৮ ভাদ্র, ১৪৩৩
২৩ আগস্ট, ২০২৬

বরেন্দ্রের গ্রামে ধান কাটার বর্ণিল আয়োজন

Admin Published: November 16, 2025, 11:46 pm
বরেন্দ্রের গ্রামে ধান কাটার বর্ণিল আয়োজন

স্টাফ রিপোর্টার : ‘হেমন্তে কাটা হবে ধান, আবার শূন্য গোলায়-জাগবে ফসলের বান’...। কবির এ বাক্যের পরিপূর্ণতা পেয়েছে রাজশাহীর বরেন্দ্র অঞ্চলের স্বর্ণালী মাঠে। অগ্রাহয়ণের প্রথম দিনে রবিবার এ অঞ্চলে ধান কাটার উৎসব শুরু হয়েছে। 

অগ্রহায়নের প্রথম বিকেলে বর্ণিল আয়োজনে ধান কাটার মধ্য দিয়ে নবান্ন শুরু হলো রাজশাহীর গোদাগাড়ী উপজেলার চৈতন্যপুরে। এ গ্রামের উদ্যেমী কৃষক মনিরুজ্জামানের মাঠে নৃত্য, গীত আর বাদ্যের তালে তালে নেচে গেয়ে ধান কাটার আয়োজন করা হয়।

রাজশাহী অঞ্চলে সকাল-সন্ধ্যায় এখন হালকা কুয়াশা। এরইমধ্যে শুরু হলো এবারের অগ্রাহায়ণের প্রথম দিন। দিনটি এলো কৃষকের আনন্দধারা হয়ে। মাঠের সোনালী পাকা ধানের ঢেউ যেন উঠে এলো কৃষকের উঠানে। কৃষকের এ আনন্দধারার উপলক্ষ-বাড়ির উঠানে নতুন ধানের মৌ মৌ গন্ধ। কৃষকের মনে তাই নতুন ধানের স্বপ্ন। জেলার গোদাগাড়ী ছাড়াও চারঘাট, তানোরসহ বিভিন্ন উপজেলায় অগ্রহায়নের শুরুর দিন থেকে শুরু হয়েছে ধান কাটা। 

তবে এদিন বিকেলে রাজশাহীর গোদাগাড়ী উপজেলার চৈতন্যপুরে আয়োজন করা হয় বর্ণিল উৎসবের। আদিবাসী নারীরা কাস্তে হাতে নতুন পোষাকে ধান কাটার প্রতিযোগীতায় নামে। সঙ্গে ঢাকের বাধ্য। স্থানীয় কৃষক মনিরুজ্জামান এ আয়োজনের উদ্যেক্তা। সাওতাল রমনী ও পুরুষদের ধান কাটার প্রতিযোগীতার মধ্য দিয়ে এ উৎসবের আনুষ্ঠিকতা শুরু হয়। 

বিকেলে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য প্রফেসর ফরিদ উদ্দীন খান নবান্নে ধান কাটা উৎসবের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন ঘোষণা করেন। এ সময় তিনি নিজেও কাস্তে হাতে মাঠে নামেন ধান কাটতে। সঙ্গে ছিলেন কৃষি বিভাগের কর্মকর্তা মোমিনুল ইসলাম ও কৃষি উদ্যেক্তারা। এছাড়া জাতীয় অদিবাসী পরিষদের নেতা বিমল চন্দ্র রাজোয়ার অংশ নেন। স্থানীয় সুধিজনদের নিয়ে সেখানে আয়োজন করা হয় নৃত্য, সঙ্গীতসহ নানা অনুষ্ঠানের। 

এর আগে চৈতন্যপুরের মাঠে বাংলার কৃষক বেশে ধান কাটার কাস্তে, মাথায় মাথইল, ঘাড়ে লাল গামছা বেঁধে ধানের জমিতে ধান কাটা ও মাড়াই করা হয়। এই সময় এক আনন্দঘন মুহুর্ত সৃষ্টি হয় মাঠজুড়ে। এই ভাবেই দিনটি পালন হলো গোদাগাড়ীর চৈতন্যপুরসহ জেলার অন্য উপজেলাতেও। 

হেমন্তের শুরুতেই এবার রাজশাহী অঞ্চলের বিভিন্ন এলাকায় আগাম ধান কাটা শুরু হলেও রবিবার অগ্রহায়নের শুরুর দিনটা অন্য আমেজ ছিলো মাঠে। এবার শুরু থেকে আবহাওয়া আমন চাষের উপযোগী ছিলো। তবে মাঝে একদিনের প্রবল বর্ষণে অনেকের ক্ষেতের ক্ষতি হয়। কৃষক হতাশায় পড়েন। তবে শেষমেষ বাম্পার আমনের ফলন এবারও আশা করছেন কৃষক ও কৃষি সংশ্লিষ্টরা।

রাজশাহী কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর সূত্র জানায়, বরেন্দ্রর চার জেলায় (রাজশাহী, নাটোর, নওগাঁ ও চাপাইনবাবগঞ্জ) পুরোদমে আমন কাটা-মাড়াই ও ঘরে তোলার কাজ শুরু হয়েছে। সবখানে শুধু ধান কাটার দৃশ্য। 

রাজশাহী কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপ-পরিচালক মোহাম্মদ নাসির উদ্দিন বলেন, এ বছর রাজশাহীতে ৮৩ হাজার ৫৫০ হেক্টের জমিতে আমন ধান চাষ হয়েছে। চলতি মৌসুমে ভালো ফলন হবে আশা করা হচ্ছে।