স্টাফ রিপোর্টার : অতিরিক্ত টোল আদায় করায় এলাকাবাসী একজোট হয়ে বিদাড়িত করলো জেলার গোদাগাড়ী উপজেলার খেয়াঘাট ইজারাদারকে। পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে টোল আদায় ঘর। চরবাসীর দাবি, খেয়াঘাট ইজারা দেওয়ার নিয়মই এখন বাতিল করতে হবে। শনিবার এ ঘটনা ঘটে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, ইজারাদাররা দীর্ঘদিন ধরে নৌঘাটকে ব্যক্তিগত সম্পত্তির মতো ব্যবহার করে আসছেন। প্রতিবছর যিনি ইজারা নেন, তিনি নিজের মতো করে ভাড়া নির্ধারণ করেন; কোনো নির্দিষ্ট চার্ট বা সরকারি নিয়মের তোয়াক্কা করেন না। স্থানীয়দের ভাষায়, ঘাটে টোল নয়, যেন সন্ত্রাসীদের হাতে কর দিচ্ছেন তারা। প্রতিবাদ করলে হামলা এবং প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগও রয়েছে।
জানা গেছে, জেলা পরিষদ এই ঘাট ইজারা দেয়। শর্ত রয়েছে, ৫ টাকায় ইজারাদার মানুষকে পদ্মা নদী পার করে দেবেন। কিন্তু কোনদিনই এই শর্ত তারা মানেন না। ঘাটের জন্য নেওয়া হয় আলাদা টাকা, আবার নৌকার জন্যও নেয়া হয় আলাদা ভাড়া। ফলে নদী পার হতে গুণতে হয় কমপক্ষে ৩০ টাকা। মালামাল থাকলে আদায় করা হয় ইচ্ছেমতো টাকা। আওয়ামী সরকারের পতনের পর চরবাসী এর প্রতিবাদ করে আসছেন। এ নিয়ে ইজারাদারদের সাথে দেখা দিয়েছে বিরোধ।
এ বিরোধ মেটাতে শুক্রবার জেলা পরিষদ, জেলা ও উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তারা পুলিশ নিয়ে খেয়াঘাটে যান। তারা উভয়পক্ষের সাথে কথা বলেন। নতুন ভাড়া নির্ধারণের ব্যাপারে উভয়পক্ষকে আশ্বস্ত করা হয়। তবে শনিবার বিতাড়িত করা হয়েছে ইজারাদারকে।
স্থানীয়রা জানায়, শনিবার সকাল থেকে কয়েকশো মানুষ লাঠিশোটা নিয়ে ফেরিঘাটে আসেন। তাদের অভিযোগ , সকালে ইজারাদারের সশস্ত্র লোকজন মাঝিদের নৌকা চলাচল বন্ধ করতে বাধ্য করে এবং হুমকি দেন নৌকা চালালে নদীতে কেটে ফেলে দেবো। আতঙ্কে মাঝিরা নৌকা চালানো বন্ধ করে দেন। এতে চরবাসী ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠে। পরে মসজিদের মাইকিংয়ের মাধ্যমে খবর ছড়িয়ে পড়লে কয়েকশো মানুষ উত্তেজিত হয়ে নদীর পাড়ে জড়ো হন এবং ঘাট এলাকায় অবস্থান নেন।
চরবাসীর অভিযোগ, স্থানীয় চেয়ারম্যান-মেম্বাররাও ইজারাদারদের কাছ থেকে সুবিধা নিয়ে সাধারণ মানুষের পাশে দাঁড়ান না। তারা নীরব সমর্থন দিয়ে থাকেন। বারবার জেলা প্রশাসন ও জেলা পরিষদে অভিযোগ জানানো হলেও কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।
অভিযোগের বিষয়ে ইজারাদার হামিদুল ইসলাম সুজন বলেন, অতিরিক্ত টাকা নেওয়ার অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা। স্থানীয় লাইনম্যানদের সঙ্গে কিছু তর্কবিতর্ক হয়েছিল, সেটা আমরা আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের চেষ্টা করছি।
রাজশাহী জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মু. রেজা হাসান বলেন, পরিস্থিতি খারাপ দেখে আমি নিজে গতকাল গিয়েছিলাম। উভয়পক্ষের জন্য যৌক্তিক টোল নির্ধারণ করা হবে বলেছিলাম। তবে শনিবার নৌকা নাকি বন্ধ রাখা হয়েছিল। তখন টোল আদায়ের ঘর পুড়িয়ে দেয়া হয়। তিনি বলেন বিষয়টি উর্ধতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হবে।