স্টাফ রিপোর্টার : এ বছর রাজশাহী বিভাগে কোরবানির জন্য ৪৩ লাখ গরু, মহিষ, ছাগল ও ভেড়া প্রস্তুত রয়েছে। বিভাগের সব কোরবানির হাটে প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তারা উপস্থিত থেকে এসব বিষয়ে মনিটরিং করবে। সোমবার রাজশাহীতে অনুষ্ঠিত বিভাগীয় উন্নয়ন সমন্বয় সভায় এ তথ্য উপস্থাপন করে প্রাণীসম্পদ বিভাগ।
একই সভায়, এ অঞ্চলে আম বিক্রির পরিমান নিয়ে আলোচনা করা হয়। এছাড়া সভায় বয়স্ক ভাতা প্রাপ্তদের মধ্যে যারা মারা গেছেন দ্রুত তাদের নামের তালিকা প্রতিস্থাপনের তাগিদ দেওয়া হয়।
সভায় রাজশাহী বিভাগীয় কমিশনার খোন্দকার আজিম আহমেদ বলেছেন, রাজশাহীতে ১৫টির মতো সরকারি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠান রয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠান ও অন্যান্য সরকারি দফতরের অবকাঠামো এবং উপকরণগুলোর শতভাগ ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে। আমরা সবাইকে নিয়ে একত্রে এগিয়ে যেতে চাই। বিভাগীয় কমিশনারের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত সভায় তিনি সভাপতিত্ত্ব করেন।
সভাঢয় আম বিক্রির পরিমাপ নিয়ে কৃষকদের অসন্তোষ প্রসঙ্গে আজিম আহমেদ বলেন, কেনা-বেচার সময় ওজনে কম দেওয়া হযরত সোয়াইব (আ.) এর কওমের লক্ষণ, তারা এজন্য ধ্বংস হয়ে গেছে। ৫২ কেজিতে মণ হিসেবে আম ক্রয় গ্রহণযোগ্য নয়। লিচু বিক্রয়ের ক্ষেত্রেও পরিমাণ যেন ঠিক থাকে সেজন্য তিনি ভোক্তা সংরক্ষণ অধিদপ্তরের নজরদারি বৃদ্ধির নির্দেশনা দেন।
তিনি বলেন, বয়স্ক ভাতা প্রাপ্তদের মধ্যে যারা মারা গেছেন দ্রুত তাদের নামের তালিকা প্রতিস্থাপন করতে হবে। এজন্য তিনি সমাজসেবা দফতরের প্রতিনিধিকে তাগিদ দেন। একই সাথে ভোটার তালিকা থেকে মৃত ব্যক্তিদের বাদ দেওয়ার জন্য নির্বাচন কর্মকর্তাদের আন্তরিক হওয়ার অনুরোধ জানান বিভাগীয় কমিশনার।
সভায় কৃষি দফতরের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এ বছর রাজশাহী অঞ্চলে আলু ও ভুট্টা চাষ বেশি হওয়ায় বোরো আবাদ কিছুটা কম হয়েছে। পেঁয়াজ চাষিরা যেন ন্যায্য মূল্য পায় সেজন্য ধানের মতো পেঁয়াজও সরকারিভাবে ক্রয় করা যায় কিনা তা ভেবে দেখার অনুরোধ জানিয়েছেন পাবনার জেলা প্রশাসক। পেঁয়াজের হঠাৎ মূল্য বৃদ্ধি বিষয়ে কৃষি বিপণন অধিদফতর থেকে জানানো হয়েছে, গত বছর এ সময় পেঁয়াজের যা মূল্য ছিল বর্তমান মূল্য তার থেকে বেশি নয়। সভায়, প্রাণিসম্পদ দফতর থেকে জানানো হয়, এ বছর রাজশাহী বিভাগে কোরবানির জন্য ৪৩ লাখ গরু, মহিষ, ছাগল ও ভেড়া প্রস্তুত রয়েছে।
বিভাগীয় ক্রীড়া দফতরের দায়িত্বে থাকা যুব উন্নয়ন অধিদফতরের উপপরিচালক জানিয়েছেন, রাজশাহী বিভাগ অনূর্ধ্ব-১৮ বালক ফুটবল দল এবার জাতীয় পর্যায়ে চ্যাম্পিয়ন হয়েছে এবং অনূর্ধ্ব-১৪ বালক দল রানার আপ হয়েছে। অন্যদিকে প্রাথমিক পর্যায়ে মেয়েদের ফুটবল দলও চ্যাম্পিয়ন হয়েছে।
সভায় রাজশাহী বিভাগের ৮ জেলার জেলা প্রশাসক এবং বিভাগীয় পর্যায়ে দফতরসমূহের প্রধানরা উপস্থিত ছিলেন।