ডিএনএন ডেস্ক: লিটন কুমার দাসের দুর্দান্ত সেঞ্চুরিতে ভর করে সিলেট টেস্টের প্রথম ইনিংসে ২৭৮ রান সংগ্রহ করেছে বাংলাদেশ। ধ্বংসস্তূপের মধ্যে দাঁড়িয়ে জাতীয় দলের এই উইকেটকিপার ব্যাটসম্যান খেলেছেন দায়িত্বশীল এক ইনিংস।
শনিবার (১৬ মে) সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে সিরিজের দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে টস হেরে ব্যাট করতে নেমে শুরুতেই ধাক্কা খায় বাংলাদেশ। ইনিংসের দ্বিতীয় বলেই সাজঘরে ফেরেন ওপেনার মাহমুদুল হাসান জয়।
দলীয় ৪৪ রানে ফেরেন আরেক ওপেনার তানজিদ হাসান তামিম। অভিষেক টেস্টে ৩৪ বলে ২৬ রান করেন তিনি।
ঢাকা টেস্টের প্রথম ইনিংসে ৯১ রান করা সাবেক অধিনায়ক মুমিনুল হক সৌরভ এবার বড় ইনিংস খেলতে পারেননি। সবশেষ পাঁচ ইনিংসে ফিফটি করা এই ব্যাটসম্যান সিলেটে থামেন ২২ রানে।
অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্তও সুবিধা করতে পারেননি। ঢাকা টেস্টে সেঞ্চুরি ও ৮৭ রানের ইনিংস খেলা শান্ত এবার করেন ২৯ রান।
দলীয় ১০৫ রানে আউট হন মুশফিকুর রহিম। আগের টেস্টে ৭১ ও ২২ রান করা এই অভিজ্ঞ ব্যাটসম্যান সিলেটে করেন ২৩ রান।
এরপর ব্যাট করতে নেমেই ফিরে যান ওয়ানডে অধিনায়ক মেহেদি হাসান মিরাজ। ৬ বলে মাত্র ৪ রান করেন তিনি। সাম্প্রতিক সময়ে ব্যাট হাতে ছন্দে নেই এই অলরাউন্ডার। ঢাকা টেস্টের দুই ইনিংসে করেন ১০ ও ২৪ রান। নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে সর্বশেষ ওয়ানডে সিরিজেও তার ব্যাট হাসেনি। তিন ম্যাচে করেন ৬, ৮* ও ২২ রান।
১১৬ রানে ৬ উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে বাংলাদেশ। সেখান থেকে প্রতিরোধ গড়ে তোলেন লিটন কুমার দাস। সপ্তম উইকেটে তাইজুল ইসলামকে নিয়ে ৬০ রানের জুটি গড়েন তিনি। তাইজুল ৪০ বলে ১৬ রান করে আউট হন।
এরপর অষ্টম উইকেটে তাসকিন আহমেদের সঙ্গে ৩৮ রানের জুটি গড়েন লিটন। দলীয় ২১৪ রানে অষ্টম উইকেট পড়ার পর শরীফুল ইসলামের সঙ্গে নবম উইকেটে ৬৬ রানের গুরুত্বপূর্ণ জুটি গড়েন তিনি।
দলকে ৩০০ রানের কাছাকাছি পৌঁছে দিয়ে শেষ পর্যন্ত আউট হন লিটন। হাসান আলীর বাউন্সার খেলতে গিয়ে ক্যাচ দেন তিনি। তার আগে ১৫৯ বলে ১৬টি চার ও ২টি ছক্কায় ১২৬ রানের অসাধারণ ইনিংস খেলেন এই ডানহাতি ব্যাটসম্যান।
এটি লিটনের টেস্ট ক্যারিয়ারের ষষ্ঠ সেঞ্চুরি। ৫৪তম টেস্টে এই মাইলফলকে পৌঁছান তিনি। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে এটি তার ১১তম সেঞ্চুরি। ওয়ানডেতে তার রয়েছে ৫টি সেঞ্চুরি।
লিটন আউট হওয়ার পর আর কোনো রান যোগ করতে পারেনি বাংলাদেশ। নাহিদ রান ব্যাট করতে নেমেই আউট হলে ২৭৮ রানেই গুটিয়ে যায় স্বাগতিকরা।
বাংলাদেশের পক্ষে সর্বোচ্চ ১২৬ রান করেন লিটন দাস। এছাড়া নাজমুল হোসেন শান্ত ২৯ ও তানজিদ হাসান তামিম ২৬ রান করেন।
পাকিস্তানের হয়ে খুররম শাহজাদ নেন ৪ উইকেট। মোহাম্মদ আব্বাস শিকার করেন ৩টি উইকেট। আর হাসান আলি নেন ২ উইকেট।