৪ কার্তিক, ১৪৩৩
১৯ অক্টোবর, ২০২৬

নতুন সড়কে বড় ধ্বস, যোগাযোগ বন্ধ

Admin Published: July 1, 2025, 2:03 pm
নতুন সড়কে বড় ধ্বস, যোগাযোগ বন্ধ

স্টাফ রিপোর্টার : ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের অবহেলা ও দুর্নীতির কারণে রাজশাহীর পবা উপজেলার নওহাটা পৌর এলাকার একটি সড়কের বিশাল অংশ বৃষ্টির পানিতেই ধ্বসে গেছে। সড়কের দুই পাশে দুটি পুকুরের প্রোটেকশন ওয়াল নির্মাণ হলেও  ভরাট না করেই সড়কের কাজ শেষ করায় এ অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। ফলে দুই পারের মানুষের যোগাযোগ বন্ধ হয়ে গেছে। যানবাহন তো দুরের কথা ওই সড়কে এখন পায়ে হেটেও চলাচল করা যচ্ছে না। এ নিয়ে এলাকাবাসীর মধ্যে চরম ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

স্থানীয়রা জানান, নওহাটা পৌরসভার পাকুড়িয়া এলাকায় দুটি পুকুরের মাঝ দিয়ে যাওয়া সড়কটির বেশকিছু অংশ ধ্বসে গেছে। কয়েকদিনের ভারী বর্ষণের কারণে সড়ক ভেঙে পাকুড়িয়া উত্তর ও দক্ষিণ পাড়া মধ্যে সরাসরি যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। ফলে বিকল্প পথে অনেকটা পথ ঘুরে যাতায়াত করতে হচ্ছে স্থানীয়দের। যা তাদের দুর্ভোগ কারন হয়ে দাড়িয়েছে। স্থানীয়রা বলছেন, ঠিকাদারের অবহেলার জন্য সঠিক সময়ে পুকুর পাড়ের সুরক্ষা দেয়াল (প্রোটেকশন ওয়াল) নির্মাণের কাজ না করে সড়কের কাজ করায় বৃষ্টির তোড়ে মাটি সরে গিয়ে এই অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে।

সোমবার সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, নওহাটা পৌরসভার দুয়ারি থেকে পাকুড়িয়া স্কুল পর্যন্ত তিন হাজার ৫৫০ মিটার সড়কের কার্পেটিংয়ের কাজ চলছিল। কিন্তু পাকুড়িয়া উত্তর ও দক্ষিণ পাড়ার সংযোগস্থলে সড়কের একটি বড় অংশ ধ্বসে গেছে। এতে পথচারী চলাচলও পুরোপুরি বন্ধ হয়ে পড়েছে। 

এ ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয়রা। 

পাকুড়িয়া গ্রামের বাসিন্দা শহিদুল ইসলাম বলেন, সড়কটি হওয়ার খবরে আমরা খুব খুশি হয়েছিলাম। কিন্তু সঠিক সময়ে পুকুরের পাড়ের সুরক্ষা দেয়াল নির্মাণের কাজ না করাই এই দশা হলো। এখন আমাদের ছেলেমেয়েদের স্কুলে যেতেও কয়েক কিলোমিটার ঘুরতে হচ্ছে।

রাশিদা বেগম নামের একজন স্থানীয় বাসিন্দা বলেন, আমাদের দুর্ভোগের শেষ নেই। বিকল্প যে রাস্তাটি আছে, সেটিও ভাঙাচোরা ও কর্দমাক্ত। বর্ষার মধ্যে ওই রাস্তা দিয়ে চলাচল করা আরও কঠিন। অসুস্থ রোগী বা জরুরি প্রয়োজনে গাড়ি চলার কোনো উপায় নেই। 

জানা গেছে, নওহাটা পৌরসভার বিভিন্ন এলাকায় ২০ কোটি টাকার একটি প্রকল্পের আওতায় ১০টি সড়ক নির্মাণ করছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ‘মেসার্স জুয়েল ইলেক্ট্রোনিক্স এন্ড জেভি ওয়াশিমুল হক’। এই ১০টি সড়কের দৈর্ঘ্য ১২ হাজার ৭৫০ মিটার। এই প্রকল্পের মধ্যে দুয়ারি প্রাইমারি স্কুল হতে পাকুরিয়া প্রাইমারি স্কুল পর্যন্ত ৩ হাজার ৫৫০ মিটার রাস্তা কার্পেটিং করার কাজ চলমান রয়েছে। এরই মধ্যে ধ্ব পড়া সড়কটি এই প্রকল্পেরই অংশ।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের স্বত্বাধিকারী ওয়াশিমুল হক বলেন, তিন হাজার মিটার সড়কের কাজ প্রায় শেষ হলেও পুকুরের ওই অংশের কাজ বাকি ছিল। সেখানে সুরক্ষা দেয়ালের কাজ চলছিল। তবে ভারী বর্ষণের কারণে ওই জায়গার মাটি নরম হয়ে ধ্বসে গেছে। যে অংশটি ভেঙেছে, সেটি আমরা নিজ খরচেই আবার তৈরি করে দেব।

তবে নওহাটা পৌরসভার উপসহকারী প্রকৌশলী মো. তৌফিক হাসান বলেন, ‘ভারী বর্ষণে সড়কটির কিছু অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। আমরা ঠিকাদারকে জানিয়েছি, ক্ষতিগ্রস্ত অংশটি তাকেই মেরামত করতে হবে। এর জন্য পৌরসভা থেকে নতুন করে কোনো অর্থ বরাদ্দ দেওয়া হবে না। সুরক্ষা দেয়ালের কাজ শেষ হলেই সড়কটি ঢালাই করা হবে বলে জানান তিনি।