স্টাফ রিপোর্টার,বাঘা : রাজশাহীর বাঘা পৌরসভার প্রকৌশলী মো: তাজুল ইসলামের বিরুদ্ধে উন্নয়নকাজের বিল পরিশোধের বিপরীতে তিন লক্ষ টাকা ঘুষ দাবি এবং ঘুষ না দেওয়ায় এক ঠিকাদারকে লাঞ্ছিত করার অভিযোগ উঠেছে। ঘটনার চারদিন পরও প্রতিকার না পেয়ে ভুক্তভোগী ঠিকাদার রবিউল ইসলাম গতকাল ৮ জুন স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়-সহ সংশ্লিষ্ট ৯ টি দপ্তরে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে , গত ৪ জুন দুপুরে বিল-সংক্রান্ত বিষয়ে জানতে বাঘা পৌরসভার প্রকৌশলী মো: তাজুল ইসলামের কার্যালয়ে যান ঠিকাদার রবিউল ইসলাম। সেখানে উন্নয়নকাজের বিল পরিশোধ নিয়ে উভয়ের মধ্যে বাকবিতণ্ডার ঘটনা ঘটে। রবিউল ইসলামের অভিযোগ, কোভিড-১৯ প্রকল্পের আওতায় চারটি প্যাকেজের বিপরীতে প্রায় ১ কোটি ২৫ লাখ টাকার উন্নয়নকাজ ছয় মাস আগে সম্পন্ন করলেও তাঁর বিল পরিশোধ করা হয়নি।
রবিউল ইসলাম দাবি করেন, ঘুষ দিতে অস্বীকৃতি জানানোয় দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন অজুহাতে তাঁকে ঘোরানো হয়েছে। সর্বশেষ ৪ জুন প্রকৌশলীর কার্যালয়ে গেলে তাঁর বিরুদ্ধে কাজের অনিয়মের অভিযোগ তোলা হয়। একপর্যায়ে প্রকৌশলী চেয়ার তুলে মারতে উদ্যত হন এবং অশালীন ভাষায় গালিগালাজ করে অফিস থেকে বেরিয়ে যেতে বলেন ঠিকাদার রবিউল ইসলামকে।এ সময় সেখানে আরো দু’জন ঠিকাদার উপস্থিত ছিলেন। এরা হলেন ঠিকাদার শাকিল আহমেদ ও হিরাউল ইসলাম। এদেরকে রবিউল ইসলাম তার অভিযোগে সাক্ষী হিসেবে উল্লেখ করেছেন।
ঐদিন ঘটনার পর স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মীদের কাছে লিখিত অভিযোগ দেন ঠিকাদার রবিউল ইসলাম। এনিয়ে বেশ কিছু স্থানীয় এবং জাতীয় দৈনিকে খবর প্রকাশিত হয়। তবে চারদিন অপেক্ষা করেও কোনো প্রতিকার বা প্রশাসনিক কোন উদ্যোগ না নেওয়ায় গত ৮ জুন তিনি স্থানীয় সরকার- পল্লী উন্নয়ন, সমবায় মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা, স্থানীয় সরকার বিভাগের সচিব, স্থানীয় সরকার বিভাগের উপ-পরিচালক, সংশ্লিষ্ট সংসদ সদস্য ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও)সহ মোট ৯টি দপ্তরে লিখিত অভিযোগ পাঠান। অভিযোগে প্রকৌশলী মো: তাজুল ইসলামের বিরুদ্ধে ঘুষ, অনিয়ম, দুর্নীতি এবং ক্ষমতার অপব্যবহারের বিষয় তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণেরও দাবি জানান তিনি।
এ বিষয়ে বাঘা পৌরসভার কয়েকজন ঠিকাদার ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধির সঙ্গে কথা হলে তারা নাম প্রকাশ না করার শর্তে প্রকৌশলীর বিরুদ্ধে বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগের কথা জানান। তাদের দাবি, গত দুই বছরে পৌরসভার বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পে নিম্নমানের কাজ, অতিরিক্ত বিল প্রদর্শন এবং সরকারি অর্থ অপচয়ের ঘটনা ঘটেছে। বিশেষ করে পৌর কতৃপক্ষের মাধ্যমে টেন্ডার না দিয়ে, বাৎসরিক কোটেশনে পৌর কতৃপক্ষ কোটি টাকার একাধিক প্রকল্পে নানা অনিয়ম ও দুর্ণীতির গল্প মানুষের মুখে-মুখে ফিরছে। যা তদন্তে বেরিয়ে আসবে।
তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন পৌরসভার প্রকৌশলী মো: তাজুল ইসলাম। তিনি বলেন, আমার অফিসে সিসি ক্যামেরা রয়েছে। আমি কাউকে মারতে উদ্যত হইনি। বরং স্থানীয় ঠিকাদার হিসেবে প্রভাব খাটিয়ে রবিউল ইসলাম আমার সঙ্গে উচ্চস্বরে কথা বলেছেন। কাজের চাপের কারণে আমিও কিছুটা উত্তেজিত হয়ে পড়ে ছিলাম। তবে তিনি এখন পর্যন্ত বিলের বিষয়ে আমার কাছে কোনো লিখিত আবেদন দেননি। এ কারণেই বিল প্ররিষধ করা হয়নি।
এ বিষয়ে বাঘা পৌরসভার প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী অফিসার শাম্মী আক্তার বলেন, আগের ঘটনা সম্পর্কে আমি অবগত ছিলাম না। পরে বিষয়টা জেনেছি। তবে গতকাল সোমবার ঠিকাদার লিখিত অভিযোগ করেছেন। এ বিষয়ে তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে। এদিকে উক্ত ঘটনাটি নিয়ে এলাকায় ব্যাপক আলোচনা ও সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত ও দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।