স্টাফ রিপোর্টার: রাজশাহীর দুর্গাপুরে বিএনপির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর প্রস্তুতি সভায় হামলার ঘটনায় জড়িত একই দলের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে কঠোর সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানানো হয়েছে। হামলায় আহত উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব অধ্যাপক জোবায়েদ হোসেন সংবাদ সম্মেলনে এ দাবি করেন।
মঙ্গলবার (২ সেপ্টেম্বর) দুপুরে রাজশাহী প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। এতে জোবায়েদ হোসেন বলেন, বিএনপির ৪৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে দুর্গাপুর উপজেলা ও পৌর বিএনপির যৌথ উদ্যোগে প্রস্তুতি সভার আয়োজন করা হয়। সভায় অঙ্গসংগঠনের নেতৃবৃন্দকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। সভা শুরু হওয়ার আগে হঠাৎ মনোনয়ন প্রত্যাশী ইশফা খায়রুল হক শিমুল উপস্থিত হন। তাকে যথাযথ সম্মান দিয়ে সৌজন্য বক্তব্যের সুযোগ দেওয়া হয় এবং বক্তব্য শেষ করে তিনি চলে যান। এরপর সভাস্থলে উত্তেজনা শুরু হয়।
জোবায়েদ হোসেন অভিযোগ করেন, স্বেচ্ছাসেবক দলের পৌর আহ্বায়ক গোলাম মোস্তফা সভার ভেন্যু নিয়ে আপত্তি জানিয়ে বাগবিতণ্ডা শুরু করেন। এর পরপরই সোহেলসহ কয়েকজন বাইরে চলে যান। কিছুক্ষণ পর তারা লোহার রড, হাতুড়ি ও চেয়ার নিয়ে পুনরায় কক্ষে প্রবেশ করে ভাঙচুর শুরু করে এবং স্টেজের নেতাদের উপর হামলা চালায়।
জোবায়েদ হোসেন বলেন, রিদয়, মনিরুল, রেন্টু, মোস্তফা, মিলন, আবদুল্লাহ, রাকিব, বাতেন, ফারুকসহ ১০-১৫ জন আমাকে এলোপাতাড়ি আঘাত করে। আমার মাথায় গুরুতর জখম হয়, প্রচুর রক্তক্ষরণ হয় এবং আমি প্রায় অজ্ঞান হয়ে পড়ি। পরে আমাকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে আমার মাথায় সাতটি সেলাই দেওয়া হয়।
সংবাদ সম্মেলনে তিনি অভিযোগ করে বলেন, এই হামলা ছিল সম্পূর্ণ পরিকল্পিত। উদ্দেশ্য ছিল আমাকে হত্যা করা এবং বিএনপিকে অস্থিতিশীল সংগঠন হিসেবে প্রমাণ করা। আগামী দিনে যেন বিএনপিকে উগ্রবাদী সংগঠন হিসেবে প্রচার করা যায়, সেজন্যই এ হামলা চালানো হয়েছে।
তিনি কেন্দ্রিয় বিএনপির প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, আমি শুধু প্রতিবাদ জানাচ্ছি না, বরং অনুরোধ করছি যেন এ ধরনের নৃশংসতার বিরুদ্ধে কঠোর সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়। যাতে আর কেউ বিএনপিকে কলঙ্কিত করার সাহস না পায়।
জোবায়েদ হোসেন জানিয়েছেন, হামলাকারীদের বিরুদ্ধে তিনি আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিল করবেন এবং সাংগঠনিকভাবে তাদের বহিষ্কারের দাবি জানাবেন।
দুর্গাপুর পৌর বিএনপির আহ্বায়ক অধ্যাপক হাসানুজ্জামান লাল্টু বলেন, দুর্গাপুর বিএনপির অভ্যন্তরীণ কোন্দল দীর্ঘদিনের, বিশেষ করে জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে দলীয় মনোনয়নকে ঘিরে প্রতিদ্বন্দ্বিতা তীব্র হচ্ছে। তিনি মনে বলেন, এখন থেকেই ক্ষমতার সমীকরণে প্রভাব বিস্তার করতে নেতাদের মধ্যে প্রতিযোগিতা শুরু হয়েছে। এর ফলেই এ ধরনের সহিংসতার ঘটনা ঘটছে।