স্টাফ রিপোর্টার : চলতি বোরো চাষাবাদের ভরা মৌসুমে সার সরবরাহ পায়নি রাজশাহীর ডিলাররা। মাসের এক তৃতীয়াংশ অতিবাহিত হলেও কবে সার সরবরাহ মিলবে তারও কোন নিশ্চয়তা দিতে পারছেন না কর্তৃপক্ষ। আবার গত ফেব্রুয়াবি মাসের বরাদ্দ সার সরবরাহ শেষ করেছে চলতি সপ্তাহে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, সরকারিভাবে বিভিন্ন ফসলের চাষাবাদে প্রতি মাসেই রাজশাহী জেলার দুই’শ ১৯ জন ডিলারের অনুকূলে সার বরাদ্দ দেওয়া হয়ে থাকে। বরাদ্দ সার মাসের প্রথম দিন থেকে শুরু করে শেষ দিনের মধ্যেই উত্তোলন করে কৃষক পর্যায়ে সরবরাহ করে থাকেন ডিলাররা।
তবে চলতি মার্চ মাসের এক তৃতীয় অংশ অতিবাহিত হলেও জেলার কোন ডিলারকে সার সরবরাহ দিতে পারেনি রাজশাহীর বিএডিসি কতৃপক্ষ। ফলে সার সংকটের কারণে বোরোসহ অন্যান্য ফসলের চাষাবাদে ব্যহত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। এদিকে সারের আশার ডিলাররা ব্যাংকে টাকা প্রে-অর্ডার করে ঘুরছে দিনের পর দিন।
চলতি মাসে জেলার ১’শ ৩০ জন বিএডিসি ও ৮৯ জন বিসিআইসি সার ডিলারের অনুকূলে সরকারি ভাবে রাজশাহী গুদাম থেকে ১৮’শ ৪০ মেট্রিক টন ডিএপি সার বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। সার বরাদ্দ দেওয়া হলেও এখনো পর্যন্ত এক বস্তা সারও সরবরাহ দিতে পারেনি বিএডিসি’র গুদাম কতৃপক্ষ। কবে সরবরাহ করা হতে পারে তারও কোন নিশ্চয়তা নেই। জেলার তানোর, গোদাগাড়ী, পবা, মোহনপুর, বাঘা, চারঘাট, বাগমারা, পুঠিয়া, দূর্গাপুর উপজেলার ডিলারদের সাথে কথা বলে এতথ্য নিশ্চিত হওয়া গেছে।
অপরদিকে বিসিআইসি ডিলারদের বেসরকারি ভাবে কিছু সার বরাদ্দ দেওয়া হলেও তা এখনো উত্তোলন করা হয়নি বলে আমদানি কারকসূত্রে জানা গেছে। আবার সার বরাদ্দ নিয়েও রয়েছে বিস্তর অভিযোগ।
সরকার কৃষক পর্যায়ে সঠিক ভাবে সার সরবরাহ নিশ্চিত করার লক্ষ্যে ইউনিয়নে একাধিক বিএডিসির ডিলার নিয়োগ দিলেও তাদের সব ধরনের সার বরাদ্দ দেওয়া হচ্ছে না। ফলে কৃষক পর্যায়ে প্রয়োজনীয় সার পাওয়ার বিষয়টিও এখন অনিশ্চিত। চলতি মাসে বিএডিসির ডিলারদের শুধু ডিএপি সার বরাদ্দ দেওয়া হলেও অন্যান্য সার বরাদ্দ দেওয়া হয়নি। ফলে এদিকেও সৃষ্টি হয়েছে আরেকটা অনিশ্চয়তা।
সবমিলিয়ে দ্রুত সার সরবরাহ করা না হলে চলতি মৌসুমে চাষাবাদ ব্যাহত হওয়ার আশংকা দেখা দিয়েছে।
সার ডিলার অ্যাসোসিয়েশনের সাংগঠনিক সম্পাদক হাবিবুর রহমান জানান, সার গোডাউনে পৌঁছে দিতে সরকারের সঙ্গে বস্তাপ্রতি ৪২ টাকায় চুক্তি হয় ঠিকাদারদের। কিন্তু যশোরের নোয়াপাড়া থেকে ৫৮ টাকার কমে এখন আসতে চাচ্ছেন না। এ কারণে সরবরাহ চেইনে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হচ্ছে; যার প্রভাব পড়ছে সার সরবরাহে।
রাজশাহী বিএডিসির গুদাম ইনচার্জ আশরাফুল ইসলাম জানান, ডিলাররা যাতে দ্রুত সময়ে সার সরবরাহ পান, সেজন্য কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। কিন্তু সরকারিভাবে সরবরাহ না পেলে তাঁর কিছু করার নেই।
রাজশাহী কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক উম্মে ছালমা জানান, বেসরকারি পর্যায়ে বরাদ্দের সার উত্তোলন চলছে। বিএডিসির সার সরবরাহ প্রক্রিয়াধীন। এ বিষয়ে তাঁরা (বিএডিসি) ভালো বলতে পারবেন। তবে সারের কোনো সংকট নেই, পর্যাপ্ত মজুত আছে বলে দাবি করেন তিনি।