স্টাফ রিপোর্টার, রাজশাহী ॥ রাজশাহীর দুটি আসনের ভোট পুণ:গণনার দাবি জানিয়েছেন পরাজিত বিএনপির মনোনীত প্রার্থীরা। রাজশাহী-১ (তানোর-গোদাগাড়ী) ও রাজশাহী-৪ (বাগমারা) আসনে নির্বাচনে অনিয়ম ও কারচুপির অভিযোগ তুলে পৃথক আবেদন করা হয়।
রাজশাহী-১ আসনের প্রার্থী মেজর জেনালেন (অব) শরীফ উদ্দিন ও রাজশাহী-৪ আসনের প্রার্থী ডিএমডি জিয়া পৃথকভাবে জেলা রিটার্নিং অফিসারের কাছে আবেদন করেন। এরমধ্যে মেজর শরীফের আবেদনের প্রেক্ষিতে রাজশাহী জেলা রিটার্নিং অফিসার ও জেলা প্রশাসক আফিয়া আখতার এ বিষয়ে পরবর্তি পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য নির্বাচন কমিশনের সিনিয়র সচিব বরাবর চিঠি দিয়েছেন।
এদিকে শনিবার রাজশাহী জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগে বাগমার আসনের ডিএমডি জিয়ার অভিযোগে স্থানীয় প্রশাসনের একটি অংশ, সেনাবাহিনী ও পুলিশের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়।
এই আসনে জামায়াতের প্রার্থী আবদুল বারী সরদার এক লাখ ১৩ হাজার ৫৬৭ ভোট পেয়ে বেসরকারি ভাবে নির্বাচিত হয়েছেন। তাঁর নিকটতম প্রার্থী বিএনপির ডিএমডি জিয়াউর রহমান পেয়েছেন এক লাখ আট হাজার ৬৬৪ ভোট। অপরদিকে রাজশাহী-১ আসনে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী অধ্যাপক মুজিবুর রহমান ১ লাখ ৭১ হাজার ৭৮৬ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির প্রার্থী মেজর জেনারেল (অব.) শরীফ উদ্দীন পেয়েছেন ১ লাখ ৬৯ হাজার ৯০২ ভোট।
ডিএম জিয়া তার আবেদনে ভোট বাতিল ও পুনঃ গণনার দাবি জানিয়ে অভিযোগ করেন, প্রশাসনের কিছু অংশের সহযোগিতায় বিতর্কত ফলাফল ঘোষণা করা হয়েছে। প্রশাসন ভয়ভীতি দেখিয়ে নির্বাচনকে প্রভাবিত করেছে। প্রশাসন মাত্র পাঁচ হাজার ৭৬৫ ভোট বেশি দেখিয়ে জামায়াতের প্রার্থীকে বিজয়ী ঘোষণা করেছে। প্রশাসন বিগত ২০২৪ সালে আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে অনুষ্ঠিত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দায়িত্ব পালন করা প্রিসাইডিং ও সহকারী প্রিসাইডিং কর্মকর্তাদের এবারও দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তাঁরাই নির্বাচনের দায়িত্ব পালন করেছেন। এছাড়াও উপজেলার শুভডাঙ্গা, বাসুপাড়া, কামচারী কোয়ালিপাড়া, যোগীপাড়া, হামিরকুৎসা, ভবানীগঞ্জ ও মাড়িয়া ইউনিয়নের ৩৯ টি ভোটকেন্দ্রে অনিয়মের অভিযোগ আনা হয়।
এছাড়াও শ্রীপুর, গণিপুর, তাহেরপুর, ঝিকড়া ও যোগীপাড়া ইউনিয়নের কয়েকটি কেন্দ্রে সেনবাহিনী এবং পুলিশের সদস্যরা ভোটারদের ভয়ভীতি প্রদর্শন ও লাঠিচার্জ করেছে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়। এসব এলাকার ভোটকেন্দ্রের দায়িত্বে থাকা প্রিসাইডিং কর্মকর্তাদের বের করে দেওয়া হয়েছে। তাঁদের ( প্রিসাইডিং কর্মকর্তা) স্বাক্ষর ছাড়াই মনগড়া ফলাফল ঘোষণা করা হয়েছে বলেও অভিযোগে উল্লেখ করেন বিএনপির প্রার্থী। তিনি পোস্টাল ভোট গণনায় অনিয়মের অভিযোগ করা ছাড়াও কয়েকটি ভোটকেন্দ্র থেকে ধানের শীষের পোলিং এজেন্টদের বের করে দেওয়া হয়েছে বলে উল্লেখ করেন।
পৃথক অভিযোগে রাজশাহী-১ আসনের বিএনপি প্রার্থী মেজর জেনারেল (অব) শরীফ উদ্দিন উল্লেখ করেন ঘোষিত ফলাফলে তাকে মাত্র ১৮৮৪ ভোটে পিছিয়ে দেখানো হয়েছে। এই ফলাফল যথাযথ ও নির্ভুল নয় বলে দাবি করা হয়। এছাড়া নির্বাচনে তার প্রায় ৮ হাজার ভোট বাতিল ঘোষণা করা হয়েছে। এত বিপুল সংখ্যক ভোট বাতিল হওয়ার পেছনে কী কারণ, তা অস্বাভাবিক ও প্রশ্নবিদ্ধ বলে উল্লেখ করা হয়।
তিনি অভিযোগ করেন, কিছু কেন্দ্রে প্রিসাইডিং অফিসারদের ভূমিকা ছিল স্পষ্টত পক্ষপাতদুষ্ট। একই ইউনিয়ন বা এলাকার অন্যান্য কেন্দ্রে বিপুল ভোটে জয়ী হলেও, কয়েকটি নির্দিষ্ট কেন্দ্রে অস্বাভাবিকভাবে ফলাফল পরিবর্তিত হয়েছে। এতে নির্বাচনী ‘ইঞ্জিনিয়ারিং’-এর সুস্পষ্ট আলামত বলে উল্লেখ করা হয়।