২ বৈশাখ, ১৪৩৩
১৬ এপ্রিল, ২০২৬

নিষিদ্ধ হয়ে চিকিৎসকের ওপর দায় চাপালেন মাবিয়া

Admin Published: April 13, 2026, 1:06 pm
নিষিদ্ধ হয়ে চিকিৎসকের ওপর দায় চাপালেন মাবিয়া

ডিএনএন ডেস্ক: ডোপ পরীক্ষার জন্য মাবিয়া আক্তার সীমান্তের নমুনা নেওয়া হয়েছিল ২০২৫ সালের ২৯ অক্টোবর। সৌদি আরবের রিয়াদে অনুষ্ঠিত ইসলামিক সলিডারিটি গেমসের আগে এ ভারোত্তোলকের নমুনা পাঠিয়ে দেওয়া হয় দক্ষিণ কোরিয়ায়। সাড়ে পাঁচ মাস পর জানা যায় মাবিয়া আক্তারের ডোপ পরীক্ষার ফল ‘পজিটিভ’। তাঁর শরীরে নিষিদ্ধ ‘ফুরোসেমাইন্ড’ ও ‘ক্যানরেনোন’-এর উপস্থিতি পাওয়া গেছে। এই ওষুধটি মূলত শরীর থেকে অতিরিক্ত পানি বের করে দেওয়ার কাজ করে। 


নিষিদ্ধ ওষুধ সেবন করায় সাউথ এশিয়ান রিজিওনাল অ্যান্টি-ডোপিং অর্গানাইজেশনের প্রতিবেদনের ভিত্তিতে আন্তর্জাতিক ডোপবিরাধী সংস্থা মাবিয়াকে দুই বছরের জন্য নিষিদ্ধ করেছে। নিষেধাজ্ঞার চিঠি গত বৃহস্পতিবার মাবিয়ার হাতে তুলে দেয় বাংলাদেশ অলিম্পিক অ্যাসোসিয়েশন। এই নিষেধাজ্ঞার জন্য মাবিয়া দায়ী করেছেন সংশ্লিষ্ট চিকিৎসক শফিকুর রহমানকে। নিষেধাজ্ঞার বিরুদ্ধে আপিল করবেন তিনি। এই নিয়ে বাংলাদেশের ক্রীড়াঙ্গনের ইতিহাসে তৃতীয় কোনো খেলোয়াড় ডোপ টেস্টে পজিটিভ হয়েছেন। এর আগে শরীরে নিষিদ্ধ উপাদান পাওয়ায় পজিটিভ হয়েছিলেন দুই ক্রিকেটার শহিদুল ইসলাম ও কাজী অনিক।


২০১২ সালে জাতীয় দলের হয়ে ক্যারিয়ার শুরু করা মাবিয়া আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় বাংলাদেশকে এনে দিয়েছেন পাঁচটি স্বর্ণ। ২০১৬ ও ২০১৯ সালের এসএ গেমসে টানা দুবার ভার তুলে স্বর্ণ জিতেছিলেন তিনি। সেই মাবিয়ার নিষেধাজ্ঞা আলোড়ন তুলেছে ক্রীড়াঙ্গনে। মূলত ইসলামিক সলিডারিটি গেমসের আগে মাবিয়ার পায়ে পানি জমতে থাকে। এ কারণে তিনি চিকিৎসকের কাছে গিয়েছিলেন। প্রায় ৮-৯ মাস চিকিৎসার মধ্য দিয়ে যাওয়া মাবিয়া ইসলামিক সলিডারিটি গেমসের আগে যেদিন নমুনা দিয়েছিলেন, সেদিন ডাক্তার শফিক নাকি ছিলেন। তাঁকে প্রেসক্রিপশন ও সব রিপোর্ট দেখিয়েছেন বলে দাবি এ ভারোত্তোলকের। 


গতকাল সমকালের সঙ্গে আলাপকালে মাবিয়া ক্ষোভ ঝাড়লেন চিকিৎসক শফিকুর রহমানের ওপর, ‘আমার যেদিন স্যাম্পল নেওয়া হয় সেদিন ডাক্তার শফিক ছিলেন। যাওয়ার পরে আমি যখন স্যাম্পল দেই, তখন তাঁকে বুঝিয়ে বলেছি আর আমার প্রেসক্রিপশন দেখিয়েছি। কী ওষুধ খাচ্ছি, সেগুলো দেখিয়েছে। সেদিন ভালোভাবে তিনি আমার মেডিকেল ব্যাকগ্রাউন্ড চেক করেননি। তিনি চেক না করে বলেন আরে যাও সমস্যা নাই, তোমার তো কখনও কিছু হয় না। তুমি স্যাম্পল দাও। ২৭ অক্টোবর ডাক্তার আমাকে যে প্রেসক্রিপশন লিখে দিয়েছে, সেটা আমার অ্যান্টি ডোপিংয়ের ফর্মে লেখা আছে। তিনি যদি দায়িত্ববান হতেন, তাহলে আজকে এই সমস্যায় আমি পড়তাম না। তিনি সতর্ক ছিলেন না। এবং তিনি ডোপিং স্যাম্পল কালেকশন করার প্রক্রিয়া অনুসরণ করেননি।’



