৩ কার্তিক, ১৪৩৩
১৯ অক্টোবর, ২০২৬

কফির সঙ্গে ওষুধ মিশিয়ে অজ্ঞান করে দুই নারীর স্বর্ণালঙ্কার লুট, গ্রেফতার ২

Admin Published: October 26, 2025, 6:41 pm
কফির সঙ্গে ওষুধ মিশিয়ে অজ্ঞান করে দুই নারীর স্বর্ণালঙ্কার লুট, গ্রেফতার ২

স্টাফ রিপোর্টার : কফির সঙ্গে ঘুমের ওষুধ মিশিয়ে খাইয়ে দুই নারীকে অজ্ঞান করে মালামাল লুটের অভিযোগে রাজশাহীর বাগমারায় দুই যুবককে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। তাদের কাছ থেকে লুট হওয়া দুই জোড়া নুপুর উদ্ধার করা গেলেও অন্যান্য মালামাল উদ্ধার করা যায়নি।

গ্রেফতার যুবকেরা হলো, জেলার তানোরের আড়াদিঘি গ্রামের তোফাজ্জল হোসেনের ছেলে তৌহিদুল ইসলাম (২৪) ও একই উপজেলার কালনা গ্রামের এরশাদ আলীর ছেলে মশিউর রহমান (২৩)।  রবিবার প্রতারিত এক নারীর মামলায় গ্রেফতার দেখিয়ে তাদের আদালতে পাঠিয়েছে পুলিশ। ওই নারীর নাম রুপা খাতুন। তিনি চট্টগ্রামের একটি পোশাক কারখানায় চাকরি করেন। তার গ্রামের বাড়ি নওগাঁর আত্রাই উপজেলার বান্দাইখাঁড়া গ্রামে।

গ্রেফতার হওয়া যুবকদের মধ্যে তৌহিদুল ইসলাম নিজেকে গোয়েন্দা পুলিশের সদস্য পরিচয়ে মামলার বাদীর সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক স্থাপন করেছিলো।  

পুলিশ জানায়, চার বছর আগে রুপা খাতুনের (৩১) সঙ্গে তৌহিদুল ইসলামের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে পরিচয় হয়। ওই যুবক ‘কষ্টের জীবন’ নামে আইডি থেকে রুপার সঙ্গে সম্পর্ক স্থাপন করে। পরে তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। এরপর থেকে মেসেঞ্জারের মাধ্যমে উভয়ের মধ্যে নিয়মিত কথাবার্তা হয়। ওই যুবক নিজেকে পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগের লোক পরিচয় দিতেন।

সম্প্রতি রুপা খাতুন গ্রামের বাড়ি বান্দাই খাঁড়ায় আসেন। বিষয়টি জানার পর গত ২০ অক্টোবর তৌহিদুল ইসলাম ওই নারীর সঙ্গে দেখা করার জন্য তোফাজ্জল হোসেন নামের এক সহযোগীকে নিয়ে বান্দাইখাঁড়া বাজারে যান। এসময় ওই নারী তার খালাতো বোন (১৮) ও সাত বছরের ভাইকে নিয়ে বাজারে সাক্ষাৎ করেন। সাক্ষাতের পর ওই দিন বিকেলে তাদের কফি ও চাইনিজ খাওয়ানোর প্রলোভন দেখিয়ে ২০ কিলোমিটার দূরে বাগমারার উপজেলা সদর ভবানীগঞ্জ বাজারে নিয়ে আসে দুই যুবক।

ওইদিন ভবানীগঞ্জ বাজারের নিউমার্কেটের নিচের একটি চায়ের দোকানে রুপা ও তাঁর খালাতো বোনকে কফি খাওয়ানো হয়। কিছুক্ষণ পর তাদের চাইনিজ খাওয়ানোর প্রলোভন দেখিয়ে ভবানীগঞ্জ নিউমার্কেটের পাঁচতলার একটি চাইনিজ রেস্টুরেন্টে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে বসে থাকার কিছু ক্ষণের মধ্যে অচেতন হয়ে পড়েন দুই নারী। পরে তাদের অচেতন অবস্থায় বাগমারা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা এবং সঙ্গে থাকা সাত বছরের শিশুকে বাড়িতে পৌঁছে দেওয়া হয়।  

ওই দিন গভীর রাতে চেতনা ফিরে পেয়ে দুই নারী বাগমারা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিজেদের আবিষ্কার করেন। তবে তাদের কাছে থাকা মোবাইল, কানেরর দুল, গলার হার, নুপুরসহ সোনার অলংকার কিছুই পাননি। সঙ্গে আনা সাত বছরের শিশুও ছিল না। পরে স্বজনদের খবর দেওয়া হলে তারা বাগমারা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স  থেকে পরের দিন বাড়িতে নিয়ে যাওয়া হয়।

এ ঘটনায় শুক্রবার রাতে বাগমারা থানায় রুপা খাতুন লিখিত অভিযোগ দিলে পুলিশ তদন্তে মাঠে নামে। প্রযুক্তির মাধ্যমে দুই প্রতারকের অবস্থান ও পরিচয় নিশ্চিত হয়। পুলিশ রাতভর অভিযান চালিয়ে নিজ নিজ বাড়ি থেকে তাদের আটক করে। শনিবার দুপুরে প্রতারিত দুই নারীকে থানায় ডেকে মুখোমুখি করা হলে তারা তাদের সনাক্ত করেন। পরে তাদের নিয়ে লুট হওয়া মালামাল উদ্ধারে অভিযান চালানো হয়।  তবে দুইজোড়া নুপুর ছাড়া অন্য মালামাল উদ্ধার করা যায়নি বলে পুলিশ জানিয়েছে।

প্রতারিত রুপা বলেন, প্রতারকের প্রকৃত পরিচয় ও ঠিকানা কিছুই জানতেন না। এর আগে দেখাও হয়নি। ঘটনার দিন গোয়েন্দা পুলিশের সদস্য পরিচয় দেওয়া ওই যুবকের কোমড়ে পিস্তলের মতো কিছু একটা ঝোলানো ছিল। এতে তিনি ডিবি পুলিশ বলে বিশ্বাস করেছিলেন। অচেতন হওয়ার পর চাইনিজ রেস্তোরাঁয় তাঁদের কাছে থাকা মোবাইল ফোনসহ পাঁচ লক্ষাধিক টাকার সোনার গহনা নেওয়া হয়েছে। বাগমারা থানার ওসি তৌহিদুল ইসলাম জানান, প্রযুক্তি ব্যবহার করে দুইজনকে আটক করা হয়েছে। জিজ্ঞাসাবাদে তারা ঘটন্রা সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছে। তাদের রিমান্ড নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন ওসি।