৩ কার্তিক, ১৪৩৩
১৯ অক্টোবর, ২০২৬

রাজশাহীতে গাছ হত্যা বন্ধে সচেতন নগরবাসীর চিঠি প্রদান

Admin Published: October 11, 2025, 12:14 am
রাজশাহীতে গাছ হত্যা বন্ধে সচেতন নগরবাসীর চিঠি প্রদান

স্টাফ রিপোর্টার: রাজশাহী ওয়াসার ভূ-পৃষ্ঠস্থ পানি শোধনাগার প্রকল্পের আওতায় শতবর্ষী ও অর্ধশতাব্দীপ্রাচীন গাছ কাটা বন্ধে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে চিঠি দিয়েছে রাজশাহীর সচেতন নগরবাসী। বৃহস্পতিবার (৯ অক্টোবর ২০২৫) এই চিঠি সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোতে পৌঁছে দেওয়া হয়।


চিঠি প্রদান করা হয়েছে রাজশাহীর জেলা প্রশাসক আফিয়া আখতার, রাজশাহী ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালক পারভেজ রায়হান, সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী সানজিদা আফরিন ঝিনুক, সামাজিক বন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা ড. মো. জাহাঙ্গীর আলম এবং পরিবেশ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মোছা. তাছমিনা খাতুনের কাছে।


এ ছাড়া রেজিস্ট্রি ডাকযোগে চিঠি পাঠানো হয়েছে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. ফারহিনা আহমেদ; সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের সিনিয়র সচিব মো. এহছানুল হক; এবং স্থানীয় সরকার বিভাগের সচিব মো. রেজাউল মাকসুদ জাহেদীর নিকটেও।


চিঠিতে বলা হয়েছে, রাজশাহী নগরের পানির চাহিদা পূরণে ভূ-উপরিস্থ পানি ব্যবহার করে পানি শোধনাগার নির্মাণ প্রয়োজনীয় হলেও জনগুরুত্বপূর্ণ গাছের বিনিময়ে তা করা অনুচিত। কাটার জন্য চিহ্নিত গাছগুলোর বয়স আনুমানিক ৪০ থেকে ৬০ বছর, যাদের মধ্যে কিছু গাছের বয়স ১০ থেকে ১২ বছরও। এসব গাছের মধ্যে কড়াই, আম, নিমসহ বিভিন্ন দেশীয় প্রজাতির বৃক্ষ রয়েছে।


নগরবাসীর দাবি, জীববৈচিত্র্য ও পরিবেশ রক্ষার স্বার্থে গাছগুলো রেখে পানি শোধনাগারের পাইপলাইন স্থাপনের কাজ করা উচিত। সংবিধানের ১৮(ক) অনুচ্ছেদে রাষ্ট্র প্রাণ, প্রকৃতি ও পরিবেশের নিরাপত্তা বিধানের অঙ্গীকার করেছে। ফলে যেকোনো উন্নয়ন প্রকল্পের বাস্তবায়নে পরিবেশ সংরক্ষণ নিশ্চিত করা বাধ্যতামূলক। তাছাড়া বন্য প্রাণী (সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা) আইন, ২০১২–এর ২৩ ধারার আলোকে এই গাছগুলোকে জাতীয় ঐতিহ্য হিসেবে ঘোষণা করা সম্ভব।


চিঠিতে আরও উল্লেখ করা হয়, রাজশাহীর গোদাগাড়ী এলাকা প্রাকৃতিকভাবে ক্ষরাপ্রবণ এবং এখানকার আবহাওয়া রুক্ষ। ফলে এ অঞ্চলের প্রাকৃতিক ভারসাম্য রক্ষায় বেশি গাছের প্রয়োজন। রাস্তার দুই পাশে থাকা এসব গাছ শুধু ছায়া দেয় না, বরং বিভিন্ন প্রজাতির পাখির আবাসস্থলও তৈরি করেছে। ইতোমধ্যে এক পাশের গাছ কেটে ফেলার পর এলাকাটি অনেকটা মরুভূমির মতো হয়ে গেছে।


চিঠিতে স্বাক্ষর করেছেন—সবুজ সংহতির আহ্বায়ক ও নদী-পরিবেশ গবেষক মাহবুব সিদ্দিকী, উন্নয়নকর্মী মো. আফজাল হোসেন, মুক্তিযোদ্ধা ও জুলাই–৩৬ পরিষদের সভাপতি মাহমুদ জামাল কাদেরী, ‘সেভ দ্য নেচার অ্যান্ড লাইফ’-এর চেয়ারম্যান মো. মিজানুর রহমান, জর্জ কোর্ট রাজশাহীর এডভোকেট হোসেন আলী পিয়ারা, ‘ইয়ুথ অ্যাকশন ফর সোশ্যাল চেঞ্জ (ইয়্যাস)’–এর সাধারণ সম্পাদক মো. আতিকুর রহমান আতিক, বাংলাদেশ পরিবেশ আইনবিদ সমিতি (বেলা) রাজশাহী বিভাগের সমন্বয়কারী তন্ময় কুমার সান্যাল, ‘বারসিক’ বরেন্দ্র অঞ্চলের সমন্বয়কারী শহিদুল ইসলাম, বরেন্দ্র ইয়ুথ ফোরামের সভাপতি শাইখ তাসনীম জামাল, সামাজিক কল্যাণ সংস্থার নির্বাহী পরিচালক সম্রাট রায়হান, বাংলাদেশ ছাত্র ফেডারেশনের রাজশাহী মহানগর শাখার সাধারণ সম্পাদক নাদিম সিনা, সাংস্কৃতিক আন্দোলনকর্মী ওয়ালিউর রহমান বাবু, গ্রীন ভয়েস রাজশাহী কলেজ শাখার সভাপতি রাবেয়া খাতুন এবং ‘০.৬ গ্রাভিটি রাইডার্স’-এর সভাপতি মাসুম মাহবুবসহ অনেকে।