স্টাফ রিপোর্টার : প্রশাসনের হস্তক্ষেপে রাজশাহীর মোল্লাপাড়া এলাকায় আদিবাসী পাহাড়িদের বসতভিটা থেকে উচ্ছেদ পরিকল্পনা ভেস্তে যাওয়ার পর তাদের পাশে দাড়িয়েছেন অনেকে। ভূমি দস্যুরা শুক্রবার পাড়াড়িদের উচ্ছেদের ঘোষণা দিলেও এদিন তারা কেউ অসেনি। তবে এদিন পাহাড়িয়াদের পাশে দাড়িয়েছেন রাজশাহীর বিক্ষুব্ধ নাগরিক সমাজ, মানবাধিকারকর্মী, আদিবাসী সংগঠনের নেতা, শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা।
তারা বলেছেন, এই জমি পাহাড়িয়াদের দিতে হবে, যাতে কেউ দখল করতে না পারে। বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানও তাদের খোঁজ নিয়েছেন। তিনি দলের স্থানীয় নেতাদের পাহাড়িয়াদের পাশে থাকতে বলেছেন বলে জানা গেছে।
এছাড়া জাতীয় নাগরিক পার্টিও (এনসিপি) পাহাড়িয়াদের পাশে রয়েছেন। দলটির কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম মুখ্য সমন্বয়ক কৈলাশ চন্দ্র রবিদাস জানিয়েছেন, তার দলের প্রধান নাহিদ ইসলামও বিষয়টি অবগত। তিনিও পাহাড়িয়াদের পাশে থাকার নির্দেশনা দিয়েছেন। জেলা সমন্বয়ক কমিটির যুগ্ম সমন্বয়কারী শামীমা সুলতানা মায়া সার্বক্ষণিক খোঁজ রাখছেন।
এখানে আইনি সহায়তা দিতে পাশে দাঁড়িয়েছে বাংলাদেশ লিগ্যাল এইড অ্যান্ড সার্ভিসেস ট্রাস্ট (ব্লাস্ট)। সংস্থার রাজশাহী ইউনিটের সমন্বয়কারী অ্যাডভোকেট সামিনা বেগম তাদের সঙ্গে কথা বলেছেন। এছাড়া জাতীয় আদিবাসী পরিষদ, আদিবাসী গবেষণা পরিষদ, সিসিবিভিও, পাহাড়িয়া ছাত্র পরিষদ, বরেন্দ্র ইয়ুথ ফোরাম, জুলাই-৩৬ পরিষদসহ নানা সংগঠন রয়েছেন।
এদিকে পাহাড়িয়াদের বসতবাড়ি রক্ষা এবং তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিতের দাবিতে শুক্রবার ওই মহল্লায় মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করা হয়। সেখানে বক্তব্য রাখেন, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগের অধ্যাপক ড. গোলাম সারোয়ার, আদিবাসী গবেষণা পরিষদের চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম, বাসদের জেলার সদস্য সচিব শামসুল আবেদীন ডন, এনসিপি নেত্রী শামীমা সুলতানা মায়া, মানবাধিকারকর্মী আরিফ ইথার, জাতীয় আদিবাসী পরিষদের সাংগঠনিক সম্পাদক সুভাষ চন্দ্র হেমব্রম, দপ্তর সম্পাদক প্রদীপ লাকড়া, পাহাড়িয়া ছাত্র পরিষদের উত্তম সিংহ প্রমুখ।
এছাড়াও অংশ নেন, আদিবাসী গবেষক রতন টপ্পো, সিসিবিভিও’র প্রতিনিধি বিপ্লব মুর্মু, সাংস্কৃতিক কর্মী সাগর হোসেন, বরেন্দ্র ইয়ুথ ফোরামের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আতিকুর রহমান, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী অনুপম প্রান্ত টুডু, বরেন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী সুশান্ত হেমব্রম, এডিশন মিনজ, তৃতীয় লিঙ্গের আবুল হাসনা পলি এবং পাহাড়িয়া জনগোষ্ঠীর নারী-পুরুষ। মানববন্ধনে এক পাহাড়িয়া নারী বলেন, আমাদের দাবি আমরা এখানেই থাকতে চাই। এই জায়গা আমরা ছাড়তে চাই না।
সিসিভিভিওর আরিফ ইথার বলেন, এখানে আদিবাসীরা ৫৩ বছর ধরে বাস করছেন। তারা থাকা অবস্থায় ১৯৯৪ সালে এ জমি বিক্রি হয় কি করে? যদি বিক্রি হয়ও তাহলে সাজ্জাদ এতদিন কোথায় ছিলেন?
রাজশাহী নগর পুলিশের কাশিয়াডাঙ্গা থানার ওসি আজিজুল বারী বলেন, নিরাপত্তা চেয়ে পাহাড়িয়ারা আবেদন করেছেন। তাদের নিরাপত্তায় আমরা আছি।
প্রসঙ্গত, রাজশাহী সিটি করপোরেশনের ২ নম্বর ওয়ার্ডের মোল্লাপাড়া মহল্লার ১৬ কাঠা জমিতে ৫৩ বছর আগে বাড়ি করার সুযোগ পান পাহাড়িয়া জনগোষ্ঠীর ছয়টি পরিবার। তিন প্রজন্মে বাড়ি বেড়ে হয় ১৬টি। সম্প্রতি সাজ্জাদ আলী নামের স্থানীয় এক ব্যক্তি দাবি তোলেন, ১৯৯৪ সালে তিনি এ জমি কিনেছেন। এখন দখল নেবেন। এ জন্য তিনি ভয় দেখিয়ে পাহাড়িয়াদের ১৬টি পরিবারকে টাকা দিয়েছেন। শুক্রবার খাসি জবাই করে তাদের খাওয়ানোর কথা ছিল।