ডিএনএন ডেস্ক: রাজশাহী জিপিও, ঘোড়ামারা প্রধান ডাকঘর ও এর আওতাধীন সাব-পোস্ট অফিসগুলোতে দীর্ঘদিন ধরে কাজ করে আসা ১৩ জন দৈনিক মজুরিভিত্তিক কর্মচারীকে কারণ দর্শানোর নোটিশ ছাড়াই চাকরিচ্যুত করার প্রতিবাদে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ সমাবেশ করেছেন কর্মচারীরা। চাকরি ফিরে পেতে ২৪ ঘণ্টার আলটিমেটাম দিয়েছেন তাঁরা। বুধবার (১৯ আগস্ট) বিকেলে রাজশাহী জিপিওর প্রধান ফটকের সামনে বাংলাদেশ দৈনিক মজুরিভিত্তিক কর্মচারী সমিতি, রাজশাহী বিভাগের উদ্যোগে এ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। সমাবেশ শেষে ছাঁটাই আদেশ বাতিল করে ভুক্তভোগীদের স্ব স্ব পদে পুনর্বহালের দাবিতে সিনিয়র পোস্টমাস্টার বরাবর স্মারকলিপি দেওয়া হয়।
কর্মসূচিতে রাজশাহীর বিভিন্ন সরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত দপ্তরের শতাধিক কর্মচারী সংহতি প্রকাশ করেন। তাঁদের মধ্যে রাজশাহী সিটি করপোরেশন, বরেন্দ্র বহুমুখী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ, বিএডিসি, রাজশাহী ওয়াসা, রেশম উন্নয়ন বোর্ড, রাজশাহী বেতার ও গণপূর্ত বিভাগের কর্মচারীরা ছিলেন।
সমাবেশে কর্মচারীরা ‘এক নোটিশে বন্ধ হওয়া ১৩ পরিবারের রুটি-রুজি ফিরিয়ে দাও’, ‘দাসত্ব নয়, শ্রমের স্বীকৃতি চাই’ ও ‘চাই চাকরির নিশ্চয়তা’ লেখা ব্যানার ও ফেস্টুন নিয়ে প্রতিবাদ জানান।
কর্মচারীদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, রাজশাহী জিপিওর সিনিয়র পোস্টমাস্টারের কার্যালয় থেকে গত ১৬ আগস্ট ছাঁটাইয়ের আদেশ জারি করা হয়। আদেশে গত ৬ আগস্ট গঠিত একটি কমিটির প্রতিবেদনের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নেওয়ার কথা উল্লেখ করা হয়েছে।
সমাবেশে বক্তারা অভিযোগ করেন, উচ্চতর কোনো মন্ত্রণালয় বা ডাক অধিদপ্তরের অনুমোদন ছাড়াই স্থানীয় পর্যায়ে এই চাকরিচ্যুতির আদেশ দেওয়া হয়েছে। কোনো কারণ দর্শানোর নোটিশ বা আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ না দিয়ে দীর্ঘদিন ধরে কাজ করা কর্মীদের চাকরিচ্যুত করা হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তাঁরা।
তাঁরা আরও অভিযোগ করেন, ঈদ ও বৈশাখসহ বিভিন্ন উৎসবে তাঁরা কোনো ভাতা বা বোনাস পাননি। এমনকি উৎসবের ছুটির দিনের মজুরিও কেটে নেওয়া হয়েছে। গত পাঁচ থেকে সাত মাস পর্যন্ত তাঁদের বেতন বন্ধ ছিল বলেও দাবি করেন তাঁরা। এরপরও তাঁরা ডাক বিভাগের সেবা দিয়ে গেছেন। বর্তমানে বাজেট বরাদ্দ থাকা সত্ত্বেও অযৌক্তিকভাবে তাঁদের চাকরি থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করেন কর্মচারীরা।
সমিতির সভাপতি মো. ইকবাল হোসেন ও সাধারণ সম্পাদক মো. রাকিবুল ইসলাম বলেন, ২৪ ঘণ্টার মধ্যে এই সিদ্ধান্ত সংশোধন করা না হলে ডাকসেবায় কোনো ধরনের প্রশাসনিক বা সেবামূলক স্থবিরতা তৈরি হলে এর দায় সিদ্ধান্ত গ্রহণকারী কর্তৃপক্ষকে বহন করতে হবে।
এদিকে ছাঁটাই হওয়া ১৩ কর্মচারীর তালিকা ও পুনর্বহালের দাবিসংবলিত স্মারকলিপির অনুলিপি মন্ত্রিপরিষদ সচিব, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব, ভূমিমন্ত্রী ও স্থানীয় সংসদ সদস্য (রাজশাহী-২), ডাক ও টেলিযোগাযোগ সচিব, ডাক অধিদপ্তরের মহাপরিচালক, পোস্টমাস্টার জেনারেল, বিভাগীয় কমিশনার, জেলা প্রশাসক, আরএমপি কমিশনারসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দপ্তরে পাঠানো হয়েছে।
চাকরিচ্যুত ১৩ জন হলেন—রাজশাহী জিপিওর দৈনিক মজুরিভিত্তিক পোস্টাল অপারেটর মো. মমিনুল ইসলাম, মো. শকিলুর রহমান, শ্রী চৈতন্য দাস, মোসাঃ জাহিদা খাতুন ও মোসাঃ পপি খাতুন; ঘোড়ামারা প্রধান ডাকঘরের মো. মাসুদ রানা, মোসা. মনজিলা খাতুন ও মো. শামীউল আলীম; রাজশাহী কোর্ট টাউন সাব-পোস্ট অফিসের খন্দকার মতিউর রহমান। দৈনিক মজুরিভিত্তিক প্যাকার মোসাঃ লতিফা খাতুন (রাজশাহী জিপিও) ও মো. হারুন আর রশিদ (রাজশাহী কোর্ট টাউন সাব-পোস্ট অফিস)। এছাড়া দৈনিক মজুরিভিত্তিক নৈশপ্রহরী মো. হানিফ শেখ (পদ্মা আবাসিক টাউন সাব-পোস্ট অফিস) ও চৌধুরী আব্দুল কাদের (রাজশাহী ক্যান্টনমেন্ট টাউন সাব-পোস্ট অফিস)।
বাংলাদেশ দৈনিক মজুরিভিত্তিক কর্মচারী সমিতি, রাজশাহী বিভাগের সভাপতি মো. ইকবাল হোসেনের সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক মো. রাকিবুল ইসলাম রাকিবের সঞ্চালনায় মানববন্ধন ও বিক্ষোভ সমাবেশে বক্তব্য দেন ঘোড়ামারা প্রধান ডাকঘরের চাকরিচ্যুত দৈনিক মজুরিভিত্তিক পোস্টাল অপারেটর মো. শামীউল আলীম শাওন, রাজশাহী কোর্ট টাউন সাব-পোস্ট অফিসের চাকরিচ্যুত পোস্টাল অপারেটর খন্দকার মতিউর রহমান পায়েল ও রেশম উন্নয়ন বোর্ডের দৈনিক মজুরিভিত্তিক কর্মচারী তাসেন আলী।