স্টাফ রিপোর্টার : বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার উপদেষ্টা মন্ডলীর সদস্য ও দলের রাজশাহী বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত সমন্বয়ক বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুস সালাম বলেছেন, ‘জাতীয় নির্বাচনের আগে কোনভাবেই স্থানীয় নির্বাচনের সুযোগ নেই।
তিনি বলেন, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সঙ্গে প্রধান উপদেষ্টার বৈঠকে জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত করার ব্যাপারে কথা হয়েছে। এর বাইরে আর কোন চিন্তা নেই। ইতিমধ্যে নির্বাচন কমিশনকে জাতীয় নির্বাচনের শিডিউল ঘোষণার কথা বলা হয়েছে। এ অবস্থায় জাতীয় নির্বাচনের আগে কোনভাবেই স্থানীয় নির্বাচনের সুযোগ নেই।
শুক্রবার রাজশাহীর গোদাগাড়ীর প্রেমতলীতে ঐতিহ্যবাহী খেতুর ধাম পরিদর্শন ও স্থানীয়দের সঙ্গে মতবিনিময় সভা শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।
এর আগে মতবিনিময় সভায় তিনি বলেন, বিএনপির কোন সম্প্রদায়িক দল নয়। বিএনপি কখনো সাম্প্রদায়িকতায় বিশ্বাস করেনা। বিএনপিকে সাম্প্রদায়িক বানানোর চেষ্টা করা হচ্ছে। কিন্তু অতিতেও কখনো সেটা সফল হয় নি। আগামীতেও হতে দেয়া হবেনা।
আবদুস সালাম বলেন, বাংলাদেশে জাতিতে জাতিতে কোন বিভাজন নাই। হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রীস্টানসহ অন্যান্য সকল জাতি একত্রে একসাথে বসবাস করে। তারা এ দেশের অধিবাসী, এ দেশের মালিক। কারন মুসলমানরা কখনো মনে লালন করেনা এই দেশের মালিক শুধু তারাই। তিনি আরো বলেন, কোন ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানকে বিএনপির প্রতিষ্ঠান হিসাবে বানাতে চান না।
তিনি আরো বলেন, পতিত সরকার বাংলাদেশের মসজিদ, মন্দিরসহ সকল ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানকে দলীয়করণ করেছিলেন। এ কারনে শেখ হাসিনা যখন পালিয়ে ছিলো তখন অনেক ইমামও পালিয়ে গিয়েছিলেন। তিনি বলেন, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান এবং ধর্মসভা প্রতিষ্ঠানগুলো হবে সবার জন্য। এখানে কোন রাজনীতি হবে না। এ সকল স্থানে রাজনীতির বিশেষ কোন দলের রাজনীতি চর্চা করার কোন সুযোগ নাই বলে উল্লেখ করেন তিনি।
তিনি বলেন, ভারত পুশইন করছে। তারা আসলে বাংলাদেশী না ভারতের তা বোঝা যাচ্ছেনা। ভারতে যদি অবৈধভাবে বাংলাদেশীরা বসবাস করেন তাহলে তাদেও আটক করে আইনের আওতায় নিয়ে আসুন। এরপর বাংলাদেশ থেকে তাদের ফিরিয়ে আনার ব্যাবস্থা করা হবে। তা না করে ভারত পুশইন করছে। এটা কোনভাবে মেনে নেয়া হবেনা বলে উল্লেখ করেন তিনি।
তিনি বলেন, আওযামী লীগের আমলে সব থেকে বেশী ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে হিন্দুসহ অন্যান্য সংখ্যালঘু মানুষ। তাদের মন্দিরে হামলা হয়েছে। ঢাকেশ্বরী মন্দির থেকে দেবীর গলার হার চুরি হয়েছিলো। মন্দিরের জায়গা দখল করা হয়েছিলো। সেইসাথে ভাঙ্গচুর করা হয়েছিলে মন্দির ও দেব দেবী। কিন্তু অতিতেও বিএনপি’র আমলে এই সকল সম্প্রদায়ের মানুষ সব থেকে বেশী নিরাপদে ছিলেন। তিনি বলেন, শ্রীপাট খেতুরী ধাম নিয়ে ভূলবোঝাবুঝি হয়েছিলো। আগামীতে এটা কোনভাবেই থাকবেনা। এই ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান তার নিয়মেই চলবে বলে জানান।
শ্রী শ্রী গৌরাঙ্গদেব ট্রাষ্ট বোর্ড পরিচালনা কমিটির সভাপতি বিদ্যুৎ নারায়ণ সরকারের সভাপতিত্বে প্রধান বক্তা হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার উপদেষ্টা মন্ডলী পরিষদের সদস্য সাবেক মেজর জেনারেল শরিফ উদ্দিন। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিএনপি জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ও রাজশাহী জেলা বিএনপির সদস্য দেবাশিষ রায়। এছাড়া উল্লেথযোগ্যদের মধ্যে রাজশাহী মহানগর বিএনপি’র আহ্বায়ক বীর মুক্তিযোদ্ধা এডভোকেট এরশাদ আলী ঈশা, জেলা বিএনপির সদস্য সদর উদ্দিন ও মহানগর যুবদলের আহ্বায়ক মাহফুজুর রহমান রিটন উপস্থিত ছিলেন।