স্টাফ রিপোর্টার : রাজশাহীর মৃতপ্রায় বারনই নদী রক্ষায় নদী তীরে মানববন্ধন ও এ অঞ্চলের লোকসঙ্গীত গম্ভীরার আয়োজন করা হয়। পরে অনুষ্ঠিত হয় ‘জীবন-জীবিকা, সংস্কৃতি, পরিবেশ ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য বারনই নদী রক্ষায় করণীয়’ শীর্ষক আলোচনা।
সোমবার অনুষ্ঠিত এসব কর্মসূচি থেকে নদী রক্ষায় প্রশাসন, স্থানীয় সরকার, পরিবেশবাদী সংগঠন ও সাধারণ মানুষের সমন্বিত পদক্ষেপ দাবি করা হয়।
আলোচনায় বক্তারা বলেন, বরেন্দ্র অঞ্চলের বারনই আজ মৃত্যুর দ্বারপ্রান্তে। একসময় এ নদীর পানি ছিল কৃষকের আশীর্বাদ, জেলের জীবিকা ও সংস্কৃতিকর্মীদের প্রেরণার উৎস। নদীর তীরে গড়ে উঠেছিল জনপদ, কৃষি ছিল সমৃদ্ধ, সংস্কৃতি ছিল জীবন্ত। কিন্তু আজ সেই বারনই হারিয়েছে স্রোত। নদীর বুকজুড়ে চলছে দখল। শিল্পবর্জ্যে ভরাট হচ্ছে তলদেশ। দূষণে নিস্তেজ হয়ে পড়ছে জলজ প্রাণ। এভাবে চলতে থাকলে অচিরেই বারনই নদী শুধু মানচিত্রেই সীমাবদ্ধ থাকবে, হারিয়ে যাবে বাস্তবতা থেকে।
দুপুরে নওহাটা মহিলা ডিগ্রি কলেজের সভাকক্ষে আয়োজিত সভায় বক্তারা আরও বলেন, একসময় বারনই নদী এই অঞ্চলের কৃষি, সংস্কৃতি ও পরিবেশের মূল ভিত্তি ছিল। কিন্তু ক্রমাগত দখল, দূষণ ও পানিস্বল্পতার কারণে নদীটি আজ মৃতপ্রায়। সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন নওহাটা পৌরসভার সাবেক মেয়র ও জেলা বিএনপির সদস্য শেখ মকবুল হোসেন।
সভাপতিত্ব করেন উন্নয়ন সংস্থা রুলফাও’র নির্বাহী পরিচালক আফজাল হোসেন। সামাজিক কল্যাণ পরিষদের নির্বাহী পরিচালক সম্রাট রায়হানের সঞ্চালনায় বক্তব্য দেন পানি উন্নয়ন বোর্ডের প্রকৌশলী পার্থ সরকার, পরিবেশ অধিদফতরের সহকারী পরিচালক মো. কবির হোসেন, রাজশাহী সিটি কর্পোরেশনের উপপ্রধান পরিচ্ছন্ন কর্মকর্তা সেলিম রেজা রঞ্জু, সিনিয়র সাংবাদিক আবুল কালাম মুহম্মদ আজাদ, রাজশাহী রক্ষা সংগ্রাম পরিষদের সাধারণ সম্পাদক জামাত খান, বেলা রাজশাহী কার্যালয়ের সমন্বয়কারী তন্ময় স্যানাল, পরিবর্তনের নির্বাহী পরিচালক রাশেদ রিপন প্রমুখ।
এর আগে নদীর অস্তিত্ব রক্ষায় জনসচেতনতা সৃষ্টির লক্ষ্যে নওহাটা শ্মশান ঘাট এলাকায় মানববন্ধন ও গম্ভীরা পরিবেশনের মধ্যদিয়ে কর্মসূচির সূচনা হয়। আলোচনা শেষে ‘বাঁচার আশা’ সাংস্কৃতিক সংগঠনের শিল্পীরা গম্ভীরা পরিবেশনা করেন। গানের কথায় নদী রক্ষার গুরুত্ব ও পরিবেশ সচেতনতার বার্তা তুলে ধরা হয়।
প্রসঙ্গত, রাজশাহীর পবা উপজেলার নওহাটা পৌরসভার বাগধানী এলাকা দিয়ে উৎপত্তি হয়ে নাটোরের সিংড়া উপজেলার শেরকোল দিয়ে আত্রাই নদীতে মিশেছে বারনই। নদীটির দৈর্ঘ্য প্রায় ৯৩ কিলোমিটার, সর্বোচ্চ প্রস্থ ৯১ মিটার এবং গড় প্রস্থ ৫১ মিটার। এটি রাজশাহী ও নাটোর জেলার আটটি উপজেলার ওপর দিয়ে প্রবাহিত।
একসময় এই নদীতে চলত লঞ্চ ও বড় বড় নৌকা, কৃষকরা সেচের কাজে ব্যবহার করতেন নদীর পানি। এখন উজানে পানির অভাব, ড্রেজিংয়ের অভাব ও পৌর বর্জ্যে নদীর নাব্যতা হারিয়ে গেছে। হাসপাতাল, ক্লিনিক ও কারখানার বর্জ্যসহ নগরীর পয়ঃবর্জ্য নদীতে পড়ায় এ নদীর পানি মারাত্মকভাবে দূষিত হচ্ছে। এতে দেশীয় মাছ, জলজ প্রাণী ও উদ্ভিদ বিলুপ্তির পথে।