স্টাফ রিপোর্টার : ভোটের লড়াই শেষে রাজশাহীর রাজনীতিতে সৌহার্দ্য ও সম্প্রীতির অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন প্রতিদ্বন্দ্বি প্রার্থীরা। বিশেষ করে রাজশাহীতে জয় পাওয়া চারটি আসনের নব নির্বাচিতদের ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানিয়ে এ দৃষ্টান্ত দেখিয়েছেন পরাজিত জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থীরা। একইসঙ্গে কোলাকুলি, ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা বিনিময় ও পরস্পরের মধ্যে মিষ্টিমুখ করিয়ে রাজনৈতিক সম্প্রীতি বজায় রাখার অঙ্গিকার করেন তারা।
শনিবার সকালে রাজশাহী-২ (সদর) আসনের নবনির্বাচিত বিএনপির প্রার্থী মিজানুর রহমান মিনুর বাসায় গিয়ে ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানান, মহানগর জামায়াতে ইসলামীর নেতৃবৃন্দ। এ সময় প্রতিদ্বন্দ্বি প্রার্থী ডা. মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর ছাড়াও নগর জামায়াতের শীর্ষ নেতারা উপস্থিত ছিলেন। এ সময় মিজানুর রহমান মিনু সবার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশের পর এক সঙ্গে রাজশাহী গড়ার অঙ্গিকার করেন।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে রাজশাহী-৩ (পবা-মোহনপুর) আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ লড়াই শেষে সৌহার্দ্য ও সৌজন্যমূলক রাজনীতির এক অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত স্থাপিত হয়েছে। নির্বাচনী উত্তাপ কাটিয়ে বিজয়ী ও পরাজিত দুই প্রার্থীই গণতান্ত্রিক চেতনার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন পারস্পরিক শুভেচ্ছা বিনিময়ের মাধ্যমে।
এ আসনে বিএনপির বিজয়ী প্রার্থী অ্যাডভোকেট শফিকুল হক মিলনকে ফুলেল শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানান, জামায়াতে ইসলামীর প্রতিদ্বন্দ্বি প্রার্থী অধ্যাপক আবুল কালাম আজাদ। দুপুরে হড়গ্রাম ইউনিয়নের আদাড়িয়া পাড়ায় অধ্যাপক আজাদের নিজ বাসভবনে এ শুভেচ্ছা বিনিময় অনুষ্ঠিত হয়। এ সময় উভয় নেতা একে অপরকে মিষ্টিমুখ করান।
এসময় জামায়াত নেতা অধ্যাপক আবুল কালাম আজাদ বলেন, নির্বাচনে জয়-পরাজয় থাকবেই। তিনি বলেন, বিএনপির প্রার্থী শফিকুল হক মিলন জনগণের রায়ে নির্বাচিত হয়েছেন। তাই এলাকার উন্নয়নে তাঁকে সর্বাত্মক সহযোগিতা করবো। বিএনপির নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট শফিকুল হক মিলন বলেন, নির্বাচন গণতন্ত্রের উৎসব। মতপার্থক্য থাকলেও আমাদের লক্ষ্য এক, জনগণের কল্যাণ। তিনি বলেন, এবারের নির্বাচন রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে ইতিবাচক পরিবর্তনের বার্তা দিয়েছে।
এদিকে রাজশাহী-৫ (পুঠিয়া-দুর্গাপুর) আসনের নবনির্বাচিত বিএনপির সংসদ সদস্য অধ্যাপক নজরুল মন্ডলের সাথে ফুলেল শুভেচ্ছা বিনিময় করেছেন জামায়াতের নেতারা। জামায়াতের প্রতিদ্বন্দ্বি প্রার্থী মাওলানা মনজুর রহমান এবং নির্বাচন মনিটরিং কমিটির প্রধান মুহাম্মদ নুরুজ্জামান লিটন বিএনপির নির্বাচিত নজরুল মন্ডলকে ফুলেল শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানান।
এসময় অধ্যাপক নজরুল ইসলাম নির্বাচন পরবর্তী সহিংসতা রোধ ও এলাকার শান্তিশৃঙ্খলা বজায় রাখতে কার্যকর ভূমিকা রাখার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। তিনি বলেন, আগামী দিনে এলাকার উন্নয়ন, শিক্ষা ব্যবস্থার আমূল পরিবর্তন, হানাহানির রাজনীতি পরিহারসহ সামাজিক ও রাজনৈতিক বিভেদ দূর করে মানুষের জীবনমানের গুণগত পরিবর্তনে একসাথে কাজ করার আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
একইদিন রাজশাহী-৬ (বাঘা-চারঘাট) আসনে বিএনপির বিজয়ী প্রার্থী আবু সাঈদ চাঁদকে শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানিয়ে নিজে ফুলের জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী নাজমুল হক। বিজয়ীকে পরাজিতের শুভেচ্ছা কিংবা বিজয়ী হয়ে পরাজিতের কাছে ছুটে যাওয়ার ঘটনা আজকাল বিরল হলেও এবারের নির্বাচনে সেই সংস্কৃতির পরিবর্তন সাধারণ মানুষ ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন। তারা বলছেন, এমন ঘটনা ইতিবাচক রাজনৈতিক সংস্কৃতির বহিঃপ্রকাশ। রাজশাহীর পবা উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব আব্দুর রাজ্জাক বলেন, ‘রাজনীতিতে সৌজন্য ও সহমর্মিতা গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করে। এমন শুভেচ্ছা বিনিময় রাজনৈতিক সম্প্রীতির অনেক বড় ইতিবাচক বার্তা।