৩০ আশ্বিন, ১৪৩৩
১৫ অক্টোবর, ২০২৬

নগরীতে প্রতিপক্ষের হামলায় একই পরিবারের ৫ সদস্য আহত

Admin Published: October 12, 2026, 6:05 pm
নগরীতে প্রতিপক্ষের হামলায় একই পরিবারের ৫ সদস্য আহত

রাজশাহী মহানগরীর মতিহার থানাধীন ধরমপুর মধ্যপাড়া এলাকায় রাস্তার জায়গা দখল করে সীমানাপ্রাচীর নির্মাণকে কেন্দ্র করে প্রতিপক্ষের হামলায় একই পরিবারের ৫ সদস্য আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে পাঁচজনকেই রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। রোববার (১১ অক্টোবর) বিকালে মহানগরীর ধরমপুর মধ্যপাড়া এলাকায় এ হামলার ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে হামলাকারী পিতা আব্দুস সালাম ও পুত্র সাজিদ হোসেন মেরিনকে গ্রেফতার করে থানায় নিয়ে আসে। 

আজ (সোমবার) দুপুরে তাদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হলে সেই মামলায় গ্রেফতার দেখিয়ে হামলাকারী পিতা-পুত্রকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। মতিহার থানার উপ-পরিদর্শক ও মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ইমাউল হক এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, রাজশাহী মহানগরীর ধরমপুর মধ্যপাড়া এলাকায় পৈতৃক জমিতে বসবাস করে আসছেন মামলার বাদির পরিবারের সদস্যরা। তাদের বাড়ির সামনে অভিযুক্তরা নতুন বাড়ি নির্মাণ করছিলেন। রোববার বিকালে রাস্তার কিছু অংশ দখল করে সীমানাপ্রাচীর নির্মাণের কাজ শুরু করলে তাতে বাধা দেন মামলার বাদি কনকের পরিবারের সদস্যরা। এ সময় অভিযুক্তদের সঙ্গে তাদের বাকবিতন্ডা শুরু হয়। এক পর্যায়ে অভিযুক্ত মেরিন ও তার পিতা সালাম দেশীয় অস্ত্র নিয়ে কনকের পরিবারের উপর হামলা চালায়। হামলা চলাকালে কনকের বড় ভাই কায়েসকে মেরিন হাতুড়ি দিয়ে তার মুখে আঘাত করে গুরুতর জখম করে। আঘাতের ফলে তার তিনটা দাঁত ভেঙে যায়। কায়েসকে মারধর করতে দেখে মামলার বাদি কনক, তার চাচাতো বোন আলো এবং চাচী রওশন আরা এগিয়ে আসলে হামলাকারিরা এলোপাথারি ভাবে ইট ছুড়তে শুরু করে। ফলে কায়েসের মাথায় ইটের আঘাত লেগে রক্তাত্ত জখম হয় ও তার পকেটে থাকা স্মার্ট ফোনটি ভেঙে যায়। হামলাকারী সালাম ইট দিয়ে কনকের পিতা আবুল কালাম আজাদের শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত করে। ইটের আঘাতে কনকের মা নাসিমা বেগমের কপালে, কায়েসের স্ত্রী মিতুর মাথায় ও বীথির বাম হাতের কবজিসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতপ্রাপ্ত হন। হামলা চলাকালে মেরিনের মা মিরা কনকের মায়ের গলায় থাকা এক ভরি স্বর্নের চেন ও কানের দুল চুরি করে নেয়। এ সময় এলাকাবাসী এগিয়ে আসলে ঘটনাস্থল থেকে কনকের বড় ভাই, বাবা, মা ও ভাবিকে ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার করে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বিভিন্ন ওয়ার্ডে ভর্তি করে।

এ ঘটনায় আজ সোমবার সকালে ভুক্তভোগী পরিবারের ছোট ছেলে কনক বাদি হয়ে হামলাকারী মেরিন, তার পিতা আব্দুস সালাম ও মা মিরার নামে একটি মামলা দায়ের করে। এ মামলায় গ্রেফতার দেখিয়ে আসামী মেরিন ও আব্দুস সালামকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। 

এ বিষয়ে মতিহার থানার উপ-পরিদর্শক ও মামলা তদন্তকারী কর্মকর্তা ইমাউল হক জানান, হামলার ঘটনায় দায়েরকৃত মামলায় গ্রেফতার দেখিয়ে আদালতের মাধ্যমে পিতা-পুত্রকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। বর্তমানে মামলাটি তদন্তধীন রয়েছে। মেরিনের মা পলাতক থাকায় তাকে গ্রেফতার করা সম্ভব হয়নি।