টানা পাঁচবার এলাকায় ইউপি চেয়ারম্যান অধ্যাপক আবুল কালাম আজাদ
স্টাফ রিপোর্টার: আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে রাজশাহী-৩ (পবা-মোহনপুর) আসনে জামায়াতে ইসলামী মনোনীত প্রার্থী ও টানা ৫ বারের ইউপি চেয়ারম্যান অধ্যাপক আবুল কালাম আজাদের বিরুদ্ধে মসজিদের জমি বিক্রির গুজব ছড়ালেও তার প্রমাণ দিতে পারেন নি বিএনপির নেতারা। এখন এলাকাবাসী বলছেন ‘চিলে নেওয়া কানের’ পেছনে দৌড়াচ্ছেন বিএনপি নেতারা।
জানা গেছে, গত কদিন ধরে এলাকায় প্রচার চলছে মসজিদের একবিঘা জমি বিক্রি করে দেওয়া হয়েছে। রাজশাহীর হড়গ্রাম ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান ও মসজিদের সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক আবুল কালাম আজাদ জমি বিক্রি করেছেন বলে ফেসবুকে পোস্ট দেওয়া হয়। বলা হয়, চেয়ারম্যান মসজিদের জমি বিক্রি করে দিয়েছেন। তবে বাস্তবে কোনো জমিই বিক্রি হয়নি। প্রচার চালানো বিএনপি নেতারাও এর প্রমান দিতে পারেন নি।
চলমান গুজবের প্রেক্ষিতে গত শনিবার সংবাদ সম্মেলন করে আবুল কালাম আজাদ জানিয়েছিলেন, স্থানীয় বিএনপির নেতারা তার বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালিয়েছেন। এ নিয়ে সর্বশেষ মঙ্গলবার বিএনপি নেতারা পাল্টা সংবাদ সম্মেলন করলেও জমি বিক্রি করে দেওয়ার বিষয় এড়িয়ে এখন বলছেন, ‘জমি বিক্রি করার চেষ্টা হয়েছিল’।
জানা গেছে, মসজিদটি রাজশাহী শহরের উপকণ্ঠ পবা উপজেলার আদাড়িয়াপাড়ায়। মসজিদের জমি বিক্রির খবরে স্থানীয়দের মধ্যে কয়েকদিন ধরেই বিরূপ প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়। তবে বিএনপি নেতারা এ নিয়ে সংবাদ সম্মেলন করলেও জমি বিক্রির বিষয়ে কোনো তথ্যই দিতে পারেন নি।
জানা গেছে, ইউপি চেয়ারম্যান আবুল কালাম আজাদ জামায়াতে ইসলামীর রাজশাহী মহানগরীর সুরা কর্মপরিষদ সদস্য ও ত্রাণ ও পুনর্বাসন সম্পাদক। ১৯৯৮ সাল থেকে এ পর্যন্ত একটানা পাঁচবার তিনি পবার হড়গ্রাম ইউপির নির্বাচিত চেয়ারম্যান। আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে রাজশাহী-৩ (পবা-মোহনপুর) আসনে জামায়াত তাকে দলীয় প্রার্থী ঘোষণা করেছে। তিনি ১৯৮৬ সাল থেকে আদাড়িয়াপাড়া জামে মসজিদ কমিটির সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। অথচ গত কয়েকদিন ধরে স্থানীয় বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের ফেসবুক আইডিতে পোস্ট দেওয়া হয় যে, আবুল কালাম আজাদ মসজিদের একবিঘা জমি বিক্রি করে দিয়েছেন। এ নিয়ে পাল্টাপাল্টি সমালোচনা শুরু হলে মঙ্গলবার (২৩ সেপ্টেম্বর) দুপুরে আদাড়িয়াপাড়া এলাকায় সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করেন স্থানীয় বিএনপি নেতারা। সেখানে ছিলেন হড়গ্রাম ইউনিয়ন বিএনপির আহ্বায়ক নাজিম উদ্দিন, সাবেক সাধারণ সম্পাদক রিয়াজুল ইসলাম, পাশের দামকুড়া ইউনিয়ন বিএনপির আহ্বায়ক মো. সোহেল ও মসজিদ কমিটির সদস্য তসলিম উদ্দিন, আসগর আলী ও মাইনুল মাষ্টার। সংবাদ সম্মেলনে তসলিম বলেন, জমি আসলে বিক্রি হয়নি। বিক্রির প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছিল। জানতে চাইলে মসজিদ কমিটির সভাপতি তোফাজ্জল হোসেন বলেন, ‘কোনো জমিই বিক্রি হয়নি।
এদিকে অভিযোগ উঠেছে, এ মসজিদ কমিটির সদস্য তসলিম উদ্দিন বিএনপি করেন। তিনিই জামায়াত নেতাকে ঘায়েল করতে বিএনপি নেতাকর্মীদের দিয়ে অপপ্রচার চালান যে মসজিদের জমি বিক্রি করা হয়েছে। এখন তা প্রমাণ করতে না পেরে বলছেন জমি বিক্রির প্রস্তুতি চলছিল।
তসলিম উদ্দিনের ভাতিজা সাহেব আলী বলেন, জমি বিক্রি করার বিষয়টি পুরোটিই অপপ্রচার। আমার চাচা প্রথমে এই অপপ্রচার করেন। এখন দেখছি বিষয়টা ‘চিলে কান নেওয়ার মতো।’ মসজিদ কমিটির সদস্য শামসুল আলম, আবুল কালাম, সাবের আলী, বাবর আলী বলেন, এটি পুরোপুরি রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে অপপ্রচার।
ইউপি চেয়ারম্যান আবুল কালাম আজাদ বলেন, ‘আমি টানা পাঁচবার এলাকায় ইউপি চেয়ারম্যান হয়েছি। এই অপপ্রচারকারীরা কোনোদিন আমাকে ভোট দেয়নি। প্রত্যেক ভোটের আগে কিছু না কিছু অপপ্রচার করে। তারা দেখছে যে, এসব করেও পাঁচবার চেয়ারম্যান হওয়া ঠেকানো যায়নি, এবার আবার আমি এমপি হতে পারি। সে জন্য এমন অপপ্রচার। তিনি এ বিষয়ে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনী পদক্ষেপ নিবেন বলে জানান।