৪ কার্তিক, ১৪৩৩
১৯ অক্টোবর, ২০২৬

তালন্দ কলেজে সভাপতি নিয়ে সৃষ্ট দ্বন্দ্বের অবসান চান শিক্ষকরা

Admin Published: May 21, 2025, 12:09 am
তালন্দ কলেজে সভাপতি নিয়ে সৃষ্ট দ্বন্দ্বের অবসান চান শিক্ষকরা

স্টাফ রিপোর্টার : রাজশাহীর তানোর উপজেলার তালন্দ ললিত মোহন ডিগ্রি কলেজের সভাপতি নিয়ে সৃষ্ট জটিলতার দ্রুত নিরসন চান এলাকাবাসী, শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা। তারা বলছেন সভাপতি নিয়ে দ্বন্দ্বের কারণে কলেজে পড়ালেখার পরিবেশ ব্যহত হচ্ছে। আটকে আছে দাফতরিক কাজকর্ম। কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষও কোনো সিদ্ধান্ত নিতে পারছেন না। ফলে কার্যত অচলাবস্থা বিরাজ করছে এ কলেজে। 

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, রাজশাহীর নিভৃত পল্লীতে গড়ে উঠা এ কলেজটির ঐহিত্যগত সুনাম রয়েছে। শিক্ষার মানোন্নয়নের কারনে বিগত বিএনপির আমলে জাতীয়ভাবে শ্রেষ্ঠ কলেজেরও স্বীকৃতি পায়। তবে আওয়ামী সরকারের সময়ে গভর্নিং বডির সভাপতির পদে থেকে শিক্ষক নিয়োগে বেপরোয়া বাণিজ্য করেছেন আওয়ামী লীগের নেতারা। 

আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর গতবছর কলেজের এডহক কমিটিতে আহ্বায়ক করা হয় কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ ও প্রতিষ্ঠাতা সেলিম উদ্দিন কবিরাজকে। তিনি অধ্যক্ষ থাকাকালীন অবকাঠামোগত উন্নয়নের পাশাপাশি শিক্ষার মানও বাড়িয়েছিলেন। তার অতীত অবদান বিবেচনায় স্থানীয়রা তাকেই এডহক কমিটির আহ্বায়ক হিসেবে মনোনয়ন দেন। পরে নিয়মিত গভর্নিং বডি গঠনের জন্য কলেজ কর্তৃপক্ষ সভাপতি পদে তিনজনের নাম প্রস্তাব করে। গত ১ ফেব্রুয়ারি জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে পাঠানো এই তালিকায় ছিলেন সেলিম উদ্দিন কবিরাজ, আইনুল হক ও দেওয়ান মো. মকসেদুর রহমান। কিন্তু এই তিনজনকে উপেক্ষা করে গত ২৬ ফেব্রুয়ারি জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ফনির উদ্দিন নামের একজনকে সভাপতি করে চিঠি পাঠানো হয়। এরপর থেকেই কলেজে সংকট শুরু।

তালিকাভুক্ত নয়-এমন একজনকে সভাপতি করায় কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ ড. মো. জসিম উদ্দীন মৃধা পরদিনই বিষয়টি পুনর্বিবেচনার জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের কাছে আবেদন করেন। এই আবেদনপত্রে কলেজের ৬৩ জন শিক্ষক স্বাক্ষর করেন। এরপর গত ১১ মার্চ গভর্নিং বডির সভা ডাকেন সভাপতি ফনির উদ্দিন। কিন্তু কলেজ কর্তৃপক্ষের তালিকার বাইরে থাকা সভাপতি হওয়ায় সদস্যরা তার বিরুদ্ধে অনাস্থা জানান এবং কেউ সভায় যোগ দেননি। ১৫ মার্চ বিষয়টি জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের কলেজ পরিদর্শককে চিঠি দিয়ে অবহিত করেন ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ। 

জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় এরপরও কোনো পদক্ষেপ নেয়নি। এরইমধ্যে ফনির উদ্দিন গত ২৭ মার্চ ও ৩ এপ্রিল আরও দুটি সভা ডাকলেও উপস্থিত হননি সদস্যরা। ফলে ৯ এপ্রিল অধ্যক্ষ জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের কাছে আবেদন করেন। পরিপ্রেক্ষিতে ২৯ এপ্রিল জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় সেলিম উদ্দিন কবিরাজকে সভাপতি হিসেবে মনোনয়ন দেয়। কিন্তু মাত্র ২৪ ঘণ্টার ব্যবধানে ৩০ এপ্রিল আবারও ফনির উদ্দিনকে সভাপতি করে চিঠি দেয় জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়। কলেজ কর্তৃপক্ষ এই চিঠি হাতে পায় ৪ মে। এ নিয়ে ই সৃষ্টি হয় জটিলতা। এখন তা চরম আকার ধারনে করেছে। কলেজের পরিবেশ বিঘ্নিত ঘটার পাশাপাশি দুই মেরুতে ভিভক্ত হয়ে পড়েছেন শিক্ষক-কর্মচারিরা।এ অবস্থায় তারা এখন এ সংকটের সুষ্ঠু সমাধান চান। নাম প্রকাশ না করার শর্তে একধিক শিক্ষক বলেন, সভাপতির দ্বন্দ্বে কলেজের ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন হচ্ছে। এর সমাধান হওয়া জরুরী। কলেজের সহকারী অধ্যাপক মোখলেসুর রহমান বলেন, সভাপতি পদ নিয়ে যা চলছে তা কলেজের ভাবমূর্তি নস্ট হচ্ছে। এ সংকট নিরসন হওয়া জরুরি। কলেজের গর্ভণিং বডির সদস্য হাবিবুর রহমান মিজান বলেন, বৈধ প্রক্রিয়ার কলেজের সৃষ্ট সংকটের সমাধান দরকার। তিনি বলেন, কলজের অনেক পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা যচ্ছে না। সবকিছু ঠিকঠাক হয়েছে এখন শুধু সভাপতি নিয়ে দ্বন্দ্বের অবসান হলেই কলজের শৃঙ্খলা  ফিরে আসবে।

কলেজের সাবেক সভাপতি সেলিম উদ্দিন কবিরাজ বলেন, আওয়ামী সরকারের সময়ে শিক্ষক নিয়োগসহ নানা অনিয়মে কলেজটি শেষ করে দেওয়া হয়েছিল। সরকার পতনের পর আমাকে আহ্বায়ক করা হলে কলেজটাকে আবারও গুছিয়ে তুলছিলাম। কিন্তু এখন কলেজের সাবেক শিক্ষক ফনির উদ্দিনকে সভাপতি বানানো হয়েছে। কিন্ত কলেজের অন্য সদস্যরা অনাস্থা দিয়েছেন। ফলে অচলাবস্থা সৃষ্টি হয়েছে। তিনিও এ সংকটের সমাধান চান। 

কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ ড. জসিম উদ্দীন মৃধা বলেন, সভাপতির পদ নিয়ে জটিলতার ফলে কলেজে অচলাবস্থা তৈরি হয়েছে। সভাপতি ফনির উদ্দীনের পরামর্শে পর পর তিনটি সভা আহ্বান করা হলেও সদস্যরা উপস্থিত হচ্ছে না। ফলে কলেজে স্বাভাবিক কার্যক্রম বিঘ্ন হচ্ছে। এটা জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের বিষয়, ওনারা কীভাবে সমাধান করবেন জানি না। এ বিষয়ে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিচালক ও সচিবসহ সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তারা ফোন রিসিভ করেন নি।