নমুনা নেওয়ার সময় গার্ডিয়ানের স্বাক্ষর ছিল না বলে জানিয়েছেন মাবিয়া, গার্ডিয়ান হলো আমার ফেডারেশনের কেউ বা আমার টিমের সঙ্গে যে যাবেন, হতে পারেন ম্যানেজার। আমার স্যাম্পলের দিন কোনো গার্ডিয়ানের সাইন নেয়নি, তাহলে কি শফিক ভাই অ্যান্টি-ডোপিংয়ের রুলস ভাঙেননি, শুধু কি আমিই করেছি?’


মাবিয়ার দাবি পুরোটাই অস্বীকার করেছেন সংশ্লিষ্ট চিকিৎসক শফিকুর রহমান, ‘বড় গেমসের আগে আমরা অ্যাথলেটদের ডোপ টেস্ট করি। ইসলামিক সলিডারিটি গেমসের আগে ২৬ জনের নমুনা নেওয়া হয়। ডিসেম্বরের শেষ দিকে জানতে পারি মাবিয়ার ফল পজিটিভ এসেছে। আমরা তাকে বিষয়টি জানাই এবং জানতে চাই কেন সে আগে আমাদের জানায়নি। সাধারণত কনসালট্যান্টদের প্রেসক্রিপশন আমরা যাচাই করে দিই– কোনটা নিষিদ্ধ, কোনটা খাওয়া যাবে। তার ভুল হয়েছে, সে আমাদের জানায়নি। আমাদের ফোন করলেই পারত। এমনকি টেস্টের সময়ও সে প্রেসক্রিপশন দেখায়নি।’


ভারোত্তোলক থেকে নিষিদ্ধ মাবিয়া, অথচ বাংলাদেশ ভারোত্তোলন ফেডারেশনই জানে না। ভারোত্তোলন ফেডারেশনের সভাপতি মহিউদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘এটি ফেডারেশন জানে না। এটি সম্পূর্ণ তার (মাবিয়া) এবং অলিম্পিকের বিষয়।’ 


ঠিক কী কারণে নিষিদ্ধ হয়েছেন তা যেমন অজানা; তেমনি করে কোনো দিক বিবেচনায় আপিল করবেন, তা নিয়েও কিছু জানেন না মাবিয়া। তার কাছে মনে হয়েছে বিখ্যাত অ্যাথলেট বলেই কোনো একটি পক্ষ তার পেছনে উঠেপড়ে লেগেছেন, ‘আমি মাবিয়া আজকে ডোপ টেস্টে পজিটিভ হয়েছি, সেটা সবাই জানে; কিন্তু বিগতকালে এত অ্যাথলেটরা পজিটিভ হয়েছেন, তখন কি আপনারা জানেন? কেন মাবিয়ার বেলায় জানতে হলো। মাবিয়া একজন বিখ্যাত অ্যাথলেট, যদি জানাই, তাহলে আমি বিখ্যাত হব। যার বিখ্যাত হওয়ার শখ, সেই এগুলো করিয়েছেন। সবাই তো আমাকে ফাঁসির আসামি বলে ফেলেছেন। এখন আমি উচ্চ আদালতে আপিল করব, এটাই আমার অপশন। আমাকে জানতে হবে কোন প্রক্রিয়ায় আপিলটা করব। ডাক্তার শফিক এই ব্যাপারে আমার সঙ্গে কোনো কথা বলেন না। তিনি তো ডাক্তার, আমাকে রাস্তা দেখাবেন অথচ তিনি কথা বলেন না। আমি ষড়যন্ত্র দেখতে পাচ্ছি কিনা জানি না। এখন আমি অনুমাননির্ভর কী বলব। তবে শফিক যে একপাক্ষিকভাবে কথাবার্তা বলতেছেন, আমার কাছে কেন যেন মনে হয় তাঁর আগ্রহটা অনেক বেশি। এ ছাড়া আমার আর কোনো বক্তব্য নেই।’