স্টাফ রিপোর্টার, বাঘা: রাজশাহীর বাঘা উপজেলায় প্রশাসনের গুরুত্বপূর্ণ একাধিক পদে দীর্ঘদিন ধরে শূন্যতা থাকায় একই কর্মকর্তার কাঁধে এসে জমা হয়েছে পাঁচটি দপ্তরের দায়িত্ব। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শাম্মী আক্তার বর্তমানে ইউএনওর নিয়মিত দায়িত্বের পাশাপাশি উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান, বাঘা পৌরসভার প্রশাসক এবং উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। সম্প্রতি আড়ানী পৌরসভার প্রশাসকের দায়িত্বও তার ওপর অর্পন করা হয়েছে। এ ছাড়াও একই সঙ্গে বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সভাপতির দায়িত্বও সামলাচ্ছেন তিনি ।
স্থানীয়দের প্রশ্ন, একজন সরকারি কর্মকর্তার পক্ষে এতগুলো গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক ও প্রাতিষ্ঠানিক দায়িত্ব কার্যকরভাবে পালন করা কতটা সম্ভব ? তাদের আশঙ্কা, প্রশাসনিক দায়িত্বের এই কেন্দ্রীভবনের প্রভাব পড়তে পারে জনসেবার মান ও গতি উভয়ের ওপর। এর ফলে ভাবমুর্তি ক্ষুন্য হবে সরকারের ।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) পদটি শূন্য হয়ে যাওয়ায় অতিরিক্ত দায়িত্ব হিসেবে ওই দপ্তরের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে ইউএনওকে। এর আগে সহকারী কমিশনার (ভূমি) উপজেলার আড়ানী পৌরসভার প্রশাসকের দায়িত্ব পালন করতেন। তিনি কর্মস্থল ত্যাগ করায় সেই দায়িত্বও এখন ইউএনওর ওপর ন্যস্ত হয়েছে। ফলে বর্তমানে উপজেলা প্রশাসন, উপজেলা পরিষদ, ভূমি অফিস এবং বাঘা ও আড়ানী এই দুটি পৌরসভার প্রশাসনিক কার্যক্রমের দায়িত্ব একই ব্যক্তিকে সামলাতে হচ্ছে। লোকজনের দাবি, বাঘার দুই পৌর সভায় অতিসত্বর নির্বাচন অথবা অন্য কাউকে প্রশাসক নিয়োগ করা হোক।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, ভূমি অফিসে নামজারি, খারিজ, শুনানি, ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা, পৌরসভার নাগরিক সেবা, উন্নয়ন প্রকল্প তদারকি এবং উপজেলা প্রশাসনের নিত্যকার কার্যক্রম-সবকিছুই একজন কর্মকর্তার তত্ত্বাবধানে থাকায় অনেক ক্ষেত্রে সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও সেবা প্রদান প্রক্রিয়া বিলম্বিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
বাঘার কয়েকজন সচেতন নাগরিক বলেন, প্রশাসনের শীর্ষ পর্যায়ের একজন কর্মকর্তার ওপর এত বেশি দায়িত্ব চাপিয়ে দিলে তিনি সবখানে সমান সময় দিতে পারবেন না-এটাই স্বাভাবিক। এতে সাধারণ মানুষের সেবা পাওয়ার ক্ষেত্রে জটিলতা তৈরি হতে পারে। বিশেষ করে ভূমি ও পৌরসভার সেবাগ্রহীতারা বেশি ভোগান্তিতে পড়তে পারেন বলে তারা মনে করেন। তবে প্রশাসনের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, জনবল সংকটের কারণে সাময়িকভাবে অতিরিক্ত দায়িত্ব বণ্টন করা হয়েছে। নতুন কর্মকর্তা যোগদান করলে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে।
সুশাসন নিয়ে কাজ করা স্থানীয় কয়েকজন ব্যক্তি মনে করেন, প্রশাসনিক কার্যক্রমের স্বচ্ছতা, জবাবদিহি ও সেবার মান নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ পদগুলো দীর্ঘদিন শূন্য রাখা উচিত নয়। তারা দ্রুত শূন্য পদগুলোতে কর্মকর্তা নিয়োগের দাবি জানিয়েছেন।
স্থানীয়দের ভাষ্য, একজন কর্মকর্তার দক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন না থাকলেও বাস্তবতা হলো—একসঙ্গে এতগুলো গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে কোনো না কোনো ক্ষেত্রে সেবার মান ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার ঝুঁকি থেকেই যায়। তাই জনস্বার্থে দ্রুত প্রশাসনিক শূন্যতা পূরণ করা জরুরি ।