মারুফ হাসান বিশাল : চারিদিকে যখন শারদীয় দুর্গোৎসবে মেতেছে সনাতন ধর্মাবলম্বীরা। তখন তপন দাস, টুলু রানী দম্পতির ঘরে নেই পূজার আনন্দ। শেষ বেলায় একে অপরকে সঙ্গে দিয়ে চলছে নিঃসন্তান দম্পত্তির জীবন। একে অপরকে সঙ্গ দেওয়াই তাদের বড় উৎসব বলে জানান তারা।
গত শুক্রবার (১১ অক্টোবর) বিকালে রাজশাহী জেলার পবা উপজেলার নওহাটা কলেজ গেটে সরেজমিনে দেখা মেলে এই দম্পতির। কলেজ গেটের নিচেই ছোট্ট একটি ভ্রাম্যমাণ দোকান নিয়ে বসেছেন তপন দাস। পেশায় মুচি তিনি। উৎসবের দিনেও দোকান খুলে বসে আছেন তপন দাস। খুব বেশি কাজকামও হচ্ছে না তার। সামনে রাখা বেঞ্চে বসে আছে স্ত্রী টুলু রানীও। ঘরে উৎসবের আয়োজন না থাকায় স্বামী তপন দাসকে সঙ্গ দিচ্ছেন স্ত্রী টুলু রানী। বসে বসে গল্প করছেন এ দম্পতি।
শারদীয় দুর্গোৎসবে টুলু রানীর পরনে একটি পুরনো শাড়ি। পূজাতে নতুন পোশাক কিনেছেন কিনা জানতে চেইলে তিনি বলেন, কিনেছি কিন্তু পড়িনি। পরে পূজা দেখতে যাওয়ার সময় পড়বো।
পূজাতে আনন্দ করছেন কেমন এমন প্রশ্নের জবাবে দাস বলেন, যার অর্থ-সম্পদ আছে তারা আনন্দ করে বেড়াচ্ছে। আমাদের অর্থ-সম্পদ নাই তাই বসে বসে কাজ করছি। দেখি পরে সময় পেলে পূজা দেখতে যাবো।
আর্থিক অভাব-অনটনে ঘরে উৎসবের আয়োজন নেই এই দম্পতির। পূজামণ্ডপের প্রতিমা দেখে আনন্দ করাই তাদের একমাত্র উপায়। তবে শেষ বয়সে এসে অভাব-অনটনে জীবনযাপন করলেও ভালোবাসার কমতি নেই তাদের। একে অপরকে সঙ্গ দেওয়াই তাদের বড় উৎসব বলে জানান তারা।