৩ কার্তিক, ১৪৩৩
১৮ অক্টোবর, ২০২৬

মহাসড়কে আলু ফেলে মোহনপুরে কৃষকদের বিক্ষোভ

Admin Published: February 2, 2025, 5:16 pm
মহাসড়কে আলু ফেলে মোহনপুরে কৃষকদের বিক্ষোভ

স্টাফ রিপোর্টার : আলু সংরক্ষণে হিমাগারগুলোর ভাড়া বৃদ্ধির প্রতিবাদে রাজশাহীর মোহনপুরে মহাসড়কে আলু ফেলে বিক্ষোভ ও অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছেন তিন উপজেলার চাষিরা। রবিবার দুপুর ১২টার দিকে রাজশাহী-নওগাঁ মহাসড়কে এই কর্মসূচি পালন করা হয়। পরে তারা মোহনপুর উপজেলা পরিষদ চত্বরে সমাবেশ করেন। 

কর্মসূচিতে জেলার তানোর, পবা ও মোহনপুর উপজেলার চাষিরা অংশ নেন। পরে মোহনপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আয়েশা সিদ্দিকাকে স্মারকলিপি প্রদান করেন। 

কৃষকরা জানান, প্রতি কেজি আলুর সংক্ষণের জন্য আগে ৪ টাকা ভাড়া দিতে হতো। সম্প্রতি তা বৃদ্ধি করে ৮টাকা করেছে কোল্ড স্টোরেজের মালিকেরা। আলু সংক্ষণের ভাড়া কমানো না হলে অবস্থান কর্মসূচি চালিয়ে যাবার ঘোষণা দেন তারা। পাশাপাশি মহাসড়ক অবরোধ যাবার হুমকি দেন কৃষকেরা।

এদিকে মোহনপুর উপজেলা পরিষদ চত্বরে এই বিক্ষোভ কর্মসূচি পালনকালে তানোর-মোহনপুর সড়কেও আলু ফেলে বিক্ষোভ করেন চাষিরা। এতে ওই সড়কে যান চলাচল সাময়িক সময়ের জন্য বন্ধ হয়ে যায়। পরে কৃষকেরা চলে গেলে আবারও যান চলাচল স্বাভাবিক হয়। এসময় চাষিরা কঠোর আন্দোলনের পাশাপাশি মহাসড়ক অবরোধের হুমকি দেন। 

আলুচাষিরা বলেন, গত মৌসুমে হিমাগারে আলুর ভাড়া ছিল প্রতি বস্তা ২৫৫ টাকা। কিন্ত এবার দাম বাড়িয়ে বস্তায় (৬৫ থেকে ৭০ কেজি) নতুন মূল্য ২৮৫ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। আলুচাষি ও ব্যবসায়ীদের সঙ্গে চুক্তিপত্রও স্বাক্ষর হয়েছে। বর্তমানে তারা সেই চুক্তিপত্র বাতিল করে নতুন করে কেজি প্রতি আলুর ভাড়া নির্ধারণ করেন ৮ টাকা। যা আগের নির্ধারিত মূল্যের দ্বিগুণ।

চাষিরা বলেন, মৌসুমে তানোর উপজেলায় ৭০ শতাংশ জমিতে আলুর চাষাবাদ হয়। এই উপজেলার অর্থনীতিতে আলুর ব্যাপক ভূমিকা রয়েছে। শুধু তাই নয়, আলুর মৌসুমে অনেক মানুষের কর্মসংস্থান হয়। তবে সাম্প্রতিক কোল্ড স্টোরেজগুলোতে আলু সংরক্ষণের ভাড়া প্রতি কেজিতে চার টাকা বাড়ানো হয়েছে। এতে করে আলু সংরক্ষণের খরচ ডাবল হয়ে গেছে। আমরা চাই আগের দামে আলু সংরক্ষণ করা হোক।

এ বিষয়ে মোহনপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আয়েশা সিদ্দিকা বলেন, উপজেলা চত্বরে চাষিরা সমাবেশ করেছেন। পরে তারা একটি স্মারকলিপি জমা দিয়েছেন। বিষয়টি জেলা প্রশাসনের উর্ধতন পর্যায়ে অবগত করা হবে।

প্রসঙ্গত, রাজশাহী জেলায় বর্তমানে ৩৬টি কোল্ড স্টোরেজ রয়েছে। এর আগে গত জানুয়ারির প্রথম দিকে তানোর উপজেলার কৃষকরা একই দাবিতে এলাকায় বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করে।