স্টাফ রিপোর্টার : ভাষার মাসে ‘অমর একুশে’র চেতনা ছড়িয়ে দিতে বিশাল ক্যানভাসে তাজা সূর্যমুখী ফুল দিয়ে ‘অমর ২১’ লিখে ফুটিয়ে তুললেন রাজশাহীর গোদাগাড়ী উপজেলার আধুনিক কৃষকের খ্যতি অর্জনকারী যুবক মনিরুজ্জামান।
বৃহস্পতিবার সকালে রাজশাহী সরকারি কলেজের শহীদ মিনারের সামনের বিশাল প্রান্তরে হাজারো তাজা সূর্যমুখী ফুলের সাহায্যে ‘অমর ২১’ ফুটিয়ে তোলা হয়। সকাল থেকে এ আয়োজনে কলেজে ব্যাপক সাড়া পড়ে যায়। কলেজের ছাত্র-ছাত্রীরা ছাড়াও বাইরে থেকে অনেকে ছুটে আসেন এ আয়োজন দেখতে। অনেকে সেলফি তুলেন সর্য্যমুখী ফুল দিয়ে গড়ে তোলা একুশের ক্যাসভাসের সঙ্গে।
সকাল থেকে বিশাল এলাকায় ‘অমর একুশে’ ফুল দিয়ে সাজিয়ে ও এঁকে ফুটিয়ে তোলেন দৈনিক জনকণ্ঠের রাজশাহীর আলোকচিত্রি ও চারুশিল্পী সেলিম জাহাঙ্গীর।
পরে রাজশাহীর ভাষাসৈনিক মোশারফ হোসেন আখুঞ্জি এ উদ্যোগের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন। এসময় তিনি বাহান্নর ভাষা শহিদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। এ সময় এ আয়োজনের উদ্যেক্তা কৃষক মনিরুজ্জমান ছাড়াও রাজশাহী সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর মো. জহুর আলী, উপাধক্ষ্য প্রফেসর মো. ইব্রাহিম আলী, সাংস্কৃতি ব্যক্তিত্ব ও সমাজকর্মী ওয়ালিউর রহমান বাবু প্রমুখ।
অতিথিরা এ উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, এমন আয়োজন ভাষা আন্দোলনের ইতিহাস ও চেতনা সম্পর্কে আরও গভীরভাবে জানার আগ্রহ প্রকাশ করবে তরুন প্রজন্ম। তাজা সূর্যমুখী ফুলের মাধ্যমে ‘অমর ২১' লেখার এই অভিনব উপস্থাপনা আমাদের মধ্যে একুশের চেতনা আরো জাগিয়ে তুলবে। এমন উদ্যোগ আমাদের প্রজন্মকে আরও আলোকিত করবে এবং ভাষা আন্দোলনের গুরুত্ব উপলব্ধি করতে সহায়তা করবে।
এ ক্যানভাস নির্মাণের উদ্যোক্তা কৃষক মনিরুজ্জামান জানান, তার দীর্ঘদিনের শখ ছিলো নিজের জমিতে সূর্যমুখী ফুল ফুটিয়ে সেই ফুল দিয়ে অমর একুশের চেতনা তরুন প্রজন্মের মধ্যে ছড়িয়ে দিতে। তাই দুইবিঘা জমিতে তিনি সূর্যমুখীর চাষ করেন। লক্ষ্য ছিলো অমর একুশে ফেব্রুয়ারির দিনে তিনি ফুল দিয়ে একুশের ক্যানভাস সাজাবেন। তবে তার হয়নি। কারণ একুশে ফেব্রুয়ারির মধ্যে তার জমিতে প্রাকৃতিক কারনে ফুল ফুটলেও সেগুলো প্রষ্ফুটিক হয় নি। এ কারণে ২৭ ফেব্রুয়ারি নির্ধারণ করা হয়।
কৃষক মনিরুজ্জামান জানান, তার দুইবিঘা জমিতে তিন হাজারের বেশী সূর্যমুখী ফুল ফুটেছে। এসব ফুল দিয়ে রাজশাহী কলেজে ফুটিয়ে তোলা হলো একুশের ক্যানভাস। তিনি বলেন, একুশের শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা-সম্মান জানানোর পাশাপাশি আজকের প্রজন্মের মধ্যে একুশের চেতনা ছড়িয়ে দিনেই তিনি এ আয়োজন করেন। হাজারো শিক্ষার্থী ও বিভিন্ন শেণী পেশার মানুষ এ আয়োজন দেখছেন এতেই তিনি খুশি বলে জানান কৃষক মনিরুজ্জামান।
প্রসঙ্গত, রাজশাহীর গোদাগাড়ী উপজেলার চৈতন্যপুর গ্রামের কৃষক মনিরুজ্জামান আধুনিক পদ্ধতিতে নানা ধরনের ফসল ফলিয়ে স্থানীয় ও জাতীয় পর্যায়ে খ্যতি অর্জন করেছেন। চাষাবাদের নিত্য নতুন পদ্ধতি রপ্ত করে এলাকায় তাক লাগিয়েছেন। জাতীয়ভাবে দুইবার পুরস্কারও পেয়েছেন তিনি।
তিনি জানান, সব চাষাবাদ তিনি করেন আধুনিক প্রযুক্তি কাজে লাগিয়ে। বর্তমানে তার নিজস্ব ১৯ বিঘা জমিতে ড্রাগন চাষাবাদ করছেন। পাশাপাশি একবিঘা জমিতে করছেন আঙ্গুর চাষ। অল্পদিনের মধ্যে গাছে আঙ্গুরের দেখা মিলবে। এছাড়া টমেটো চাষও করছেন আধুনিক পদ্ধতিতে।
বাণিজ্যিকভাবে সফল এ কৃষক জানান, এবার শুধু ভাষা শহীদদের শ্রদ্ধা জানানোর জন্য দুই বিঘা জমিতে তিন হাজারের বেশী ফুল ফুটিয়েছেন তিনি। এ ফুল দিয়ে রাজশাহী কলেজের প্রান্তরে নির্মাণ করা হলো একুশের ক্যানভাস।