স্টাফ রিপোর্টার : চাঁপাইনবাবগঞ্জে আবদুল আজিজ ওয়াক্ফ এস্টেটের (ইসি নং ১৩০৮) মুল্যবান প্রাচীন বৃক্ষ কেটে সাবাড় করার অভিযোগ উঠেছে দীর্ঘদিন ধরে দখলে রাখা মোতাওয়ালী গোলাম ফারুকের বিরুদ্ধে। এ বিষয়ে প্রতিকার চেয়ে রাজশাহী বিভাগীয় কমিশনারের মাধ্যমে সরকারের বন ও পরিবেশ উপদেষ্টা বরাবর স্মারকলিপি দিয়েছেন এলাকাবাসী। স্মারকলিপির অনুলিপি সংশ্লিস্ট বিভিন্ন দফতরেও পাঠানো হয়েছে।
বৃহস্পতিবার এলাকাবাসী ও এস্টেটের অংশিজন সাক্ষরিত স্মারকলিপিতে পরিবেশ উন্নয়ন ও বৃক্ষ রক্ষায় পদক্ষেপ গ্রহণ গ্রহনের দাবি জানানো হয়। একই সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে দখলে রাখা মোতাওয়ালী গোলাম ফারুকের অপসারণ দাবি করা হয়।
রাজশাহী বিভাগীয় কমিশনারের দফতরে দেওয়া স্মারকলিপিতে বলা হয়, মুকুলিত প্রাচীন আমগাছ, মেহগিনি ও বিপুল পরিমাণ শিশুগাছ কেটে ফেলা হয়েছে। ওয়াক্ফ এস্টেটের অংশিজনদের অভিযোগ মুতাওয়াল্লি গোলাম ফারুক এস্টেটের জমিতে স্থাপিত আমবাগানের লাখ লাখ টাকার গাছপালা কেটে বিক্রি করে দিয়েছেন।
গত একমাসের ব্যবধানে এস্টেটের ভেতরের অন্তত ১৩ টি আম গাছ, ১১ টি মেগগিনি ও ৮ টি শিশু গাছ কেটে বিক্রি করে দেওয়া হয়েছে। যার বর্তমান বাজার মূল্য আনুমানিক ৩০ লক্ষাধিক টাকা। গাছগুলো মরে যাচ্ছে এমন অজুহাতে কাটা হলেও অংশিজনরা বলছেন, মাত্রাতিরিক্ত ওষুধ প্রয়োগের মাধ্যমে কৌশলে ও পরিকল্পিতভাবে মেরে ফেলা হচ্ছে। পরে ওয়াকফ ও পরিবেশ আইন অমান্য করে কেটে বিক্রি করা হচ্ছে।
স্মারকলিপিতে উল্লেখ করা হয়, গত ১০ বছরের বেশী সময় ধরে অবৈধভাবে ওয়াকফ এস্টেট দখলে রেখে বিপুল গাছপালা বিক্রি করেছেন নিযুক্ত মোতাওয়াল্লী গোলাম ফারুক। তিনি পুরোপুরি বিধি উপেক্ষা করে মোতাওয়াল্লী নিযুক্ত হন। সরকারি চাকরিজীবী হয়েও গত ১০ বছরের বেশী সময় ধরে তিনি পদ কুক্ষিগত করে ওয়াকফ এস্টেস্টের সম্পতির ওপর রক্ষিত মূল্যবান গাছপালা কেটে বিক্রি করে তছরূপ করে চলেছেন।
সুবিধাভোগীরা জানান, অবৈধভবে মোতাওয়াল্লী নিযুক্ত হওয়ার পর থেকে এস্টেস্টের যাবতীয় পাওনা থেকে তাদের বঞ্চিত করা হয়েছে। এসব বিষয় সমাধান ও তার অপসারনের জন্য হাইকোর্টে মামলাও চলমান। তবে এরই মধ্যে এস্টেটের শত বছরের পুরনো দামি দামি গাছপালা কেটে তিনি বিক্রি করে সমুদয় অর্থ আত্মসাৎ করেছেন। এসবের প্রতিকার চেয়ে ওয়াকফ প্রশাসকের কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন ওই এস্টেটের সাবেক মোতাওয়াল্লী (বর্তমানে সুবিধাভোগী) মোহা. সেকেন্দার রহমান। তিনি ব্যাপকহারে বৃক্ষনিধন বন্ধে পরিবেশ উপদেস্টার হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। তিনি অভিযোগ করেন মুতাওয়াল্লি গোলাম ফারুক এস্টেটের জমিতে স্থাপিত আমবাগানের লাখ লাখ টাকার গাছপালা কেটে বিক্রি করে দিয়েছেন।
প্রসঙ্গত, চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলায় শত বছর আগে ১৯২৫ সালে ওয়াকিফ মরহুম আবদুল আজিজ চৌধুরী ৪৬৩ দশমিক ৬২ একের সম্পত্তি লিল্লাহে ওয়াকফ করেন। এরমধ্যে রয়েছে ধানী জমি, পুকুর, খাড়ি, বসতবাড়ি, আমবাগান ও মেহগনি বাগান। ওয়াকফ প্রতিষ্ঠার পর থেকেই ক্রমানুসারে মোতাওয়াল্লী নিযুক্ত হচ্ছিল। তবে সর্বশেষ ২০১৫ সালে নিয়ম বহির্ভূতভাবে মোতাওয়াল্লী নিযুক্ত হন গোলাম ফারুক। এরপর থেকেই ওয়াকফ এস্টেট নিয়ে শুরু হয় অস্থিরতা।