১ কার্তিক, ১৪৩৩
১৬ অক্টোবর, ২০২৬

মধ্যরাতে কোটা সংস্কার আন্দোলনকারীদের উপর জাবি ছাত্রলীগের হামলা

Admin Published: July 15, 2024, 1:41 pm
মধ্যরাতে কোটা সংস্কার আন্দোলনকারীদের উপর জাবি ছাত্রলীগের হামলা

ডিএনএন ডেস্কঃ কোটা সংস্কার আন্দোলনকারীদের বিক্ষোভে মিছিলে সারারাত উত্তপ্ত ছিল জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস।  বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর হলের ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা চালিয়েছেন বলে অভিযোগ করেছেন আন্দোলনকারীরা।রোববার দিবাগত রাত পৌনে ৩টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। 


বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা জানান, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তার এক সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকের এক প্রশ্নের জবাবে চলামান কোটা সংস্কার আন্দোলনকারীদের উদ্দেশ্য করে বলেন, ‘মুক্তিযোদ্ধাদের বিরুদ্ধে এত ক্ষোভ কেনো? তাদের নাতিপুতিরা সুবিধা পাবে না, তাহলে কি রাজাকারের নাতিপুতিরা পাবে?। এটি শিক্ষার্থীদের জন্য অপমানজনক। এ মন্তব্যের ফলে চলমান আন্দোলনকে ভিন্নখাতে প্রভাবিত করার পায়তারা। তাই আমরা এমন মন্তব্যের প্রতিবাদ জানিয়েছি। কিন্তু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর হলে আন্দোলনে সমর্থনকারী দুই শিক্ষার্থীকে আটকে রাখে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা। তাই আমরা তাদের মুক্ত করতে হল প্রাঙ্গণ ঘেরাও করি। পরে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা আমাদের ওপর হামলা করে। হামলায় আমাদের একজন আহত হয়েছেন।

প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার মন্তব্যের প্রতিবাদে রোববার (১৪ জুলাই) দিবাগত রাত সাড়ে ১১টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের বটতলা এলাকা থেকে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করেন শিক্ষার্থীরা। তখন বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর হলে দুজন আন্দোলনকারীকে অবরুদ্ধ করার অভিযোগ ওঠে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে।ছাত্রলীগ কর্তৃক আটককৃত দুই শিক্ষার্থী হলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্ভিদ বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী কাওসার আলম আরমান ও ম্যানেজমেন্ট বিভাগের শিক্ষার্থী আশিক মাহমুদ।এই খবর জানাজানি হলে মিছিলটি নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর হল ঘেরাও করেন আন্দোলনকারীরা। 

এ সময় ছাত্রলীগের কয়েকজন নেতাকর্মীকে নিয়ে বৈঠকে বসেন বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর হলের প্রাধ্যক্ষ নাজমুল হাসান তালুকদার। তখনো শিক্ষার্থীরা বিভিন্ন হলের সামনে ও ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ করছিলেন। পরে রাত দেড়টার দিকে ক্যাম্পাসের বিভিন্ন সড়কে বিক্ষোভ মিছিল করতে থাকেন আন্দোলনকারীরা। মিছিলটি রাত সোয়া ২টার দিকে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর হলের সামনে এলে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা বাধা দিয়ে মুখোমুখি অবস্থান নেন এবং নারী শিক্ষারথীদের কটাক্ষ করে মন্তব্য করেন।ফলে দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পরে।

এক পর্যায়ে রাত পৌনে ৩টার দিকে আন্দোলনকারীদের ওপর ছাত্রলীগ হামলা চালায়। হামলার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। এতে দেখা যায়, বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর হল ছাত্রলীগের সভাপতি পদপ্রত্যাশী ৪৬ ব্যাচের ছাত্র প্রাচুর্যসহ বেশ কয়েকজন হামলা করছেন। হামলায় আহসান লাবিব নামের একজন আন্দোলনকারী ও একজন নিরাপত্তা কর্মকর্তা আহত হয়েছেন।

বিশ্ববিদ্যালয়ের বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের জাবি শাখার সমন্বয়ক মাহফুজ ইসলাম মেঘ বলেন, প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যের প্রতিবাদে আমরা একটি বিক্ষোভ মিছিল ও জমায়েতের ডাক দিয়েছিলাম। এতে সাড়া দিয়ে বিভিন্ন হল থেকে শিক্ষার্থীরা জমায়েত শুরু করলে ২ শিক্ষার্থীকে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর হল ছাত্রলীগ তাদের ক্যান্টিন কক্ষে আটক করে রাখে। পরে আমরা আটককৃতদের মুক্ত করার জন্য এবং জড়িতদের শাস্তির দাবিতে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর হল ঘেরাও করেছি। পরে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা আমাদের বিক্ষোভে হামলা করে।

এ ঘটনার সিসিটিভি ফুটেজ দেখার দাবি জানান আন্দোলন শিক্ষার্থীরা। কিন্তু হল প্রশাসন তা দেখাতে গড়িমসি করলে শিক্ষার্থীদের তোপের মুখে পড়েন বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর হলের প্রাধ্যাক্ষ অধ্যাপক নাজমুল হাসান তালুকদার ও বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক আলমগীর কবীর। এরপর হল প্রশাসনের সঙ্গে একটি রুদ্ধদ্বার বৈঠক করেন হল ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা। বৈঠক শেষে হলের সামনে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের সঙ্গে মুখোমুখি অবস্থানে জড়ান ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা। ছাত্রলীগের দাবি, শিক্ষার্থীদের সিসিটিভির ফুটেজ চাওয়ার এখতিয়ার নেই। এ সময় দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনাকর পরিস্থিতি বিরাজ করে। 

পরে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের ধাওয়া খেয়ে হলে অভ্যন্তরে আশ্রয় নেন ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা। আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা জানান, ‘হল প্রশাসনের উসকানিতে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা তাদের সঙ্গে বিবাদের জড়ানোর সাহস পেয়েছে।’ 

পরে শিক্ষার্থীদের তোপের মুখে পড়ে পদত্যাগ করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর হলের প্রাধ্যক্ষ অধ্যাপক নাজমুল হাসান তালুকদার।

এদিকে রাত ৩টার দিকে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য (শিক্ষা) অধ্যাপক মোস্তফা ফিরোজ। ঘটনার সঙ্গে জড়িত দুইপক্ষের সঙ্গে আলাদাভাবে আলোচনা শেষে তিনি বলেন, ‘দু’পক্ষের অভিযোগ শুনেছি। এ ঘটনা যেহুতু বিশ্ববিদ্যালয়ের অভ্যন্তরে ঘটেছে, তাই নিয়ম অনুযায়ী, একটি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ঘটনার তদন্ত করা হবে। আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা সিসিটিভির ফুটেজ দেখতে চেয়েছি। আজ (সোমবার) সকাল ১১টায় তাদের আমার সঙ্গে দেখা করতে বলেছি।’

ডিএনএন/১৫জুলাই/এলএস