স্টাফ রিপোর্টার : রাজশাহীর বাগমারা উপজেলার গোপালপুর আলিম মাদ্রাসায় কোমলমতি শিক্ষার্থীদের মানববন্ধনে অংশগ্রহণ করানোর ঘটনায় অধ্যক্ষ, উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা, জেলা প্রশাসক ও শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব বরাবর একটি লিগ্যাল নোটিশ পাঠিয়েছেন এক আইনজীবি। বুধবার রাজশাহীর আইনজীবী শামিমা ইয়াসমিন শিখা এই লিগ্যাল নোটিশ পাঠান। এমন কর্মকাণ্ডের জন্য কেন আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে না তা সাত কর্মদিবসের মধ্যে জানাতে বলা হয়েছে।
ঘটনার বিবরণে জানা যায়, গত ২৪ এপ্রিল গোপালপুর আলিম মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ শিক্ষার্থীদের একটি মানববন্ধনে অংশগ্রহণ করায়। মানববন্ধনের মূল উদ্দেশ্য ছিল প্রতিষ্ঠানটির প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে দায়েরকৃত একটি মামলার প্রতিবাদ ও প্রত্যাহারের দাবি। স্থানীয়দের অভিযোগ, শিক্ষার্থীরা এ ধরনের কর্মসূচির অর্থ না বুঝেই সেখানে অংশ নেয়।
উল্লেখ্য, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের ২০২৪ সালের ২৮ নভেম্বরের নির্দেশনা অনুযায়ী কোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান শিক্ষার্থীদের সভা, সমাবেশ কিংবা মানববন্ধনে ব্যবহার করতে পারবে না। এছাড়া, শিক্ষার্থীদের রাজনৈতিক বা স্বার্থসংশ্লিষ্ট কার্যক্রমে সম্পৃক্ত করা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। তবে এই মাদ্রাসায় এমন ঘটনা ঘটেছে, যার পেছনে একটি জমি সংক্রান্ত বিরোধের প্রসঙ্গও উঠে এসেছে।
জানা যায়, মাদ্রাসার পাশের জমিতে এক স্থানীয় বাসিন্দা পাঠাগার নির্মাণের উদ্যোগ নেন। কিন্তু প্রধান শিক্ষকের নির্দেশে স্থানীয়রা সেই নির্মাণ ভেঙে দেন। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী ব্যক্তি থানায় অভিযোগ করেন এবং ২১ এপ্রিল রাজশাহীর জ্যেষ্ঠ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলা দায়ের করেন। আদালত বাগমারা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তৌহিদুল ইসলামকে তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দিয়েছেন।
বাগমারা উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা বলেন, “আমি ঘটনাটি শুনেছি। কোমলমতি শিশুদের এভাবে ব্যবহার করা অনৈতিক এবং এটি প্রমাণিত হলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।