সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন রাজশাহী জেলার সিভিল সার্জন ডা. এসআইএম রাজিউল করিম। বিশেষ অতিথি ছিলেন, রাজশাহী সিটি করপোরেশনের প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. এফএএম আঞ্জুমান আরা বেগম। প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ভেটেরিনারি অ্যান্ড এনিমেল সায়েন্স বিভাগের প্রফেসর ড. এসএম কামরুজ্জামান। সভায় সভাপতিত্ব করেন জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মো. আতোয়ার রহমান।
আলোচনা সভায় বক্তারা বলেন, জলাতঙ্ক একটি ভয়াবহ ভাইরাসজনিত রোগ, যা সংক্রমিত প্রাণীর কামড়ে বা আঁচড়ে মানুষের শরীরে প্রবেশ করে। বিশ্বে প্রতিবছর গড়ে প্রায় ৫৯ হাজার মানুষ এ রোগে মারা যান। বাংলাদেশেও প্রতিবছর প্রায় দুই হাজার মানুষের মৃত্যু ঘটে জলাতঙ্কে আক্রান্ত হয়ে। তবে সচেতনতা বৃদ্ধি, দ্রুত চিকিৎসা ও নিয়মিত ভ্যাকসিন প্রদানের মাধ্যমে এ রোগ সম্পূর্ণ প্রতিরোধ করা সম্ভব।
প্রধান অতিথি ডা. এসআইএম রাজিউল করিম বলেন, ‘জলাতঙ্ক প্রতিরোধে শুধু সরকারের উদ্যোগ যথেষ্ট নয়, জনগণকে সচেতন হতে হবে। সবাই যদি তাদের পোষা প্রাণীকে নিয়মিত টিকা দেন, তবে খুব সহজেই এ রোগকে নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব।
সভায় জানানো হয়, বাংলাদেশ সরকার ২০৩০ সালের মধ্যে জলাতঙ্কমুক্ত দেশ গড়ার লক্ষ্যে কাজ করছে। এর অংশ হিসেবে সারাদেশে বিনামূল্যে কুকুর ও বিড়ালকে টিকা প্রদানের কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। পরে প্রাণিসম্পদ দফতরের উদ্যোগে শতাধিক কুকুর ও বিড়ালকে বিনামূল্যে জলাতঙ্ক প্রতিরোধী টিকা দেওয়া হয়। পোষা প্রাণীর মালিকরা স্বতঃস্ফূর্তভাবে এ কর্মসূচিতে অংশ নেন।