ডিএনএন ডেস্ক: চোট কাটিয়ে মাঠে ফিরেই ম্যাচের নায়ক নেইমার! বদলি হিসেবে নেমে শেষ দিকে পেনাল্টি থেকে দুই গোল করে সান্তোসকে হার থেকে বাঁচিয়েছেন ব্রাজিলিয়ান তারকা। তাঁর জোড়া গোলে ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে থেকেও জয় পায়নি ফ্ল্যামেঙ্গো। সান্তোসের ঘরের মাঠ ভিলা বেলমিরোয় ম্যাচটি শেষ হয়েছে ২-২ সমতায়।
ডান উরুর চোটের কারণে গত ২ সেপ্টেম্বরের পর আর মাঠে নামেননি নেইমার। ফেরার ম্যাচে শুরুর একাদশেও জায়গা হয়নি তাঁর। দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতে ফিলিপে কুতিনিওর বদলি হিসেবে মাঠে নামেন ৩৪ বছর বয়সী এই ফরোয়ার্ড। তখন দুই গোলে এগিয়ে ফ্ল্যামেঙ্গো। কিন্তু শেষ পর্যন্ত সেই ব্যবধান ধরে রাখতে পারেনি ব্রাজিলের শীর্ষ ক্লাবটি।
প্রথমার্ধে ফ্ল্যামেঙ্গোকে এগিয়ে দেন দানিলো। বিরতির ঠিক আগে লুকাস পাকেতা ব্যবধান দ্বিগুণ করেন। দুই গোলের লিড নিয়ে দ্বিতীয়ার্ধ শুরু করা ফ্ল্যামেঙ্গোর সামনে তখন জয় ধরে রাখার চ্যালেঞ্জ। অন্যদিকে গোলের খোঁজে আক্রমণ বাড়ালেও সান্তোসের জন্য ম্যাচে ফেরা সহজ হচ্ছিল না।
‘চোট থেকে ফেরায় (ডান পায়ে) দূরপাল্লার পাস দেওয়ার ঝুঁকি নিতে চাইনি। দারুণ ফল। দুই দলের জন্যই ম্যাচটা দারুণ ছিল, শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত একে অপরকে আক্রমণ করে গেছে। আমার মনে হয় ব্রাজিলে এ দুটো দলই সেরা।’
ম্যাচের মোড় ঘুরে যায় দ্বিতীয়ার্ধের শেষ দিকে। ফ্ল্যামেঙ্গোর জর্জিনিও নিজেদের বক্সে হাত দিয়ে বল ঠেকালে প্রথমে ফাউল দেন রেফারি। পরে ভিডিও সহকারী রেফারির (ভিএআর) পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত বদলে পেনাল্টি দেওয়া হয়। জর্জিনিওকে দেখানো হয় লাল কার্ডও।
সিদ্ধান্ত নিতে রেফারির সময় লাগে প্রায় ১০ মিনিট। ব্রাজিলিয়ান সিরি আতে ২০১৯ সালে ভিএআর চালুর পর এটিই সবচেয়ে দীর্ঘ পর্যালোচনায় খেলা বন্ধ থাকার ঘটনা। মোট ৯ মিনিট ৫৬ সেকেন্ড লাগে এই সিদ্ধান্ত নিতে।
এরপর স্পটকিক নিতে এগিয়ে আসেন নেইমার। তাঁর নিখুঁত শটে ব্যবধান কমায় সান্তোস। গোলের চার মিনিটের মধ্যেই আবার পেনাল্টি পায় স্বাগতিকেরা। এবার বক্সে গ্যাব্রিয়েল বারবোসাকে ফাউল করেন লুইস আরাউহো। দ্বিতীয়বারও পেনাল্টি থেকে গোল করেন নেইমার। তাতেই ২-২ সমতা।
চোট থেকে ফিরলেও ম্যাচজুড়ে ডান পা ব্যবহারে সতর্ক ছিলেন নেইমার। দূরপাল্লার পাসের ঝুঁকি নেননি। কর্নার ও ফ্রি-কিকেও ডান পা এড়িয়ে চলেছেন। তবে দুই পেনাল্টি নিতে সেই পা ব্যবহার করতেই দ্বিধা করেননি। ম্যাচ শেষে তিনি বলেন, ‘চোট থেকে ফেরায় (ডান পায়ে) দূরপাল্লার পাস দেওয়ার ঝুঁকি নিতে চাইনি।’
ম্যাচের পারফরম্যান্স নিয়ে নেইমারের মূল্যায়ন, ‘দারুণ ফল। দুই দলের জন্যই ম্যাচটা দারুণ ছিল, শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত একে অপরকে আক্রমণ করে গেছে। আমার মনে হয় ব্রাজিলে এ দুটো দলই সেরা।’
এই ড্রয়ে থেমেছে দুই দলের টানা জয়ের ধারাও। সান্তোস আগের সাত ম্যাচে জিতেছিল, আর ফ্ল্যামেঙ্গো টানা পাঁচ জয়ের পর মাঠে নেমেছিল। তবে পয়েন্ট ভাগ হলেও দুই দলের লক্ষ্য আলাদা। ফ্ল্যামেঙ্গো শীর্ষস্থান ধরে রাখার লড়াইয়ে, আর সান্তোসের চোখ আগামী মৌসুমে কোপা লিবার্তোদোরেসে জায়গা করে নেওয়ার দিকে।