স্টাফ রিপোর্টার : রাজশাহীর গোদাগাড়ী উপজেলার বাসুদেবপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নজরুল ইসলামকে অস্ত্রের মুখে জোর করে পদত্যাগপত্রে স্বাক্ষর করিয়ে নেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। বৃহস্পতিবার রাজশাহীতে সংবাদ সম্মেলনে এ অভিযোগ করেন ভুক্তভোগী চেয়ারম্যান ও পরিষদের ৮ সদস্য।
লিখিত বক্তব্যে চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম বলেন, তিনি স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নৌকার বিরুদ্ধে বিজয়ী হয়ে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন এবং জনগণের সেবা করে আসছিলেন। নির্বাচনে আওয়ামী লীগ মনোনীত শফিকুল ইসলাম ও বিএনপি মনোনীত মাহফুজুর রহমান ডালিম পরাজিত হন। তবে ৫ আগস্টের ঘটনার পর মাহফুজুর রহমান ডালিম ও তার অনুসারীরা ইউনিয়নে সন্ত্রাসী কার্যক্রম শুরু করেন।
নজরুল ইসলামের অভিযোগ, গত বুুধবার দুপুরে ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয়ে কর্মরত অবস্থায় ডালিমের নির্দেশে তার ভাই ও সমর্থকদের নিয়ে একটি সশস্ত্র দল কার্যালয়ে ঢুকে পড়ে। তারা এলজিইডির রাস্তা পাকাকরণে অনিয়মের অভিযোগ তুলে পূর্ব পরিকল্পিতভাবে টাইপকৃত পদত্যাগপত্রে স্বাক্ষরের জন্য চাপ দেয়। তিনি অস্বীকৃতি জানালে তাকে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়। পরে দেশীয় অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে জোর করে স্বাক্ষর নেয় এ সব সন্ত্রাসীরা।
তিনি বলেন, অন্তত ৪০-৫০ জন দেশীয় অস্ত্র নিয়ে উপস্থিত ছিল। স্বাক্ষরের পর তারা ঘোষণা করে, আজ থেকে চেয়ারম্যান মোস্তাফিজুর রহমান ডালিম। এরপর স্থানীয়রা গোদাগাড়ী থানা, সেনাবাহিনী ও উপজেলা প্রশাসনকে খবর দেন। পরে পুলিশ ও সেনাবাহিনী গিয়ে তাকে উদ্ধার করে এবং অবরুদ্ধ অবস্থা থেকে মুক্ত করে বাড়িতে পৌঁছে দেয়।
চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম বলেন, পদত্যাগপত্রে তিনি প্রাণনাশের ভয়ে স্বাক্ষর করেছেন। তিনি বিষয়টি তদন্ত করে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।
সংবাদ সম্মেলনে ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য আলফাজ উদ্দিন, গোলাম আরিফ, কামরুজ্জামান, ওহাব আলী, লিটন, নারী সদস্য সাইদা খাতুন হীরা, সাবিনা ইয়াসমিন, সুখ জাহান বেগম প্রমুখ।