স্টাফ রিপোর্টার : রাজশাহী মুসলিম উচ্চ বিদ্যালয়ে সহকারী প্রধান শিক্ষকসহ অন্যান্য শিক্ষকদের লাঞ্ছিত করার ঘটনার জেরে শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও কর্মচারী-অভিভাবকদের মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে। এ ঘটনায় বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা রোববার দুপুরে জরুরি সভা করেন এবং পরে স্কুলের সভাপতি ও রাজশাহীর অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার মোহাম্মদ হাবিবুর রহমানের সাথে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন। সাক্ষাৎ শেষে তারা সভার রেজুলেশন ও লিখিত অভিযোগ জমা দেন।
ঘটনাটি ঘটে বার্ষিক পরীক্ষা চলাকালীন সময়ে। দশম শ্রেণীর এক শিক্ষার্থীর স্কুলে ‘ছাত্রত্ব’ সন্দেহজনক হওয়ায় প্রধান শিক্ষক একরামুল হক স্কুলের কম্পিউটার ল্যাব অ্যাসিস্ট্যান্ট আব্দুল্লাহ ইবনে শরীফকে বিষয়টি নিশ্চিত করতে বলেন। বেলা ১২টার দিকে শিক্ষার্থীর অভিভাবক খাইরুল আলম অফিস সহকারী ফরহাদ হোসেন, ল্যাব অ্যাসিস্ট্যান্ট আব্দুল্লাহ ইবনে শরীফ এবং সহকারী প্রধান শিক্ষক আব্দুল হামিমকে লাঞ্ছিত করেন। পরে অন্যান্য শিক্ষকরা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করলে খাইরুল আলম তাদের উপরও চড়াও হন এবং বিভিন্ন হুমকি প্রদান করেন।
উদ্ভুত পরিস্থিতিতে শিক্ষকরা দুপুর দেড়টার দিকে টিচার্স রুমে জরুরি সভা করেন। সভায় সভাপতিত্ব করেন সহকারী প্রধান শিক্ষক আব্দুল হামিম। সিনিয়র শিক্ষকরা যথাক্রমে মনিরা ফেরদৌসী, সাবিনা ইয়াসমিন, মোহা. তরিকুল ইসলাম, ইস্তেকোয়ামুল এহসান বিদ্যুৎ এবং অন্যান্য সহকারী শিক্ষকরা উপস্থিত ছিলেন। সভায় শিক্ষকরা অভিভাবক খাইরুল আলম কর্তৃক লাঞ্ছিত হওয়ার ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানান।
উদ্ভুত পরিস্থিতিতে শিক্ষকরা দুপুর দেড়টার দিকে টিচার্স রুমে জরুরি সভা করেন। সভায় সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়, খাইরুল আলমের প্রলোভন এবং শিক্ষার পরিবেশ নষ্ট করার চেষ্টা এভাবে চলতে দেওয়া যাবে না। প্রধান শিক্ষক ও অভিভাবকের গভীর সম্পর্কের কারণে শিক্ষক-কর্মচারীদের উপর হুমকির ঘটনা ঘটেছে; তাই খাইরুল আলমকে বিদ্যালয়ে প্রবেশ নিষিদ্ধ করা হবে। এছাড়াও খায়রুল আলমের নাতী পঞ্চম শ্রেণীর শিক্ষার্থী আব্দুল্লাহ আল রাফিকে বিদ্যালয় থেকে ছাড়পত্র (টিসি) দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
সভায় গত ৪ নভেম্বর প্রধান শিক্ষক একরামুল হকের বিরুদ্ধে আর্থিক লেনদেন, নারী সহকর্মীদের সঙ্গে অশালীন আচরণ ও প্রশাসনিক অনিয়মসহ অভিযোগ দায়েরের বিষয়েও আলোচনা করা হয়। শিক্ষকরা প্রধান শিক্ষকের সাময়িক বরখাস্ত এবং উচ্চতর তদন্ত কমিটি গঠনের মাধ্যমে তদন্ত দ্রুত সম্পন্ন করার দাবি করেন।
সভায় গৃহীত সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, শিক্ষকরা বিকেল ৩টার দিকে রাজশাহী বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়ে গিয়ে অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার মোহাম্মদ হাবিবুর রহমানের সাথে সাক্ষাৎ করেন। তারা বিদ্যালয়ের সার্বিক পরিস্থিতি অবহিত করেন এবং অবিলম্বে প্রধান শিক্ষককে সাময়িক বরখাস্তের দাবি জানান। সাক্ষাত শেষে শিক্ষকরা লিখিত অভিযোগ ও সভার রেজুলেশনের ফটোকপি জমা দেন।