৪ কার্তিক, ১৪৩৩
১৯ অক্টোবর, ২০২৬
রাজশাহী অঞ্চলে পাটের বাম্পার ফলন

‘সোনালী আঁশে কৃষক হাসে’

Admin Published: August 8, 2025, 11:56 am
‘সোনালী আঁশে কৃষক হাসে’

স্টাফ রিপোর্টার : রাজশাহী অঞ্চলে এবার সোনালী আঁশ খ্যাত পাটের বাম্পার ফলন হয়েছে। শুরু থেকেই আহবাহওয়া অনুকুলে থাকায় এবং খাল-বিল জলাশয়ে উপযোগী পানি থাকায় পাট জাগের উপকৃত হয়েছে এ অঞ্চলের চাষিরা। তাই এবার এ অঞ্চলের পাটচাষিদের মুখে হাসি ফুটেছে। কৃষকরা বলছেন, সময় মতো কাটা ও জাগ দেওয়ার কারণে ভালো হয়েছে পাটের রং। ফলে ভালো দামও মিলছে বাজারে। বর্তমানে পাট কাটা, জাগ দেওয়া, শুকানো ও বাজারজাতে ব্যস্ত পাটচাষিরা। পাট জাগ দেওয়ার জন্য পর্যাপ্ত পানি পাওয়া গেছে। প্রচুর বৃষ্টিপাতের ফলে আগে থেকে পুকুর, খালে পানি জমে ছিল। ফলে জাগ (পচানো) দেওয়ার আলাদা খরচ সাশ্রয় হয়েছে তাদের।

রাজশাহী কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর জানায়, এ বছর রাজশাহী জেলায় বেড়েছে পাটের চাষ। গেল বছরের তুলনায় ২৯৮ হেক্টর বেশী জমিতে হয়েছে পাটের চাষ। চলতি বছরে জেলায় ১৭ হাজার ৩০৫ হেক্টর জমিতে পাটের চাষ হয়েছে। আর আগের বছর জেলায় ১৭ হাজার ৮৫ হেক্টর জমিতে পাটের চাষ হয়েছিল। চাষিরা ভালো দামে বাজারে বিক্রি করতে পারছেন।

জেলার মোহনপুর উপজেলার পাটচাষি জসিম উদ্দীন বলেন, এবছর পাটের জমি পর্যাপ্ত বৃষ্টির পানি পেয়েছে। অনেক জমিতে পানি জমে গেছে। অনেকেই জমি থেকে কেটে সেখানেই জাগ দিতে পেরেছেন। কেউ কেউ পুকুর বা ঢোবায় জাগ দিচ্ছেন। পাট রোদে শুকানোর পরে রঙটাও ভালো দেখাচ্ছে। বিগত বছরগুলোতে লালচে রং দেখা গেছে। কিন্তু এবছর লালচে রঙ কম। 

একই উপজেলায় অপর কৃষক হাজি আবদুর রফিক বলেন, বাজারে শুরতেই এবার পাটের দাম ভালো পাওয়া যাচ্ছে। দুর্গাপুরের বহরমপুর গ্রামের পাটচাষি রুবেল বলেন, এ বছর তিনি ১ বিঘা জমিতে পাট চাষ করেছেন। এক বিঘা জমি থেকে ১২ মণ পাট পাওয়া গেছে। গত বুধবার দুর্গাপুরের সিংগা হাটে দুই মণ পাট বিক্রি করেছেন তিনি ৩ হাজার ৮০০ টাকা মণ দরে। এমন দাম থাকলে আগামী বছর পাটের চাষ বাড়বে বলে আশা প্রকাশ করেন এ কৃষক।

তানোরের পাটচাষি রফিকুল আলম বলেন, কয়েক বছর পর এবার পাটের দাম রয়েছে। গত কয়েক বছর থেকে পাট চাষ করে শ্রমিকের খরচ উঠতো না। এ বছরে শুরুতেই পাট বিক্রি হচ্ছে ৩ হাজার ৮০০ টাকা মণ দরে। রাজশাহীর নওহাটার পাট ব্যবসায়ীরা জানান, আমরা রাজশাহীর বিভিন্ন হাট-বাজার থেকে পাট কিনে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে পাঠাই। বিগত বছরের চেয়ে এবছরে পাটের দাম বেশি। 

রাজশাহীর হাসান জুট ইন্ডাস্ট্রির মালিক হাসান আলী বলেন, রাজশাহীতে ৬টি জুট মিল রয়েছে। এই মিলগুলো মৌসুমে ৮ লাখ মণ পাট কেনে। এসব পাঠগুলো আমাদের রাজশাহী জেলার চাষিদের উৎপাদন করা। এ বছর পাটের দাম ভালো রয়েছে। 

রাজশাহী কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপ-পরিচালক উম্মে ছালমা বলেন, রাজশাহী জেলায় এ বছর ১৭ হাজার ৩০৫ হেক্টর জমিতে পাটের আবাদ হয়েছে। এ থেকে সম্ভাব্য উৎপাদন হবে ৪৭ হাজার ৪১৫ টন। গত বছরের তুলনায় আবাদ এবং উৎপাদন দুইটাই বেশি হবে। এ বছর পর্যাপ্ত বৃষ্টিপাত হওয়ায় পাট জাগ দিতে কোনো সমস্যা হচ্ছে না। দাম ও ভালো আছে। তিনি আশা প্রকাশ করে বলেন, এবছর পটাটে লাভবান হবেন কৃষকরা।