স্টাফ রিপোর্টার : আগামী নির্বাচন পুলিশের জন্য একটি বড় পরীক্ষা উল্লেখ করে বাংলাদেশ পুলিশের ইন্সপেক্টর জেনারেল (আইজিপি) বাহারুল আলম বলেছেন, আসছে নির্বাচনে নির্বাচন কমিশনই মূল দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠান, তবে আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় পুলিশের ভূমিকা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। তিনি বলেন, একটি সুষ্ঠু নির্বাচনের পেছনে সবচেয়ে বড় সহায়ক শক্তি হলো পুলিশ। তাই নির্বাচনকালীন পুলিশের আচরণ হতে হবে সম্পূর্ণ নিরপেক্ষ, ন্যায়নিষ্ঠ ও পেশাদার। কোনো রাজনৈতিক দল বা ব্যক্তির প্রতি আনুগত্য নয়, পুলিশের আনুগত্য থাকবে কেবল আইন ও দেশের প্রতি।
শনিবার রাতে রাজশাহীতে বিভিন্ন পদমর্যাদার পুলিশ সদস্যদের নিয়ে বিশেষ মতবিনিময় সভায় তিনি এ কথা বলেন। রাজশাহী পুলিশ লাইন্স ড্রিলশেডে রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশ (আরএমপি) ও রাজশাহী রেঞ্জ পুলিশের যৌথ আয়োজনে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়।
সভায় স্বাগত বক্তব্য রাখেন রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশের পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ আবু সুফিয়ান। শুভেচ্ছা বক্তব্য দেন রাজশাহী রেঞ্জের ডিআইজি মোহাম্মদ শাহজাহান এবং সভাপতিত্ব করেন রাজশাহী জেলার পুলিশ সুপার ফারজানা ইসলাম।
সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে আইজিপি বলেন আরো বলেন,
পুলিশের দায়িত্ব হচ্ছে আইন অনুযায়ী কাজ করা। কেউ যেন আগাম ধারণা করে বা কাউকে খুশি করার জন্য দায়িত্ব থেকে বিচ্যুত না হয়। একজন পুলিশ সদস্য হয়তো কাউকে ফেভার করলে তা হয়তো প্রকাশ পাবে না, কিন্তু একদিন নিজের বিবেকের কাছেই তাকে জবাব দিতে হবে।”
তিনি জোর দিয়ে বলেন, পুলিশের সবচেয়ে বড় শক্তি হলো ইন্টেগ্রিটি, সততা ও পেশাগত দায়িত্ববোধ। তিনি পুলিশ সদস্যদের উদ্দেশে বলেন, পুলিশের কাজ কঠিন। কখনো আসামি ধরতে গেলে বাধা আসে, হুমকি আসে, এমনকি আক্রমণের মুখেও পড়তে হয়। তবুও দায়িত্ব থেকে পিছু হটবেন না। পুলিশের ঐতিহ্য ও ত্যাগের কথা উল্লেখ করে আইজিপি বলেন, এই পুলিশ বাহিনী একদিনে গড়ে ওঠেনি। দেড়শ বছরের ঐতিহ্য, ত্যাগ ও নিষ্ঠার মধ্য দিয়ে এই প্রতিষ্ঠান আজকের অবস্থানে এসেছে। ব্রিটিশ আমলে পুলিশ যেমন জীবনবাজি রেখে দায়িত্ব পালন করত, আজও সেই ধারাবাহিকতায় দেশের মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করছে।” তিনি আরো বলেন, ৫ আগস্টে পুলিশ কঠিন এক বাস্তবতার মধ্য দিয়ে গিয়েছিলো। ধাপে ধাপে সেই পরিস্থিতি অতিক্রম করে আজকের অবস্থানে এসেছে। যদিও এখনো কিছু দুর্বলতা রয়ে গেছে, তবুও একসময় সমালোচিত সেই পুলিশ বাহিনী আজ নতুনভাবে ঘুরে দাঁড়াচ্ছে।
আইজিপি বলেন, সমাজে পুলিশের প্রতি অনেক প্রত্যাশা রয়েছে, সমালোচনাও আছে। কিন্তু তারপরও পুলিশ দায়িত্ব থেকে সরে যায়নি, বসে থাকেনি এটাই পুলিশের শক্তি। তিনি জানান পেশাদার ভূমিকার কারণে অনেক স্থানে পুলিশ এসল্টের শিকার হয়েছে। পুলিশ এসল্টের মামলা দ্রুত নিষ্পত্তি করার জন্য নির্দেশা দিয়েছেন যাতে দ্রুত এসব মামলার বিচার সম্পন্ন করা যায়। তাহলে সমাজে পুলিশের প্রতি মানুষের আস্থা আরও বাড়বে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
আগামী নির্বাচন পুলিশের জন্য একটি বড় পরীক্ষা এবং একই সঙ্গে সুযোগও। অতীতের ভুল সংশোধন করে সততা, ন্যায় ও পেশাদারিত্বের মাধ্যমে জনগণের আস্থা অর্জন করতে হবে বলে তার বক্তব্যে তুলে ধরেন। তিনি বিশেষ মতবিনিময় সভায় অংশগ্রহণকারী সকল পুলিশ সদস্যদের আন্তরিক ধন্যবাদ জানিয়ে দোয়া প্রত্যাশা করে পুলিশকে সংকল্পবদ্ধ থাকার আহব্বান জানান। এর আগে তিনি বিভিন্ন পুলিশ সদস্যদের কল্যাণ, কর্মপরিবেশ উন্নয়ন এবং বিভিন্ন সমস্যার কথা শুনেন এবং তা সমাধানে আশ্বাস প্রদান করেন।
সভায় রাজশাহী রেঞ্জ, আরএমপি এবং রাজশাহী বিভাগে অবস্থিত পুলিশের সকল ইউনিটের বিভিন্ন পর্যায়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও পুলিশ সদস্যগণ উপস্থিত ছিলেন।