স্টাফ রিপোর্টার: নর্দার্ন ইলেকট্রিসিটি সাপ্লাই কোম্পানি (নেসকো) এর অতিরিক্ত বা ‘ভুতুড়ে’ বিদ্যুৎ বিল বাতিল, সঠিক বিল প্রণয়ন এবং গ্রাহক হয়রানি বন্ধের দাবিতে ব্যবস্থাপনা পরিচালকের কাছে স্মারকলিপি দিয়েছে রাজশাহী রক্ষা সংগ্রাম পরিষদ।রোববার (২৬ জুলাই) সকালে সংগঠনটির নেতারা এ স্মারকলিপি জমা দেন।
স্মারকলিপিতে অতিরিক্ত বিদ্যুৎ বিল পুনঃযাচাই করে ভুল বিল বাতিল ও সংশোধনসহ সাত দফা দাবি উত্থাপন করা হয়। একই সঙ্গে নেসকোর প্রধান কার্যালয় রাজশাহী থেকে বগুড়ায় স্থানান্তরের উদ্যোগেরও তীব্র প্রতিবাদ জানানো হয়। এ সময় নেসকোর ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রকৌশলী মশিউর রহমান দাবিগুলো বাস্তবায়নে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন।
এর আগে রাজশাহী রক্ষা সংগ্রাম পরিষদ ও বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা)-এর নেতাকর্মীরা রাজশাহী কলেজ শহীদ মিনারে সমবেত হয়ে মিছিলসহ নেসকো কার্যালয়ে যান। পরে তারা ব্যবস্থাপনা পরিচালকের কাছে স্মারকলিপি হস্তান্তর করেন। এ সময় রাজশাহী রক্ষা সংগ্রাম পরিষদের সাধারণ সম্পাদক মো. জামাত খান, বাপার সভাপতি প্রকৌশলী মাহমুদ হোসেন, সাধারণ সম্পাদক সেলিনা বেগম, রায়হান সম্রাট, প্রকৌশলী খাজা তারেক, জাহিদ হাসান, রাবেয়া খাতুন, শাহনাজ পারভীন সাগরি, রাশেদা বেগম, মো. আল আমিন, সাংবাদিক আফরোজা খান হেলেন ও ইউসুফ আলী চৌধুরীসহ অনেকে উপস্থিত ছিলেন।
স্মারকলিপিতে বলা হয়, গত কয়েক মাস ধরে বিপুলসংখ্যক গ্রাহক বাস্তব ব্যবহারের তুলনায় অস্বাভাবিক ও অতিরিক্ত বিদ্যুৎ বিল পাচ্ছেন। একই পরিমাণ বিদ্যুৎ ব্যবহার করেও অনেক ক্ষেত্রে আগের তুলনায় দ্বিগুণ থেকে তিনগুণ পর্যন্ত বিল আসছে, যা সাধারণ মানুষের ওপর বাড়তি আর্থিক চাপ সৃষ্টি করছে।
এতে আরও অভিযোগ করা হয়, বিলের অসঙ্গতি নিয়ে অভিযোগ জানাতে গিয়ে গ্রাহকদের দিনের পর দিন নেসকোর কার্যালয়ে ঘুরতে হচ্ছে। অনেক ক্ষেত্রে অভিযোগ গ্রহণে অনীহা, বিলম্ব এবং মিটারের সঠিক রিডিং না নিয়েই বিল প্রস্তুতের কারণে গ্রাহকদের ভোগান্তি বাড়ছে।
সাত দফা দাবির মধ্যে রয়েছে, ভুল ও অতিরিক্ত বিল বাতিল, প্রকৃত মিটার রিডিং নিশ্চিত করে বিল প্রস্তুত, ক্ষতিগ্রস্ত গ্রাহকদের বিল সমন্বয়, অভিযোগ নিষ্পত্তির জন্য বিশেষ সেল গঠন, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জবাবদিহি নিশ্চিত করা, আধুনিক বিলিং ব্যবস্থা চালু এবং অভিযোগ নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত বিতর্কিত বিলের কারণে কোনো গ্রাহকের সংযোগ বিচ্ছিন্ন না করা।
সংগঠনটির পক্ষ থেকে জানানো হয়, দ্রুত এসব দাবি বাস্তবায়ন না হলে গণস্বাক্ষর কর্মসূচি, মানববন্ধনসহ আরও কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে। পাশাপাশি নেসকোর কার্যালয় রাজশাহী থেকে অন্যত্র স্থানান্তরের চেষ্টা হলে বৃহত্তর আন্দোলন গড়ে তোলারও হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়।