গ্রীষ্মকালীন রসালো ফলের মধ্যে লিচু অন্যতম জনপ্রিয়। সুস্বাদু এই ফল শুধু স্বাদের জন্য নয়, বরং পুষ্টিগুণ ও ঔষধি বৈশিষ্ট্যের কারণেও বিশেষভাবে সমাদৃত। বর্তমানে বাজারে বিভিন্ন জাতের লিচু পাওয়া যাচ্ছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, সঠিক নিয়মে পরিষ্কার করে পরিমিত পরিমাণে লিচু খেলে এটি শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি, ত্বকের উজ্জ্বলতা ধরে রাখা এবং হৃদযন্ত্র সুস্থ রাখতে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে।
প্রতি ১০০ গ্রাম লিচুতে রয়েছে
পানি — ৮২%
কার্বোহাইড্রেট — ১৬.৫ গ্রাম
ক্যালোরি — ৬৬ কিলোক্যালরি
ভিটামিন সি — ৭১.৫ মিলিগ্রাম
পটাশিয়াম — ১৭১ মিলিগ্রাম
খাদ্য আঁশ (ফাইবার) — ১.৩ গ্রাম
লিচুর স্বাস্থ্য উপকারিতা
রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি:
লিচুতে প্রচুর ভিটামিন ‘সি’ থাকায় এটি সর্দি-কাশি ও মৌসুমি ফ্লু প্রতিরোধে সহায়ক।
ত্বকের যত্নে কার্যকর:
লিচুর অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ত্বকের বলিরেখা ও কালচে দাগ কমাতে সাহায্য করে।
হৃদযন্ত্র ভালো রাখে:
এতে থাকা ‘অলিগোনল’ উপাদান রক্ত সঞ্চালন বাড়াতে সহায়তা করে এবং হৃদযন্ত্রের সুস্থতা বজায় রাখে।
রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে সহায়ক:
উচ্চমাত্রার পটাশিয়াম রক্তনালীর চাপ কমিয়ে রক্তচাপ স্বাভাবিক রাখতে সাহায্য করে।
হজম শক্তি বৃদ্ধি:
ডায়েটারি ফাইবার কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করে এবং পরিপাকতন্ত্র সুস্থ রাখে।
ওজন নিয়ন্ত্রণে উপকারী:
কম ক্যালোরি ও কম চর্বিযুক্ত হওয়ায় ওজন নিয়ন্ত্রণে থাকা ব্যক্তিদের জন্য লিচু উপযোগী ফল।
নিরাপদে লিচু খাওয়ার উপায়
বাণিজ্যিকভাবে চাষকৃত লিচুতে বিভিন্ন ধরনের কীটনাশক ব্যবহার করা হয়। তাই বাজার থেকে কেনার পর ভালোভাবে পরিষ্কার করে খাওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।
নিরাপদ ধাপসমূহ:
১. বেকিং সোডা মিশ্রিত পানিতে ভিজিয়ে রাখা
এক লিটার পানিতে এক চামচ বেকিং সোডা (সোডিয়াম বাইকার্বোনেট) মিশিয়ে তাতে লিচু ১৫–২০ মিনিট ভিজিয়ে রাখুন। এতে খোসার ওপর থাকা কীটনাশকের বড় অংশ নিষ্ক্রিয় হতে পারে।
২. প্রবাহিত ঠাণ্ডা পানিতে ধোয়া
ভিজানোর পর চলমান পানিতে হাত দিয়ে ঘষে ঘষে ভালোভাবে ধুয়ে নিতে হবে।
৩. দাঁত বা নখ দিয়ে খোসা না ছাড়ানো
নখ বা দাঁতের মাধ্যমে খোসা ছাড়ালে কীটনাশক মুখে বা হাতে লাগতে পারে। তাই হাত বা ছুরির সাহায্যে খোসা ছাড়ানো নিরাপদ।
৪. খাওয়ার আগে হাত ধোয়া
খোসা ছাড়ানোর পর পুনরায় হাত পরিষ্কার করে নেওয়া ভালো, যাতে জীবাণু বা রাসায়নিক ভেতরের অংশে না লাগে।
৫. বোঁটা কেটে ফেলা
লিচুর বোঁটার অংশে তুলনামূলক বেশি রাসায়নিক জমে থাকতে পারে। তাই ধোয়ার আগে অতিরিক্ত বোঁটা কেটে ফেলা উত্তম।
সতর্কতা:
বিশেষজ্ঞদের মতে, খালি পেটে শিশুদের অতিরিক্ত লিচু খাওয়ানো ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে। এতে রক্তে শর্করার মাত্রা হঠাৎ কমে গিয়ে মাথা ঘোরা বা খিঁচুনির মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে। এছাড়া ডায়াবেটিস রোগীদেরও পরিমিত পরিমাণে লিচু খাওয়া উচিত। একজন সুস্থ মানুষের জন্য দিনে ১০–১২টি লিচু যথেষ্ট বলে মত দিয়েছেন পুষ্টিবিদরা।
লেখক: কৃষিবিদ মনিরুজ্জামান বাবুল
তথ্যউপাত্তে : কৃষিবিদ ড. সাদিকুল ইসলাম
পুষ্টিবিদ
বাংলাদেশ ফলিত পুষ্টি ও গবেষণা ইনস্টিটিউট (বারটান), রংপুর