২ কার্তিক, ১৪৩৩
১৭ অক্টোবর, ২০২৬

সাংবাদিক ছোটন সরদারকে হেনস্তার প্রতিবাদে রাজশাহীতে মানববন্ধন

Admin Published: August 20, 2026, 1:44 pm
সাংবাদিক ছোটন সরদারকে হেনস্তার প্রতিবাদে রাজশাহীতে মানববন্ধন

স্টাফ রিপোর্টার: রাজশাহীর তানোরে তথ্য সংগ্রহ করতে গিয়ে সাংবাদিককে বাধা, হেনস্তা, প্রায় দুই ঘণ্টা অবরুদ্ধ করে রাখা এবং মুঠোফোন কেড়ে নিয়ে ছবি-ভিডিও স্থানান্তর ও কিছু ফুটেজ মুছে দেওয়ার অভিযোগের প্রতিবাদে রাজশাহীতে মানববন্ধন ও প্রতিবাদ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়েছে।বৃহস্পতিবার ২০ আগস্ট সকাল ১০ টায় নগরের সাহেববাজার জিরোপয়েন্টে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। ‘আন্তঃপ্রজন্মভিত্তিক এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক নারী আন্দোলন শক্তিশালী করি’—এই কর্মসূচীর আয়োজন করে। এতে সাংবাদিক, মানবাধিকারকর্মী, নারী অধিকারকর্মীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন।


আন্তঃপ্রজন্মভিত্তিক এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক নারী আন্দোলন শক্তিশালী করি সংগঠনের মেন্টর প্রমিলা কিস্কুর সভাপতিত্বে বক্তব্য রাখেন, জাতীয় আদিবাসী পরিষদের সাধারণ সম্পাদক বিমল চন্দ্র রাজোয়াড়, জনকণ্ঠের ফটো সাংবাদিক সেলিম জাহাঙ্গীর, রাজশাহী কোয়ালিশন টিমের সদস্য এ্যাডভোকেট শামসুন্নাহার মুক্তি,রাজকুমার শাও,সম্রাট রায়হান,সুইটি ইয়াসমিন,জুলফিকার আলী হায়দার প্রমুখ। 


মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, পেশাগত দায়িত্ব পালনের সময় সাংবাদিক ছোটন সরদারকে বাধা দেওয়া, শারীরিক ও মানসিকভাবে হেনস্তা করা, জোরপূর্বক অপপ্রচারমূলক ভিডিও ধারণ এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তা ছড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগ অত্যন্ত উদ্বেগজনক। এ ধরনের ঘটনা স্বাধীন সাংবাদিকতা ও সাংবাদিকদের নিরাপত্তার জন্য হুমকি।


বক্তারা বলেন, গত ১৭ আগস্ট তানোর উপজেলার কালীগঞ্জ মেডিকেল মোড়সংলগ্ন একটি আদিবাসী পাড়ায় মাদককে কেন্দ্র করে মারামারির ঘটনার তথ্য সংগ্রহ করতে গিয়ে বিজয় বাংলা নিউজের রিপোর্টার ছোটন সরদার হেনস্তার শিকার হন। সেখানে তাকে প্রায় দুই ঘণ্টা তাঁকে অবরুদ্ধ করে রাখা হয়। এ সময় তাঁর মুঠোফোন কেড়ে নিয়ে ছবি ও ভিডিও অন্যদের মুঠোফোনে স্থানান্তর করা হয় এবং সংগৃহীত কিছু ফুটেজ মুছে দেওয়া হয়।


ছোটন সরদার, ওই ঘটনার তথ্য পেয়ে তিনি ঘটনাস্থলে গিয়ে তথ্য, ছবি ও ভিডিও সংগ্রহ করছিলেন। এ সময় কয়েকজন ব্যক্তি তাঁর সাংবাদিকতার পরিচয় নিয়ে প্রশ্ন তোলেন এবং তাঁকে ‘ভুয়া সাংবাদিক’ হিসেবে আখ্যা দেওয়ার চেষ্টা করেন। পরিচয়পত্র দেখানোর পরও তাঁকে তথ্য সংগ্রহ থেকে বিরত থাকতে চাপ দেওয়া হয়।


অভিযোগ রয়েছে, একপর্যায়ে তাঁকে দিয়ে একটি ভিডিওতে স্বীকারোক্তিমূলক বক্তব্য দেওয়ানো হয়। সেখানে সবার সঙ্গে কথা না বলে এবং স্থানীয় ‘মাদকবিরোধী কমিটিকে’ না জানিয়ে তথ্য সংগ্রহ করতে আসা তাঁর ভুল হয়েছে—এমন বক্তব্য দিতে ও ক্ষমা চাইতে তাঁকে বাধ্য করা হয়। ভয়ভীতি, হুমকি ও শারীরিকভাবে হেনস্তার পরিস্থিতি তৈরি করে তাঁকে এ বক্তব্য দিতে বাধ্য করা হয়েছিল। 


মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, ছোটন সরদার শুধু একজন সাংবাদিক নন, তিনি একজন অধিকার ও উন্নয়নকর্মী। দেশের ও জনগণের স্বার্থে সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানকে নিজের মেধা ও শ্রম দিয়ে সহযোগিতা করে আসছেন তিনি। নারীর ক্ষমতায়ন, নারীর প্রতি সহিংসতা প্রতিরোধ এবং নারী আন্দোলনকে এগিয়ে নিতে বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ ও বহ্নিশিখার সঙ্গে সক্রিয়ভাবে কাজ করেছেন।


বক্তারা আরও বলেন, ‘আন্তঃপ্রজন্মভিত্তিক এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক নারী আন্দোলন শক্তিশালী করি’ প্রকল্পে ছোটন সরদার রাজশাহী বিভাগীয় কোয়ালিশন টিমের অন্যতম সদস্য। একই সঙ্গে সমতলের আদিবাসী জনগোষ্ঠীর বৃহৎ সংগঠন জাতীয় আদিবাসী পরিষদের রাজশাহী মহানগর কমিটির সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন তিনি। সংগঠনের কেন্দ্রীয় পর্যায়েও তিনি দায়িত্ব পালন করছে। 


বক্তারা বলেন, কোনো ঘটনার তথ্য সংগ্রহ করা একজন সাংবাদিকের পেশাগত দায়িত্ব। সংবাদ একতরফা হয়েছে কি না, তা যাচাই ও সম্পাদনার বিষয় সংশ্লিষ্ট সংবাদমাধ্যমের। কিন্তু তথ্য সংগ্রহে বাধা দেওয়া, সাংবাদিকের মুঠোফোন কেড়ে নেওয়া, ছবি-ভিডিও মুছে দেওয়া এবং জোর করে স্বীকারোক্তিমূলক বক্তব্য দিতে বাধ্য করা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।


মানববন্ধন থেকে তানোরের ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত, জড়িত ব্যক্তিদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি এবং ভবিষ্যতে সাংবাদিকদের পেশাগত দায়িত্ব পালনে নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করে, সাংবাদিকদের  স্বাধীনভাবে তথ্য সংগ্রহের সুযোগ ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা রাষ্ট্র ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দায়িত্ব। সাংবাদিক নির্যাতন বা হেনস্তার কোনো ঘটনা যাতে আর না ঘটে, সে জন্য কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ারও দাবি জানান।