স্টাফ রিপোর্টার : রাজশাহীর বাগমারার ঝিকড়া ইউনিয়ন কৃষকদলের সভাপতি জাহাঙ্গীর আলমকে আওয়ামী লীগ ফ্যাসিবাদের দোসর আখ্যা দিয়ে মাদ্রাসার ব্যবস্থাপনা কমিটির পদ থেকে অপসারণের দাবি জানানো হয়েছে। বিক্ষোভ মিছিল ও মানববন্ধন করে এই দাবি জানানো হয়।
আওয়ামী লোকজনই এলাকাবাসী, মাদ্রাসার শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের ব্যানারে এই কর্মসূচি পালন করেন বলে অভিযোগ করা হয়। তবে মাদ্রাসার শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা জানিয়েছেন ভালো একজন ব্যক্তিকে বাদ দিতে ষড়যন্ত্র করা হচ্ছে।
সোমবার দুপুরে উপজেলার ঝিকড়া ইউনিয়নের কুদাপাড়া আহাদিয়া দাখিল মাদ্রাসার সামনের সড়কে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করা হয়। এলাকাবাসী, মাদ্রাসার শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের ব্যানারে ঘন্টাব্যাপী এই কর্মসূচি পালন করেন।
কর্মসূচিতে কোনো অভিভাবক, শিক্ষক ও শিক্ষার্থী উপস্থিত ছিলেন না। মানববন্ধন চলাকালীন বক্তব্য দেন মাহাতাব আলী, আবু রায়হান, আবদুল মতিন প্রমুখ। তারা অভিযোগ করেন আওয়ামী লীগ ফ্যাসিবাদের দোসর জাহাঙ্গীর আলমকে কুদাপাড়া আহাদিয়া দাখিল মাদ্রাসার অস্থায়ী কমিটির সভাপতি করা হয়েছে। গোপনে এলাকাবাসীর দাবিকে উপেক্ষা করে আওয়ামী লীগের দোসরকে অস্থায়ী কমিটির সভাপতি করে পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠনের চেষ্টা করা হচ্ছে। বক্তারা অভিযোগ করেন, জাহাঙ্গীর আলম বিগত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থীর পক্ষে নির্বাচনে প্রচারণা করেছেন।
তবে তিনি আওয়ামী লীগের কোনো পদে ছিলেন না বলে জানানো হয়। ব্যানারে জাহাঙ্গীর আলমকে অর্থ ও নারী লোভী হিসেবে উল্লেখ করা হয়। বক্তারা দ্রুত জাহাঙ্গীর আলমকে সভাপতির পদ থেকে অপসারণ করে যে কোনো শিক্ষানুরাগী ও শিক্ষাবান্ধব ব্যক্তিকে সভাপতি করার দাবি জানান। পরে প্রতিবাদ মিছিল বের হয়ে সভাপতির বিরুদ্ধে আপত্তিকর স্লোগান দেওয়া হয়।
জানা যায়, দুই মাস আগে জাহাঙ্গীর আলমকে মাদ্রাসার ব্যবস্থাপনা কমিটির (এ্যাডহোক) সভাপতি করা হয়। তিনি কৃষকদলের ঝিকড়া ইউনিয়ন শাখার সভাপতি। তিনি বলেন, শিক্ষক ও অভিভাবকদের সম্মতিতে তাকে সভাপতি করা হয়। তার বিরুদ্ধে যারা কর্মসূচি পালন করছে তারাই আওয়ামী লীগের লোক। তিনি পাল্টা অভিযোগ করেন, মানববন্ধনে অংশ নেওয়া আবদুল খালেক ঝিকড়া ইউনিয়নের কৃষক লীগের আট নম্বর ওয়ার্ডের সভাপতি, আবু রায়হান, ইসমাইল হোসেন ও আবদুর রাজ্জাক আওয়ামী লীগের কর্মী।
তবে আবু রায়হান অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, তিনি আওয়ামী লীগ করেন না, তার বাবা প্রয়াত সিরাজ উদ্দিন আওয়ামী লীগের স্থানীয় নেতা ও কুদাপাড়া আহাদিয়া মাদ্রাসার ব্যবস্থাপনা কমিটির সাবেক সভাপতি ছিলেন। স্থানীয় বাসিন্দারা বলেন, যারা মানবন্ধন ও মিছিল করেছেন তাদের বেশিরভাগই আওয়ামী ফ্যাসিবাদের লোক।
মাদ্রাসার সুপারিন্টেন্ডেন্ট মাসুদুর রহমান জানান, নিয়ম অনুসারে অস্থায়ী কমিটি গঠন করা হয়েছে। মেয়াদ শেষ হলে পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন করা হবে। মানববন্ধনে মাদ্রাসার শিক্ষক, শিক্ষার্থী উপস্থিত ছিলেন না বলে দাবি করেন তিনি।