৪ কার্তিক, ১৪৩৩
১৯ অক্টোবর, ২০২৬

রাজশাহীতে স্কুল ছাত্রের লাশ উদ্ধার, আসামির বাড়িতে আগুন

Admin Published: April 8, 2025, 11:22 pm
রাজশাহীতে স্কুল ছাত্রের লাশ উদ্ধার, আসামির বাড়িতে আগুন

স্টাফ রিপোর্টার : নিখোঁজের ১৬ দিন পর নবম শ্রেণির এক ছাত্রের গলিত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার (৮ এপ্রিল) বিকেলে রাজশাহী মহানগরীর তালপুকুর এলাকা থেকে মরদেহটি উদ্ধার করে পুলিশ। এরপর সন্ধ্যায় এই হত্যাকাণ্ডের সন্দেহাভাজন মূলহোতা ও আসামি পাপ্পুর বাড়িতে আগুন দেয় বিক্ষুব্ধ জনতা। নিহতের নাম রেজওয়ান ইসলাম (১৬)। সে মহানগরীর ২ নম্বর ওয়ার্ডের ঠাকুরমারা এলাকার লিলি সিনেমা হল মোড়ের বাবুল ইসলামের ছেলে এবং স্থানীয় একটি স্কুলের নবম শ্রেণির ছাত্র।


পুলিশ স্কুলছাত্র রেজওয়ান হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় জড়িত সন্দেহে পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করেছে। গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন- ওই এলাকার মো. পাপ্পু (২২) ও তার ভাই পিয়াস (২০) এবং পবার হরিপুর গ্রামের রাসেল (৪০), মানিক (২২) ও রিপন (২৪)।


পুলিশ জানিয়েছে, নিহত স্কুলছাত্র রেজওয়ানের বাবা বাবুল পেশায় একজন ব্যাটারিচালিত অটোরিকশাচালক। গত ২৩ মার্চ দুপুরে বাবার সেই অটোরিকশাটি নিয়ে বাড়ি থেকে বের হয়ে যায় রেজওয়ান। স্কুল বন্ধ থাকায় বাড়ির কেউই তাকে বাধা দেয়নি। কিন্তু ওই অটোরিকশা নিয়ে বের হওয়ার পর নিখোঁজ হয় রেজওয়ান। 


পরে ওই দিন রাতেই তার পরিবারের সদস্যরা জানতে পারেন যে, সন্ধ্যায় স্থানীয় পাপ্পুর সঙ্গে রেজওয়ানকে ইফতার করতে দেখা গেছে। তাই সন্দেহেভাজন হিসেবে পরদিন এ ঘটনায় অভিযুক্ত করে পাপ্পুকে ধরে থানায় সোপর্দ করা হয়।


এরপর জিজ্ঞাসাবাদ শেষে পাপ্পুর শ্বশুরবাড়ি থেকে সেই অটোরিকশাটি উদ্ধার করা হয়। কিন্তু নিখোঁজ রেজওয়ানজে পাওয়া যাচ্ছিল না। 


তাই এ ঘটনায় তার বাবার করা মামলার মূল আসামি পাপ্পুকে সোমবার (৭ এপ্রিল) রিমান্ডে নেয় পুলিশ। প্রথম দিনই মুখ খোলে পাপ্পু।


তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে মঙ্গলবার (৮ এপ্রিল) বিকেলে ওই এলাকার একটি নির্মাণাধীন টিনশেড বাড়ি থেকে রেজওয়ানের গলিত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। পরে ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহটি রাজশাহী মেডিকেল কলেজের মর্গে পাঠানো হয়।


এদিকে আসামিদের বরাত দিয়ে পুলিশ আরও জানায়, প্রথমে রেজওয়ানকে কোমলপানীয়ের সঙ্গে ঘুমের ওষুধ মিশিয়ে পান করানো হয়।


এরপর সে অচেতন হলে সেই অবস্থায় তাকে তালপুকুর এলাকার নির্মাণাধীন একটি ঘরে নিয়ে গিয়ে গলায় দড়ি পেঁচিয়ে তার মৃত্যু নিশ্চিত করা হয়। এরপরে তার মরদেহটি ওই ঘরের ভেতরে ঝুলিয়ে রেখে দেওয়া হয়। আজ ওই নির্মাণাধীন বাড়ির একটি ঘর থেকে রেজওয়ানের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এরপর মঙ্গলবার সন্ধ্যায় স্কুলছাত্র রেজওয়ান হত্যাকাণ্ডের মূল হোতা পাপ্পুর বাড়িটি আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দেয় বিক্ষুব্ধ জনতা।


রাজশাহীর দামকুড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রবিউল ইসলাম জানান, এই ঘটনায় দায়েরকৃত মামলায় এখন পর্যন্ত মোট পাঁচকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গত ২৪ মার্চ নিহতের বাবা মামলার এজাহার দেন। এরপর মূল হোতা পাপ্পুর দেওয়া তথ্যানুযায়ী পুলিশ আজ নিহতের মরদেহ উদ্ধার করেছে। জিজ্ঞাসাবাদে পাওয়া তথ্যানুযায়ী মূলত অটোরিকশার ব্যাটারির চুরির জন্যই এমন নৃশংস হত্যাকাণ্ড সংঘটিত করা হয়েছে। 


আর আসামিরা পরস্পর পরিচিত এবং ওই একই এলাকার। তাই তাদের চিনে ফেলায় ধরা পড়ার ভয়ে রেজওয়ানের কাছে থাকা অটোরিকশার ব্যাটারি চুরির পর তাকে হত্যা করা হয়েছে।


নিহত স্কুলছাত্র রেজওয়ানের মরদেহটি ময়নাতদন্তের পর পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে। এছাড়া এ ঘটনায় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে বলেও জানান এই পুলিশ কর্মকর্তা।