৩ কার্তিক, ১৪৩৩
১৮ অক্টোবর, ২০২৬

চারঘাট-বাঘায় সক্রিয় মাদক সিন্ডিকেট

Admin Published: November 18, 2024, 2:09 pm
চারঘাট-বাঘায় সক্রিয় মাদক সিন্ডিকেট

চারঘাট প্রতিনিধি : ৫ আগষ্ট সরকার পতনের পর রাজশাহীর চারঘাট-বাঘার মাদক ব্যবসায়ীরা হয়ে উঠেছে বেপরোয়া। কৌশল পরিবর্তন করে চালিয়ে যাচ্ছে মাদকের রমরমা বানিজ্য। আর এসব মাদক ব্যবসায়ীদেরকে সহযোগীতা করছেন প্রশাসনের কতিপয় অফিসারদের সঙ্গে সখ্যতা থাকা এক শ্রেণীর দালাল। এই সব দালাল মাদক ব্যবসায়ীদের দিচ্ছেন অভয়। ফলে বন্ধ হচ্ছে না মাদকের বানিজ্য। 

সংশ্লিষ্ট সুত্রে জানা যায়, রাজশাহীর চারঘাট ও বাঘা উপজেলা এখন মাদকের রাজ্য। এ দুই উপজেলার প্রায় শতাধিক মাদক ব্যবসায়ী গডফাদার রয়েছেন সক্রিয়। নিজেরা নিরাপদ আস্থানায় বসে তাদের নিয়োগকৃতদের কর্মীবাহীনি দিয়ে চালিয়ে যাচ্ছেন তাদের অবৈধ মাদক কারবার। নিজেদের বড় শক্তিধর হিসেবে বিভিন্ন এলাকায় গড়ে তুলেছে লাঠিয়াল বাহিনী। কেউ এসব মাদক কারবারীর বিরুদ্ধে কথা বললেই তাদের গড়ে তোলা বাহিনী হয়ে উঠে মুর্তিমান লাঠিয়াল। বিভিন্ন সময় আইন প্রয়োগকারী সংস্থার অভিযানে নিয়োগকৃত কর্মীরা আটক হলেও বরাবরই ধরা ছোয়ার বাইরে থেকে যাচ্ছে মাদক ব্যবসায়ী গডফাদাররা। এতে প্রশাসনের শত চেষ্টার পরেও বন্ধ হয়নি চারঘাট-বাঘায় মাদক কারবারী। সরজমিন চারঘাট-বাঘার বিভিন্ন মাদক প্রবন এলাকা ঘুরে জানাগেছে এমন চিত্র। 

জানা যায়, চারঘাট-বাঘা সীমান্তবর্তী উপজেলা হওয়ায় এখানে মাদকসহ বিভিন্ন ধরণের অবৈধ কর্মকান্ড অন্য উপজেলার থেকে অনেক বেশী। তাই সারা দেশের মাদকের সঙ্গে জড়িতদের কাছে এ দুটি উপজেলার পরিচিতি ব্যাপক ভাবে। ফলে মাদক রাজ্যের রাজধানী হিসেবে পরিচিতি লাভ করেছে এ দুটি উপজেলা।

সীমান্তবর্তী এলাকার নাম প্রকাশে একাধিক ব্যাক্তি জানান, গত ৫ আগষ্ট শেখ হাসিনা সরকারের পতন হওয়ার পর থেকে পুলিশ বাহিনী অনেকটা নিস্কৃয় হয়ে পড়েন। আর পুলিশের নিস্কৃয়তার সুযোগে এক শ্রেণীর মাদক ব্যবসায়ী গডফাদারররা হয়ে উঠেন বেপরোয়া। এলাকার পাতি নেতাদের আশ্রয়দাতা হিসেবে মাথার মুকুট করে বেপরোয়া ভাবে চালায় মাদক ব্যবসা। এসব মাদক ব্যবসায়ীর পেছনের শক্তিধরদের চিহিৃত করে আইনের কঠোর ব্যবস্থা না নিলে মাদক বন্ধ করা কঠিন বলে মনে করেন সীমান্তবর্তী এলাকার একাধিক ব্যাক্তি।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক ব্যাক্তি জানান, সরকারের পট পরিবর্তনের পর সীমান্তে দৌরাত্ত্ব বেড়েছে এক সময় মাদকের গডফাদার হিসেবে পরিচিত তারা এখন পাতি নেতা সেজে হয়ে উঠেছেন মাদকের মাতবর। কতিপয় প্রশানের সদস্যদের সঙ্গে সখ্যতা গড়ে তারা মাদক ব্যবসায়ীদের কাছে হয়ে উঠেছেন আশ্রয়দাতা। তারা মুলত মাদক ব্যবসায়ী গডফাদারকে কাছ থেকে মোটা অংকের চাদা তুলছেন বলে চাউড় রয়েছে। মাদক ব্যবসায়ী ছাড়াও এসব পাতি নেতাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন এলাকার সচেতন মহল। 

