১ কার্তিক, ১৪৩৩
১৬ অক্টোবর, ২০২৬

বরেন্দ্রের ১৫ হাজার গভীর নলকূপ সৌরচালিত করার পরিকল্পনা

Admin Published: September 30, 2026, 5:24 pm
বরেন্দ্রের ১৫ হাজার গভীর নলকূপ সৌরচালিত করার পরিকল্পনা

স্টাফ রিপোর্টার: বরেন্দ্র অঞ্চলের সেচ ব্যবস্থাকে আধুনিক, টেকসই ও পরিবেশবান্ধব করতে বরেন্দ্র বহুমুখী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিএমডিএ) আওতাধীন প্রায় ১৫ হাজার গভীর নলকূপ পর্যায়ক্রমে সৌরবিদ্যুৎচালিত পাম্পে রূপান্তরের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সম্প্রতি কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় এ তথ্য জানিয়েছেন বিএমডিএ’র চেয়ারম্যান কৃষিবিদ মো. হাসান জাফির তুহিন।

চেয়ারম্যান বলেন, সৌরচালিত গভীর নলকূপ চালু হলে প্রতিষ্ঠানের বিদ্যুৎ ও পরিচালনা ব্যয় কমবে। পাশাপাশি উৎপাদিত অতিরিক্ত বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করা সম্ভব হবে। এতে বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের পাশাপাশি উৎপাদনেও ভূমিকা রাখা যাবে। একই সঙ্গে সৌরশক্তিনির্ভর সেচ ব্যবস্থা চালু হলে কৃষকের সেচ ব্যয় কমবে, সময়মতো সেচ নিশ্চিত হবে এবং কৃষি উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার ঝুঁকি কমবে।

তিনি বলেন, বরেন্দ্র অঞ্চলের প্রতিটি এলাকার কৃষক বিএমডিএর কাজের কেন্দ্রবিন্দু। কোনো এলাকায় জমি অনাবাদি থাকবে, আবার অন্য এলাকায় বেশি সুযোগ-সুবিধা থাকবে—এ ধরনের বৈষম্য কাম্য নয়। প্রয়োজন ও অগ্রাধিকার বিবেচনায় বরেন্দ্র অঞ্চলের ১৬টি জেলায় ছোট ছোট প্রকল্প গ্রহণ করতে হবে। এতে উন্নয়নের সুফল সব এলাকার মানুষ সমানভাবে পাওয়ার সুযোগ তৈরি হবে।

কৃষি, সেচ, পানি ব্যবস্থাপনা ও সৌরবিদ্যুতের সমন্বিত উন্নয়নের ওপর গুরুত্ব দিয়ে তিনি বলেন, প্রকল্প গ্রহণের আগে স্থানীয় কৃষক ও জনগণের সমস্যা ও প্রয়োজন জানতে হবে। বাস্তব চাহিদার ভিত্তিতে প্রকল্প নেওয়া হলে সীমিত সম্পদের সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।

হাসান জাফির তুহিন আরো জানান, বরেন্দ্র অঞ্চলের বিভিন্ন উন্নয়ন পরিকল্পনার মধ্যে ছোট আকারের প্রকল্পগুলো ইতোমধ্যে সরকারের সবুজ পাতায় স্থান পেয়েছে। পাশাপাশি মহানন্দা নদীকে ঘিরে একটি প্রকল্প অনুমোদন হয়েছে। বরেন্দ্র মেগা প্রকল্পের কাজের ফাইলও এগিয়ে চলছে।

একই সভায় বিএমডিএর নির্বাহী পরিচালক মো. জাহাঙ্গীর আলম খান বলেন, বরেন্দ্র অঞ্চলের কোনো জমি যেন পানির অভাবে অনাবাদি না থাকে, সে বিষয়ে মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তাদের আরও দায়িত্বশীল হতে হবে। বিএমডিএর কমান্ড এলাকার যেসব গভীর নলকূপ বিভিন্ন সমস্যার কারণে বন্ধ রয়েছে, সেগুলোর সমস্যা চিহ্নিত করে দ্রুত সমাধান করতে হবে।

তিনি বলেন, প্রয়োজনে সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলী ও মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তাদের সরেজমিনে পরিদর্শন করে ব্যবস্থা নিতে হবে। আসন্ন সেচ মৌসুম শুরুর আগেই বন্ধ গভীর নলকূপগুলো সচল করতে হবে। পাশাপাশি পানি ও জ্বালানির অপচয় রোধ করে আধুনিক সেচ ব্যবস্থাপনা গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।