১ কার্তিক, ১৪৩৩
১৬ অক্টোবর, ২০২৬

রামেবি ভিসিকে অবরুদ্ধ করে পদত্যাগে বাধ্য করার অভিযোগ!

Admin Published: October 6, 2026, 5:35 pm
রামেবি ভিসিকে অবরুদ্ধ করে পদত্যাগে বাধ্য করার অভিযোগ!

স্টাফ রিপোর্টার: রাজশাহী মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (রামেবি) উপাচার্য অধ্যাপক ডা. মো. জাওয়াদুল হককে তাঁর কার্যালয়ে অবরুদ্ধ করে জোর করে পদত্যাগপত্রে স্বাক্ষর করানোর অভিযোগ উঠেছে। একই সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের অস্থায়ী কার্যালয়ে থাকা সিসিটিভি ক্যামেরার হার্ডডিস্ক খুলে নিয়ে যাওয়ারও অভিযোগ পাওয়া গেছে।মঙ্গলবার দুপুর ১২টার দিকে ‘রাজশাহী আপামর ছাত্র-জনতা’র ব্যানারে ২০ থেকে ২৫ জনের একটি দল মিছিল নিয়ে রামেবির অস্থায়ী কার্যালয়ে প্রবেশ করে। পরে তারা উপাচার্যের কক্ষে গিয়ে তাকে অবরুদ্ধ করে বলে অভিযোগ রয়েছে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, কার্যালয়ে প্রবেশের পর ওই ব্যক্তিরা উপাচার্যকে বিভিন্ন ধরনের হুমকি ও চাপ প্রয়োগ করেন। একপর্যায়ে তাঁকে একটি পদত্যাগপত্রে স্বাক্ষর করতে বাধ্য করা হয়। পদত্যাগপত্রে স্বাক্ষরের প্রায় পাঁচ মিনিট পর উপাচার্য কার্যালয় থেকে বের হয়ে মোটরসাইকেলে করে চলে যান। এ সময় তাকে ভীত ও সন্ত্রস্ত অবস্থায় দেখা যায় বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান।

‘রামেবির উপাচার্য’ রাষ্ট্রপতির কার্যালয়ের এবং স্বাস্থ্য শিক্ষা ও পরিবার কল্যাণ বিভাগের সচিব বরাবর পদত্যাগপত্র দিয়েছেন। পদত্যাগপত্রে উল্লেখ করা হয়, ‘২০২৪ সালের ১০ সেপ্টেম্বর থেকে আমি রামেবির উপাচার্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছি। বর্তমানে পারিবারিক ও ব্যক্তিগত কারণে আমার পক্ষে উপাচার্যের দায়িত্ব পালন করা সম্ভব হচ্ছে না। বিধায় ৬ অক্টোবর থেকে আমি পদত্যাগ করলাম।’

রামেবির সেকশন অফিসার ও উপাচার্যের ব্যক্তিগত সহকারী নাজমুল হোসাইনও চাকরি থেকে অব্যাহতি নিয়েছেন। একই সময় রামেবির রেজিস্ট্রার বরাবর আবেদনে তিনিও পারিবারিক ও ব্যক্তিগত কারণ দেখিয়েছেন।

ঘটনার সময় উপাচার্যের ব্যক্তিগত সহকারী নাজমুল হোসাইনকেও মারধর ও লাঞ্ছিত করার অভিযোগ উঠেছে। তাঁকেও পদত্যাগপত্রে স্বাক্ষর করতে বাধ্য করা হয়েছে বলে দাবি করা হয়। এ ঘটনায় রামেবির অস্থায়ী কার্যালয়ে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। পরে অতিরিক্ত পুলিশ এসে কার্যালয়ে অবস্থান নেয়।

রামেবি উপাচার্যের ব্যক্তিগত সহকারী নাজমুল হোসাইন বলেন, উপাচার্যকে জোর করে পদত্যাগে বাধ্য করার পর কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে আতঙ্ক ও নিরাপত্তাহীনতা তৈরি হয়েছে। তাকেও শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করা হয়েছে। কার্যালয়ে থাকা সিসিটিভি ক্যামেরার হার্ডডিস্ক খুলে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। এতে বিশ্ববিদ্যালয়ের গুরুত্বপূর্ণ নিরাপত্তাসংক্রান্ত তথ্য ও ভিডিও ফুটেজও চলে গেছে।

তিনি জানান, এ ঘটনায় এখনও কোনো মামলা বা আইনগত সহায়তা চাওয়া হয়নি, তবে মন্ত্রণালয়ে জানানো হয়েছে, সেখান থেকে সিদ্ধান্ত এলে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

ঘটনার বিষয়ে বক্তব্য জানতে রামেবি উপাচার্য অধ্যাপক ডা. মো. জাওয়াদুল হকের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁর বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

রাজশাহী মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-রেজিস্ট্রার মো. মোফাকখারুল ইসলাম বলেন, ‘কিছু লোক অত্যন্ত উগ্র আচরণ ও অশালীন ভাষা ব্যবহার করে কার্যালয়ে প্রবেশ করে। তারা ভিসির কাছে গিয়ে তাঁর হাত থেকে মোবাইল ফোন কেড়ে নেয় এবং ল্যাপটপটি টেনে নিয়ে যায়। এরপর দলটি একটি পদত্যাগপত্র বের করে এবং ভিসিকে সেটি পড়ার সুযোগ না দিয়েই স্বাক্ষর করতে বাধ্য করে।’

তিনি বলেন, ‘তারা বলছিল, আগে আপনি কাগজে স্বাক্ষর করুন। ভিসি যখন জানতে চান- কাগজটি কী এবং সেটি দেখতে চান, তখন তারা তাঁকে বলে যে ‘এটি দেখার প্রয়োজন নেই’ এবং স্বাক্ষর করার নির্দেশ দেয়।’

এর আগে অধ্যাপক ডা. মো. জাওয়াদুল হকের বিরুদ্ধে ঘুষ, দুর্নীতি, অনিয়ম, অর্থ আত্মসাৎ, স্বজনপ্রীতি ও রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ তুলে বিভিন্ন মহল থেকে তাঁর পদত্যাগের দাবি জানানো হয়ে আসছিল। এসব অভিযোগ নিয়ে বিভিন্ন সময় আলোচনা-সমালোচনাও হয়েছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে উপাচার্যের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।

চলতি বছরের আগস্টেও বিভিন্ন ব্যানারে তার পদত্যাগের দাবিতে কর্মসূচি পালন করা হয়। এর আগে ২০২৪ সালে চার বছরের মেয়াদে রাজশাহী মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ পান অধ্যাপক ডা. মো. জাওয়াদুল হক। সে হিসাবে তাঁর নির্ধারিত মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই মঙ্গলবার তাঁকে পদত্যাগপত্রে স্বাক্ষর করতে বাধ্য করার অভিযোগ উঠল।