সরজমিন চারঘাট-বাঘার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে জানা যায়, চারঘাট উপজেলার রাওথা, পিরোজপুর, গোপালপুর, মোক্তারপুর, গৌরশহড়পুর, ইউসুফপুর, টাঙ্গন, শলুয়ার হলিাদাগাছী ষ্ট্রেশন, নন্দনগাছী ষ্ট্রেশন, পুঠিয়ামারী এলাকা মাদকস্পট হিসেবে পরিচিত। এছাড়াও বাঘা উপজেলার মীরগঞ্জ পালপাড়া, ভানুকর, হাবিবুরের মোড়,আতারপাড়া, বারশিপাড়া, হরিরামপুর, আলাইপুর, কেশরপুর, পানিকামরা উল্লেখ যোগ্য মাদক স্পট। 

মাদকস্পট হিসেবে পরিচিত এলাকার নাম প্রকাশে একাধিক ব্যক্তি জানান,এসব মাদকস্পট গুলো কয়েকটি সিন্ডিকেট নিয়ন্ত্রন করে। আর এসব সিন্ডিকেটের সদস্যদের রয়েছে লাঠিয়াল বাহিনী। তারা মুলত প্রশাসনকে পাহারা দিয়ে মাদক পাচারে ব্যাপক ভুমিকা পালন করেন। এসব মাদক ব্যবসায়ী গডফাদারা নিজেদের বড় শক্তিধর মনে করেন। যার প্রমান গত ৯ সেপ্টেম্বর চিহিৃত মাদক ব্যবসায়ী বারশত দিয়ার গ্রামের আরমান আলীর ছেলে রানার বাড়ীতে মাদক বিরোধী অভিযান পরিচালনা করেন র‌্যাপিড এ্যাকশান ব্যাটালিয়ন র‌্যাব-৫ এর একটি দল। এসময় মাদককারবারী রানার পক্ষ নিয়ে একদল মাদক কারবারী র‌্যাবের উপর আক্রমন চালায় এবং হামলা করে র‌্যাবের ৪ সদস্যকে আহত করে। এর মুল নেতৃত্বে ছিলেন একাধিক মাদক মামলার আসামী মাদক ব্যবসায়ী গডফাদার আলাইপুর এলাকার মাদক সম্রাট চপল আলী। এই চপল আলী মাদক ব্যবসায়ী রানার আপন দুলাভাই। আলাইপুর এলাকায় মাদক সম্রাট চপলের রয়েছে একটি শক্তিশালী লাঠিয়াল বাহিনী। ৯ সেপ্টেম্বর বারশত দিয়ার গ্রামের র‌্যাবের উপর হামলার সময় এই চপল তার লাঠিয়াল বাহিনী এনেই র‌্যাবকে আক্রমন করে বলে জানা যায়।  

এ বিষয়ে চারঘাট-বাঘার সার্কেল সহকারী পুলিশ সুপার প্রনব কুমার বলেন, ৫ আগষ্ট এর পর পুলিশ বাহিনীতের একটু ছন্দপতন হয়েছিল কথাটি সঠিক। আর এই সযোগে কিছু মাদক ব্যবসায়ী সুযোগ নিয়ে অপকর্মে জড়িয়ে পড়েছে।  তবে পুলিশ এখন আগের চেয়ে অনেক সক্রিয়। যার প্রমান গত কয়েকদিন আগে বিপুল পরিমানের ফেন্সিডিল, গাজা চারঘাটে আটক করতে সক্ষম হয়েছে পুলিশ। মাদকের সঙ্গে কোন আপোষ নেই। মাদকের বিরুদ্ধে পুলিশের জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরন করা হচ্ছে দাবি করে প্রনব বলেন, এখানে লাঠিয়াল বাহিনী হোক গডফাদার সিন্ডিকেট হোক আর পাতি তো হোক মাদকের সঙ্গে যাদেরই সমপৃক্ততা পাওয়া যাবে তাদের চিহিৃত করে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।