৯ ভাদ্র, ১৪৩৩
২৪ আগস্ট, ২০২৬

বাগমারায় দীঘির ইজারা নিয়ে মিথ্যাচার, বিএনপি নেতার ইমেজ ক্ষুন্নের পাঁয়তারা

Admin Published: November 20, 2024, 11:28 pm
বাগমারায় দীঘির ইজারা নিয়ে মিথ্যাচার,  বিএনপি নেতার ইমেজ ক্ষুন্নের পাঁয়তারা


স্টাফ রিপোর্টার : রাজশাহীর বাগমারার গোয়ালকান্দি ইউনিয়নের আলোচিত আন্দ্রিয়ার এলাকার একটি দীঘি ইজারা নিয়ে বিএনপি নেতাদের জড়িয়ে অপপ্রচার করা হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। শুধু তাই নয় দীঘি ইজারা নিয়ে বিএনপি নেতাদের ইমেজ ক্ষুন্ন করার পাঁয়তারা চলছে। একটি পক্ষ ঘোলাপানিতে মাছ শিকারের ধান্ধায় উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব কামাল হোসেনের ইমেজ নষ্ট করার অপচেষ্টা করা হয়েছে। বিএনপির স্থানীয় নেতারা বুধবার সন্ধ্যায় সাংবাদিক সম্মেলন করে এইসব অভিযোগ করেছেন।


সংবাদ সম্মেলনে দলের ভাবমুর্তি ক্ষুন্ন করে একটি প্রতারক চক্র নিজেদের জামায়াত ও বিএনপির নেতা পরিচয় দিয়ে অপপ্রচার চালিয়ে যাচ্ছেন বলে দাবি করা হয়। দলের মাড়িয়া ইউনিয়ন শাখার আমির জানিয়েছেন ওয়ার্ড জামায়াতের সাধারণ সম্পাদক পরিচয় দেওয়া গোলাম মোস্তফা  কোনো পদে নেই। গোলাম মোস্তফাকে ঢাকা থেকে আমদানি করে জামায়াত নেতা বানানো হয়েছে বলে জানান। 

সন্ধ্যায় বাগমারা প্রেসক্লাবে আয়োজিত সাংবাদিক সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে গোয়ালাকান্দি ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি জহুরুল ইসলাম খোকন বলেন, বিগত সময়ে প্রভাব খাটিয়ে আওয়ামী লীগের স্থানীয় নেতারা দুলালিপাড়া এলাকার ১৩ একর জমিসহ দীঘি দখল করে রেখেছিলেন। অথচ গত ২০১৪ সালে ওই দীঘিসহ জায়গাটি ইজারা নিয়েছিলেন গোয়ালকান্দি ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক মুনসুর রহমান। তাঁর ইজারা নেওয়া জায়গাটি দখলে রেখেছিলেন আওয়ামী লীগের নেতারা। এর মূলে রয়েছেন দখলদার আক্কাছ আলী ও আবদুর রউফ। তবে  আবদুর রউফ জানান, বিএনপির সদস্য সচিব কামাল হোসেন এর সঙ্গে জড়িত নন, তাঁর ইমেজ নষ্ট করার জন্য এমন করা হয়েছে। 

স্থানীয়রা জানান, রাজনৈতি পট পরিবর্তনের পর অবৈধ দখলদারেরা জায়গাটির দখল ছেড়ে দেন। এসময় পুকুরের নিয়ন্ত্রণ আগের ইজারাদারের নিয়ন্ত্রণে চলে আসে। বড় বিহানালী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান বিএনপি নেতা মাহমুদুর রহমান, জামায়াত নেতা গোলাম মোস্তফা পুকুরটি আওয়ামী লীগ নেতা আক্কাছ আলীর কাছ থেকে ইজারা দিয়েছেন বলে প্রচার করে স্থানীয় একটি চক্র তা দখলে গেলে গত ৪ নভেম্বর উভয় পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। এতে ১০ জন আহত হন। এই ঘটনায় পাল্টাপাল্টি মামলারও ঘটনা ঘটে। সেখানে আমাদেরকে জড়ানো হয়েছে উদ্দেশ্য প্রণোদিত ভাবে। 

সাংবাদিক সম্মেলনে বিএনপি নেতারা বলেন, বিএনপির উপজেলা শাখার সদস্য সচিবের সম্মানহানি করার জন্য এমন নাটক সাজানো হচ্ছে। দলের একাধিকজনকে জড়িয়ে তারা মিথ্যা তথ্য দিয়ে বিভ্রান্তিকর সংবাদ প্রকাশ করাইছে। সাংবাদিক সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন বাগমারা উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য ইউসুফ আলী, গোয়ালকান্দি ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আকরামুল ইসলাম, বিএনপি নেতা ইয়ামিন আলী, বকুল সরদার প্রমুখ।

উল্লেখ্য, গত মঙ্গলবার গোলাম মোস্তফা নিজেকে মাড়িয়া ইউনিয়ন জামায়াতের এক নম্বর ওয়ার্ডের সাধারণ সম্পাদক ও পুকুরের ইজারাদার পরিচয় দিয়ে সাংবাদিক সম্মেলন করেন। সেখানে অভিযোগ করেন, উপজেলা বিএনপির নেতাদের বিরুদ্ধে ১৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবির অভিযোগ করা হয়। উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব কামাল হোসেনের প্ররোচনাকারী হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছিল। 

এদিকে উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব কামাল হোসেন বুধবার তার ফেসবুক পেইজে একপি পোস্ট দিয়ে তাঁর অবস্থান পরিস্কার করেছেন। তিনি পোস্টে বলেন, ‘সততাই অমার একমাত্র শক্তি। আমার ক্লিন ইমেজকে যারা ক্ষুন্ন করার চেষ্টা করছেন, আল্লাহ যেন তাদের হেদায়েত দেন’।