৪ কার্তিক, ১৪৩৩
১৯ অক্টোবর, ২০২৬

রাজশাহীতে ‘ভারতীয়’ বলে ২৪ গরু জব্দ, বিজিবির সামনে বিক্ষোভ

Admin Published: May 21, 2025, 6:47 pm
রাজশাহীতে ‘ভারতীয়’ বলে ২৪ গরু জব্দ, বিজিবির সামনে বিক্ষোভ

স্টাফ রিপোর্টার : রাজশাহীর বিভিন্ন সড়ক থেকে হাটে নেওয়ার সময় ‘ভারতীয়’ বলে ২৪টি গরু বিজিবি জব্দ করেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। বুধবার সকাল থেকে রাজশাহীর বিভিন্ন সড়ক থেকে গাড়িসহ গরুগুলো আটক করে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ-বিজিবি। 

তবে এসব গরুর মালিকরা বলছেন, গরুগুলো ‘দেশী’ এবং বাড়িতেই লালন-পালন করা। লাভের আশায় গরুগুলোকে খাইয়ে পালন করেছেন। অথচ বিজিবি গরুগুলো আটক করে শুল্ক বিভাগে জমা দিয়েছে। তারা বলছেন, জব্দ এই ২৪টি গরুর আনুমানিক দাম প্রায় ৬৫ লাখ টাকা।

এদিকে গরু আটকের প্রতিবাদে বুধবার দুপুরে রাজশাহী-নওগাঁ মহাসড়ক অবরোধ নগরীর শালবাগান এলাকায় বিজিবি-১ ব্যাটালিয়নের সদর দফতরের সামনে বিক্ষোভ করেন ভুক্তভোগী গরুর মালিক ও ব্যবসায়ীরা। এতে সড়কের দুইপাশে যানবাহন আটক পড়লে যানজটের সৃষ্টি হয়। পরে বিজিবি সদর দফতরে রাজশাহী সিটি হাটের ইজারাদার ও ব্যবসায়ীদের সঙ্গে বিজিবির সভা হয়। কিন্তু কোনো সমাধান হয়নি।

গরুর ব্যবসায়ী ও হাট ইজারাদাররা জানান, বুধবার সকালে রাজশাহীর পবা উপজেলার বাগধানী, বাগসারা ও দুয়ারী এলাকায় বিজিবি অভিযান চালিয়ে চার গাড়ি গরু জব্দ করে। মোট ২৪টি গরু আনা হয় বিজিবির সদর দফতরে। এই খবর পেয়ে ব্যবসায়ীরা দুপুরের দিকে জড়ো হন বিজিবির সদর দফতরের গেটে। তাদের সঙ্গে হাটের বিভিন্ন পর্যায়ের ইজারাদার ও অন্যান্য গরু ব্যবসায়ীরাও জড়ো হন। তারা সেখানে নানা স্লোগান দেন। পরে বিজিবির সদস্যরা তাদের রাস্তা ছেড়ে দিতে বলেন। একপর্যায়ে তারা রাস্তা ছেড়ে দেন।

গরু ব্যবসায়ী রবিউল ইসলাম বলেন, সকালে পবার দুয়ারী মোড় দিয়ে তানোর থেকে সিটি হাটের উদ্দেশে গরু আনছিলেন। তাদের গাড়িতে মোট আটটি গরু ছিল। গরুগুলো তারা তানোরের বিভিন্ন গ্রামের চাষীদের থেকে কিনেছেন। সেগুলো নিয়ে চলে এসেছে বিজিবি। এগুলো দেশিয় গরু, ভারতের না।

জেলার তানোর উপজেলার আমসু গ্রামের ভুক্তভোগী মো. মাহাবুল বলেন, ‘আমি বছর তিনেক আগে দুটি বাছুর কিনে বাড়িতে পালন-পালন করছিলাম। বাড়িতে অনেক পরিশ্রম ও খাবার খাইয়ে বড় করে ষাড় দুটি রাজশাহী সিটি হাটে বিক্রির জন্য নিয়ে আসছিলাম।’ বুধবার সকালে বায়া মোড়ে পৌঁছালে গরু দুটি বিজিবি আটক করে তাদের কার্যালয়ে নিয়ে আসে। এসময় আমার মোবাইল ফোন কেড়ে নিয়ে বিজিবি মারধর করে। আমার পোষা গরু, অথচ বিজিবি বলছে এগুলো নাকি ভারতীয় গরু। 

একই উপজেলার কাশিম বাজার এলাকার ভুক্তভোগী সিদ্দিক বলেন, ‘আমি ৮টি গরু বিক্রির জন্য হাটে নিয়ে আসছিলাম। পথে তেঘোর এলাকায় আসলে বিজিবি আমাদের গাড়ি আটকায়। কোন কিছু না বলেই আমাদের মোবাইল কেড়ে নিয়ে মারধর শুরু করে। একপর্যায়ে আমার গাড়ির ড্রাইভারকে জোরপূর্বক গাড়ি নিয়ে বিজিবি অফিসে আসতে বলে। পিছনে পিছনে বিজিবি কার্যালয়ে আসলে তারা বলে গরুগুলো কাস্টমস অফিসে জমা দেয়া হয়েছে। এই ৮টি গরুর মধ্যে ৬টি ছোট থেকে লালন করে বড় করেছি। দুটি গরু কিনেছিলাম। এখন বিজিবি বলছে, এগুলো নাকি ভারতীয় গরু। গরু ফেরৎ না দিলে এখানেই আত্মহত্যা করবো। 

মাহাবুল ও সিদ্দিকের মত প্রায় ৮-১০ জনের গরু এভাবে বিজিবি আটক করে কাস্টমস অফিসে জমা দিয়েছে বলে অন্য ভুক্তভোগীরাও বলেন। গরুর মালিক সিদ্দিক বলেন, আমরা কাস্টমস অফিসে এসে কর্মকর্তাদের সাথে বলছি। তারা বলছে, বিজিবি ছাড়পত্র না দিলে তারা এগুলো ছাড়তে পারবে না।

এবিষয়ে জানতে বিজিবি-১ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লে. কর্নেল হাসিবুল হককে কল করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। তবে বিজিবির একটি সূত্র বলছে, এগুলো যে ভারতীয় গরু তাতে কোনো সন্দেহ নেই। ভারতীয় গরুর বিষয়ে সরকার জিরোটলারেন্স নীতি অবলম্বন করছে। বিজিবি সিটিহাটসহ অন্যান্য হাট ইজারাদারদের সঙ্গে কথা বলে ভারতীয় গরু হাটে না প্রবেশের অনুরোধ করেন। কিন্তু তারা নিজেরাই বিভিন্ন ইউনিয়ন পরিষদের সিল বানিয়ে ছাড়পত্র করে ভারতীয় গরু হাটে তোলার ব্যবস্থা করছে।