১১ ভাদ্র, ১৪৩৩
২৭ আগস্ট, ২০২৬

বেহাল দুর্গাপুর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, চিকিৎসক সংকটে মিলছেনা সেবা

Admin Published: December 30, 2024, 2:46 pm
বেহাল দুর্গাপুর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, চিকিৎসক সংকটে মিলছেনা সেবা

স্টাফ রিপোর্টার : দুর্ঘটনায় আহত হয়ে মাথা ফেটে যাওয়ায় চিকিৎসা নিতে এসেছেন ষাটোর্ধ এক বৃদ্ধ। তার মাথায় সেলাই করে দিচ্ছেন ওয়ার্ড বয়। মেডিকেল অ্যাসিসট্যান্টের বদলে ওয়ার্ড বয়ের সেলাইয়ের এমন ঘটনা রাজশাহীর দুর্গাপুর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের নিত্যদিনের। 

এ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে অদক্ষ এসব ‘স্পেশাল’ ওয়ার্ডবয় রোগীর ইনজেকশনসহ বিভিন্ন ধরনের চিকিৎসা দিয়ে থাকেন। এদের বিরুদ্ধে অভিযোগের শেষ নেই। তবুও তারা হাসপাতালে রয়েছেন। তবে এ উপজেলার বেশির ভাগ মানুষ কৃষক আর দিনমজুর। এসব মানুষ রোগে আক্রান্ত হলে তাদের একমাত্র ভরসা সরকারি হাসপাতাল। ভরসার সেই হাসপাতালে গিয়ে পাওয়া যাচ্ছে না সঠিক চিকিৎসা ও সরকারি ওষুধ। 

চিকিৎসকরা রোগ নির্ণয় করে অসহায় রোগীদের হাতে লিখে দিচ্ছেন বিভিন্ন কোম্পানির দামি ওষুধের কাগজ। যা কিনে খাওয়ার সক্ষমতা অনেকের নেই। ফলে সরকারি ওষুধ না পেয়ে রোগা শরীর নিয়ে অনেককে খালি হাতে ফিরে যেতে হচ্ছে। এমন অবস্থায় চলছে দুর্গাপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স।

শুধু তাই নয়, অভিযোগ উঠেছে, ডাক্তারদের নির্দিষ্ট চুক্তি ছাড়া লেখা হয় না ভালো কোনো কোম্পানীর ওষুধ। হাসপাতালে প্রতিদিন নাম মাত্র আল্ট্রাসনোগ্রাম সিরিয়াল নেয়া হয়। এরপরে পাঠানো হয় পাশের দুই বেসরকারি ক্লিনিকে। বিশেষ করে আবাসিক ডাক্তার মিল্টন কুমার কর্মঘন্টা শেষ হওয়ার পূর্বেই বসে থাকেন প্রাইভেট চেম্বারে। হাসপাতালের আবাসিক ডাক্তার (আরএমও) মিল্টন কুমারের সাথে যোগ হয়েছেন সদ্য যোগদানকৃত স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা (টিএইচও) ডা. রুহুল আমিন। এই দুই কর্মকর্তার যোগসাজসে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসা সেবা চলছে খুড়িয়ে। 

চিকিৎসা নিতে আসা রোগীরা জানান, টিকিট কেটে  হাসপাতালের ডাক্তারদের কাছে গিয়ে রোগের বিবরণ তুলে ধরলে হাতে চিরকুট লিখে দেন। হাসপাতালের ফার্মেসিতে মিলে না কোনো ওষুধ। পরে সব ওষুধ বাইরের দোকান থেকে কিনতে হয়। 

চর্মরোগী রুলি বেগম হাসপাতালে আসেন চিকিৎসা নিতে। তিনি বলেন, আমি দরিদ্র মানুষ হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য এসে আমাকে প্যারাসিটামল আর এন্টাসিড দিয়েছে। এগুলো নিয়ে কি করবো আমি। হাসপাতালে ভর্তি থাকা রোগীদের অভিযোগ, নোংরা বেডে শুয়ে থাকা আর প্যারাসিটামল, এন্টাসিড ছাড়া কিছুই মেলে না। অস্বাস্থ্যকর নোংরা টয়লেটের দুর্গন্ধে চিকিৎসা সেবা শেষ না হতেই স্বজনরা তাদের রোগীদের হাসপাতাল ছাড়তে বাধ্য হচ্ছেন। অনেক রোগী  উপায় না পেয়ে টয়লেটের দুর্গন্ধ সহ্য করে হাসপাতালের বেডে দিন পার করছেন। 

সরেজমিনে দেখা যায়, ৫০ শয্যার হাসপাতাল হলেও প্রয়োজনীয় সংখ্যক ডাক্তার ও রোগ নির্ণয় যন্ত্রপাতি না থাকায় জনসাধারণ এর সুফল পাচ্ছেনা। আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) মিল্টন কুমার জানান, কাটা-ফাটা সেলাইয়ের কাজটি ওয়ার্ড বয়ের নয়, কর্তব্যরত ডাক্তারদের। কিন্তু অনেক ওয়ার্ড বয় দীর্ঘদিন ধরে হাসপাতাল থেকে কাটা-ছেঁড়া সেলাই কাজে অভিজ্ঞতা অর্জন করায় রোগীর চাপ বেড়ে গেলে কখনও কখনও ওয়ার্ড বয় দিয়ে এসব কাজ করানো হয়। 

উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা (টিএইচও) ডা. রুহুল আমিন বলেন, আমি নতুন এসেছি। ওয়ার্ড বয়ের অভিজ্ঞতা থাকলে কাটা ছাড়া সেলাই দিতে পারে। তবে কে ট্রেন্ড সেটা আমার জানা নেই। তিনি বলেন, আমার ওষুধ কোম্পানির কারো সাথে চুক্তি নেই। জনবল সংকটের কারনে চিকিৎসা নিতে আসা রোগীদের কাঙ্খিত সেবা দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না বলে জানান তিনি।