স্টাফ রিপোর্টার : চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলার কালিনগর উচ্চ বিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেণির এক শিক্ষার্থীকে শ্রেণিকক্ষে মারধর ও শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করার অভিযোগ উঠেছে সহকারী শিক্ষক মো. মতিউর রহমানের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় শিক্ষার্থীর অভিভাবক উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগ করেছেন। এতে তিনি নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন। মারধরের শিকার শিক্ষার্থীর নাম আরাফাত রহমান। বর্তমানে সে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের নিউরো মেডিসিন বিভাগে চিকিৎসাধিন।
ইউএনও বরাবর দেওয়া অভিযোগ সূত্রে জানাযায়, আরাফাত রহমান অষ্টম শ্রেণির ‘ক’ শাখার শিক্ষার্থী। গত ১৭ সেপ্টেম্বর সকালে বাসা থেকে পাউরুটি খেয়ে সে বিদ্যালয়ে যায়। সকালে বৃষ্টির কারণে ক্লাস শেষে পানি পান করতে বাইরে যায়।
আরাফাতের মা ইলমা জাহান জানান, আগেও শিক্ষার্থীদের জানানো হয়েছিল—শ্রেণিকক্ষে প্রবেশের পর কোনো শিক্ষার্থী বাইরে গেলে তাকে শাস্তি হিসেবে এক ঘণ্টা দাঁড়িয়ে থাকতে হবে। এ কারণে তার ছেলে শিক্ষক দেখে দৌড়ে শ্রেণিকক্ষে নিজের জায়গায় বসতে যাচ্ছিল। এ সময় আশপাশ থেকে কেউ ‘বাংলার খ্যাপা’ শব্দটি উচ্চারণ করে। শব্দটি কাকে উদ্দেশ্য করে বলা হয়েছিল, তা তার ছেলে জানত না। এমনকি কোনো ব্যক্তির নামও উল্লেখ করা হয়নি। এরপর ওই শব্দকে কেন্দ্র করে শিক্ষক তার ছেলেকে পেছন থেকে ধরে শ্রেণিকক্ষে নিয়ে মারধর করেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
অভিভাবকের অভিযোগ, শিক্ষার্থীকে চুল ধরে দেয়ালের সঙ্গে আঘাত করা এবং বুক, পিঠ ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে মারধর করা হয়। তাকে রক্ষা করতে কয়েকজন শিক্ষার্থী এগিয়ে এলে তাদের সরিয়ে দিয়েও মারধর অব্যাহত রাখা হয়। একপর্যায়ে আরাফাত মাটিতে পড়ে অচেতন হয়ে যায়।
প্রত্যক্ষদর্শীদের কাছ থেকে বিষয়টি জানতে পেরে অভিভাবক অভিযোগ করেন, অচেতন অবস্থাতেও তাকে কলার ধরে টেনে-হিঁচড়ে শ্রেণিকক্ষের বারান্দায় নেওয়া হয় এবং সেখানে তার বুকে লাথি মারা হয়।
এ অবস্থায় শিক্ষার্থীর অভিভাবক ঘটনার নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু তদন্তের দাবি জানিয়েছেন। একই সঙ্গে ঘটনার সময় শ্রেণিকক্ষে উপস্থিত শিক্ষার্থী ও অন্যান্য প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্য গ্রহণের অনুরোধ করা হয়েছে। এছাড়া বিদ্যালয়ে সিসিটিভি ক্যামেরা থাকলে ঘটনার ফুটেজ সংরক্ষণ ও পর্যালোচনার মাধ্যমে সত্যতা যাচাইয়ের দাবি জানানো হয়েছে। পাশাপাশি শিক্ষার্থী আরাফাত রহমানের শারীরিক আঘাত প্রয়োজনীয় চিকিৎসা পরীক্ষা ও চিকিৎসা-সংক্রান্ত প্রতিবেদন দিয়ে যাচাই করার অনুরোধ করা হয়েছে।
এ বিষয়ে যোগাযোগ করা হলে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক হাবিবুর রহমান মোবাইল ফোন রিসিভ করেন নি।