৪ কার্তিক, ১৪৩৩
১৯ অক্টোবর, ২০২৬

দুর্গাপুরে ওসির চেষ্টায় মানসিক ভারসাম্যহীন কিশোরকে খুঁজে পেল পরিবার

Admin Published: April 20, 2025, 5:39 pm
দুর্গাপুরে ওসির চেষ্টায় মানসিক ভারসাম্যহীন কিশোরকে খুঁজে পেল পরিবার

স্টাফ রিপোর্টার : রাজশাহী মহানগরীতে ডাক্তার দেখাতে এসে নিখোঁজ হয় মানসিক ভারসাম্যহীন এক কিশোর। ঘুরতে ঘুরতে সে চলে যায় জেলার দুর্গাপুরে। মানসিক ভারসাম্যহীন ওই কিশোর শুধু নিজের নাম ছাড়া কিছুই বলতে পারতো না।

এ অবস্থায় স্থানীয়দের সহযোগিতায় দুর্গাপুর থানার ওসি উদ্ধার করেন ওই কিশোরকে। এরপর নেওয়া হয় পুলিশ হেফাজতে। মানসিক ভারসাম্যহীন ওই কিশোরের পরিবারের সন্ধান পেতে ওসি দুরুল হোদা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমসহ সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের সহযোগিতা চান। অবশেষে পরিবারের সন্ধান মিলে। রবিবার সকালে ওসি দুরুল হোদা ওই কিশোরের পরিচয় নিশ্চিতের পরে তার মায়ের হাতে তুলে দেন। পরে জানা যায় ওই কিশোরের নাম ইউসুফ (১৮)। তার মায়ের নাম বিউটি বেগম। বাড়ি কুষ্টিয়ার কুমারখালি এলাকায়।  

দুর্গাপুর থানার ওসি জানান, গত শনিবার দিবাগত রাত সাড়ে এগারোটার দিকে তার কাছে একটি ফোনকল আসে। তাকে জানানো হয়, একজন মানসিক ভারসাম্যহীন কিশোরকে এলাকায় ঘুরতে দেখে লোকজন তাকে আটকে রেখেছে। এ ঘটনায় তাৎক্ষনিক ওই কিশোরকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসা হয়। তাকে প্রাথমিক চিকিৎসার ব্যবস্থাও করা হয়।

এরপর মানসিক ভারসাম্যহীন ওই কিশোরের পরিবারের সন্ধান পেতে সামাজিক যোগযোগ মাধ্যমে সহযোগীতা চাওয়া হয়। পরে জানা যায় তার বাড়ি কুষ্টিয়ায়। তথ্যের সূত্র ধরে রাতেই কুষ্টিয়া জেলার বিভিন্ন থানায় যোগাযোগ করে ছবি পাঠিয়ে ও তার নাম পরিচয় নিশ্চিত করতে কাজ শুরু করে থানা পুলিশ। অবশেষে তাকে কুষ্টিয়ার কুমারখালী থানা থেকে পরিচয় নিশ্চিত করা হয়। পুলিশ জানায়, সংশ্লিষ্ট থানার সঙ্গে যোগাযোগ ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তার ছবি পোস্ট দেওয়ার পর পরিবারের সন্ধান নিশ্চিত হওয়ার পর তাকে হস্তান্তর করা হয়।

ইউসুফের মা বিউটি বেগম জানান, তার ছেলে মানসিক ভারসাম্যহীন। তাকে রাজশাহীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসকের কাছে নিয়ে আসেন। সেখানে নাস্তা করার সময় লক্ষীপুর মোড় থেকে নিখোঁজ হয় সে। 

তিনি জানান, ছেলেকে ফিরে পেয়ে আমি অনেকব  খুঁশি। তিনি দুর্গাপুর থানা পুলিশ ও সোস্যাল এক্টিভিটিদের প্রতিও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। 

দুর্গাপুর থানার ওসি দুরুল হোদা বলেন, মানসিক ভারসাম্যহীন কিশোরকে তাকে উদ্ধারের পর তার পরিচয় ঠিকানা কিছুই বলতে পারেনি। পরে তার পরিচয় নিশ্চিত হয়ে তার মায়ের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, সব মায়ের কাছে তার সন্তান অমূল্য সম্পদ। পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দিতে পেরে তিনিও আনন্দ প্রকাশ করেন।