৯ ভাদ্র, ১৪৩৩
২৪ আগস্ট, ২০২৬

বাগমারায় গোপনে সরকারি বই বিক্রির অভিযোগ, মাদ্রাসা অধ্যক্ষ শোকজড

Admin Published: December 24, 2025, 6:56 pm
বাগমারায় গোপনে সরকারি বই বিক্রির অভিযোগ, মাদ্রাসা অধ্যক্ষ শোকজড

স্টাফ রিপোর্টার : রাজশাহীর বাগমারায় মাদ্রাসার অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে গোপনে সরকারি বই বিক্রির চেষ্টার অভিযোগ পাওয়া গেছে। ভাঙড়ি ব্যবসায়ীর কাছে বই বিক্রির সময় স্থানীয় লোকজন তাকে আটক করলে ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসে। এ ঘটনায় উপজেলা প্রশাসন অভিযুক্ত অধ্যক্ষকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দিয়েছে। অভিযুক্ত অধ্যক্ষের নাম ফরিদুল ইসলাম। তিনি উপজেলার কুমারপুর আরজানিয়া আলিম মাদ্রাসার অধ্যক্ষ।

প্রত্যক্ষদর্শী ও মাদ্রাসা সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, বুধবার দুপুরের পর অধ্যক্ষ ফরিদুল ইসলাম কয়েক বস্তা পুরাতন বই মাদ্রাসা থেকে প্রায় পাঁচ কিলোমিটার দূরে দ্বীপপুর এলাকায় নিয়ে যান। সেখানে ভাঙড়ি ব্যবসায়ীর কাছে বই ও কিছু খাতাপত্র পাঁচ হাজার টাকায় বিক্রির চেষ্টা করেন। এ সময় স্থানীয় কয়েকজন বিষয়টি দেখে সরকারি বই কেন বিক্রি করা হচ্ছে জানতে চাইলে তিনি সন্তোষজনক জবাব দিতে পারেননি। পরে স্থানীয়রা মোবাইলে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে বিষয়টি অবহিত করেন।

খবর পেয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার নির্দেশে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা দফতরের একাডেমিক সুপারভাইজার ঘটনাস্থলে যান। তিনি বস্তাভর্তি বই বিক্রির চেষ্টার বিষয়টি নিশ্চিত হয়ে সেগুলো ফেরত নিয়ে যেতে নির্দেশ দেন।

মাদ্রাসার ব্যবস্থাপনা কমিটির সাবেক সভাপতি নুরতাজ হোসেন বলেন, সরকারি বই বিক্রির বিষয়ে তাঁদের কাছ থেকে কোনো ধরনের অনুমতি নেওয়া হয়নি। গোপনে পাঁচ কিলোমিটার দূরে এনে বই বিক্রির চেষ্টা করা হয়েছে। তিনি অভিযুক্ত অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান।

এ বিষয়ে অভিযুক্ত অধ্যক্ষ ফরিদুল ইসলাম বলেন, মাদ্রাসায় বই রাখার জায়গা না থাকায় পাঁচ হাজার টাকায় বিক্রির জন্য বইগুলো নিয়ে গিয়েছিলেন। তবে বাধার কারণে বিক্রি করতে পারেননি। অনুমতি ছাড়া বই বিক্রির চেষ্টা করা ঠিক হয়নি বলেও তিনি স্বীকার করেন।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাহবুবুল ইসলাম বলেন, বিষয়টি জানার পর তদন্তের জন্য একজন কর্মকর্তাকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

তদন্তকারী কর্মকর্তা উপজেলা একাডেমিক সুপারভাইজার ড. মুহাম্মদ আবদুল মুমীত বলেন, সরেজমিন তদন্তে বস্তাভর্তি পুরাতন বই বিক্রির অভিযোগের প্রমাণ পাওয়া গেছে। বইগুলো ২০২১ থেকে ২০২৪ সালের। অনেক বই ছেঁড়া হলেও প্রশাসন বা মাদ্রাসা পরিচালনা পর্ষদের অনুমতি ছাড়া এসব বই বিক্রি করার সুযোগ নেই। এ কারণে অধ্যক্ষকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে।