৪ কার্তিক, ১৪৩৩
১৯ অক্টোবর, ২০২৬

অ্যালকোহল বিক্রির অভিযোগে মাদ্রাসা শিক্ষকসহ চারজনের বিরুদ্ধে মামলা, গ্রেফতার ৩

Admin Published: August 30, 2025, 6:09 pm
অ্যালকোহল বিক্রির অভিযোগে মাদ্রাসা শিক্ষকসহ চারজনের বিরুদ্ধে মামলা, গ্রেফতার ৩

স্টাফ রিপোর্টার : এ্যালকোহল জাতীয় মাদকদ্রব্য দোকানে রেখে বিক্রির অভিযোগে রাজশাহীর বাগমারার ভবানীগঞ্জ ফাজিল মাদ্রাসার আরবির শিক্ষকসহ চারজনের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। বাগমারা থানার পুলিশ বাদী হয়ে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা করেছেন। এই মামলায় তিনজনকে শনিবার দুপুরে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

এর আগে গত শুক্রবার বিকেলে পুলিশ ২ হাজার ৩৮৮ বোতল নেশাজাতীয় এ্যালকোহলসহ তিনজনকে আটক করে পুলিশ। এরা হলো, অটোচালক সিয়াম হোসেন (২৫), দোকানের কর্মচারি সলতান আহমেদ ও অজ্ঞাত একজন। তবে অ্যালকোহলের মালিক মাদ্রাসা শিক্ষক পলাতক রয়েছেন। মাদ্রাসা ওই শিক্ষকের বিরুদ্ধে ফেরি করে এ্যালকোহল বিক্রির অভিযোগ রয়েছে।  তার নাম মোস্তাফিজুর রহমান (৪৯)। তিনি শিক্ষকতার পাশাপাশি হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসক। উপজেলা সদর ভবানীগঞ্জে তার হোমিও ওষুধের দোকান রয়েছে।

পুলিশ জানায়, একটি অটোরিকশায় করে এ্যালকোহল ভবানীগঞ্জ বাজারে আসছিল বলে পুলিশের কাছে খবর আসে। খবর পেয়ে বাগমারা থানার একদল পুলিশ কেশরহাট-ভবানীগঞ্জ সড়কের দেউলা এলাকা থেকে অটোরিকশা আটক করে। পরে সেখানে তল্লাশি চালিয়ে তিন কার্টুন নেশাজাতীয় এ্যালকোহল জব্দ করে পুলিশ।

অটোরিকশার চালক সিয়াম হোসেন (২৫) জানান, সেগুলো ভবানীগঞ্জ বাজারের প্রভাষক হোমিও ফার্মেসিতে পৌঁছে দিতে যাচ্ছিলেন। তিনি মালামাল তার অটোতে তুলে দিয়েছেন। পরে পুলিশের দলটি ভবানীগঞ্জ বাজারের প্রভাষক হোমিও ফার্মেসিতে অভিযান চালিয়ে সেখান থেকেও নেশাজাতীয় এ্যালকোহল উদ্ধার করে। এসময় দোকানের কর্মচারী দরগা মাড়িয়া গ্রামের সুলতান আহম্মেদকে (৫৩) আটক করে। তবে অভিযানের টের পেয়ে শিক্ষব মোস্তাফিজুর সটকে পড়েন।

এদিকে ওই শিক্ষকের দোকান থেকে মাদকদ্রব্য উদ্ধার নিয়ে স্থানীয় লোকজন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে সমালোচনা শুরু করেছেন। লোকজন তাকে গ্রেফতারের পাশাপাশি উপজেলার অন্যান্য ফার্মেসিতে অভিযান চালানোর দাবি জানান। তারা বলেন, মাদকসেবীরা এসব এ্যালকোহল মাদকদ্রব্য হিসেবে সেবন করে। স্থানীয় ভাবে এর নাম ‘এইট্রি’ হিসেবে পরিচিত।

পুলিশ জানায়, মোস্তাফিজুর রহমানের বিরুদ্ধে ফেরি করে মাদকদ্রব্য বিক্রির অভিযোগ রয়েছে। তিনি নিজের লোকদের মাধ্যমে মাদকসেবীদের ও আশাপাশের ছোট দোকানিদের কাছে বিক্রি করেন। বাগমারা থানার ওসি তৌহিদুল ইসলাম জানান, এই বিষয়ে পুলিশ বাদী হয়ে প্রভাষক মোস্তাফিজুর রহমানসহ সহযোগীদের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। তাদের কোর্টে চালান দেওয়া হয়েছে।#